পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


शृंझलांझ স্বরেশ তাড়াতাড়ি কহিল, না, নতুন জায়গায় আমার ঘুমের কোন ক্রটি হয়নি—একপাশেই রাত কেটে গেছে । আচ্ছা মহিম, কেদারবাবু তার অসুখের খবর তোমাদের একেবারেই দিলেন না, এ কি আশ্চৰ্য্য ব্যাপার ভেবে দেখ দেখি ! মহিম একান্ত সহজভাবে কহিল, আশ্চৰ্য্য বৈ কি ! বলিয়াই একটুখানি হাসিয়া কহিল, হাত-মুখ ধুয়ে একটু বেড়াতে বের হবে না কি ? যাও ত একটু চটুপটু সেরে নাও ভাই, আমাকে আবার ঘণ্টা-খানেকের মধ্যেই বেরুতে হবে । এখনও আমার সকালের কাজ-কৰ্ম্মই সারা হয়নি। স্বরেশ তাহার পুস্তকের প্রতি মনোনিবেশ করিয়া কহিল, গল্পটা বেশ লাগচে– এটা শেষ করে ফেলি । তাই কর । আমি ঘণ্টা-দুইয়ের মধ্যেই ফিরে আসচি, বলিয়া মহিম উঠিয়া চলিয়া গেল । সে পিছন ফিরিবামাত্রই স্বরেশ চোখ তুলিয়া চাহিল। মনে হইল, কোন অদৃশ্ব হস্ত এক মূহূর্তের মধ্যে তাহার আগাগোড়া মুখখানার উপরে যেন এক পোছ লজ্জার কালি মাখাইয়া দিয়াছে । যে দ্বার দিয়া মহিম বাহির হইয়া গেল, সেই খোলা দরজার প্রতি নির্নিমেষে চাহিয়া সুরেশ কাঠের মত শক্ত হইয়া বসিল রহিল। কিন্তু ভিতরে ভিতরে তাহার অযাচিত জবাবদিহির সমস্ত নিষ্ফলত ক্রুদ্ধ অভিমানে তাহার সর্বাঙ্গে হল ফুটাইয়া দংশন করিতে লাগিল । দুই বন্ধুর কথোপকথন স্বারের অন্তরালে দাড়াইয়া অচলা কান পাতিয়া শুনিতেছিল । মহিম কাপড় ছাড়িবার জঙ্গ নিজের ঘরে ঢুকিবার অব্যবহিত পরেই সে কবাট ঠেলিয়া প্রবেশ করিল। মহিম মুখ তুলিয়া চাহিতেই অচলা স্বাভাবিক মৃদুকণ্ঠে জিজ্ঞাসা করিল, আমার বাবা কি তোমার কাছে এমন কিছু গুরুতর অপরাধ করেছেন ? অকস্মাৎ এরূপ প্রশ্নের তাৎপৰ্য্য বুঝিতে না পারিয়া মহিম জিজ্ঞাস্বমুখে নীরব রহিল । অচলা পুনরায় জিজ্ঞাসা করিল, আমার কথাটা বুঝি বুঝতে পারলে না ? মহিম কহিল, না, কথাগুলো প্রিয় না হলেও স্পষ্ট বটে। কিন্তু তার অর্থ বোঝা কঠিন। অন্ততঃ আমার পক্ষে বটে। অচলা অস্তরের ক্রোধ যথাশক্তি দমন করিয়া জবাব দিল, এ-কুটার কোনটাই তোমার কাছে কঠিন নয়, কিন্তু কঠিন হচ্ছে স্বীকার করা। স্বরেশবাবুকে যে কথা তুমি স্বছনে জানিয়ে এলে, সেই কথাটাই আমাকে জানাবার বোধ করি তোমার ౧కి