পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


श्रृंश्लाइ র্তাহার কণ্ঠস্বরে স্নেহের লেশমাত্র সম্পর্ক ছিল না—এ যেন সে অনধিকারীর উৎপাতকে তিরস্কার করিয়া দমন করিল। মিনিট দুই-তিন পরেই মহিম দুই হাতে দুটা বাক্স লইয়া এবং যদু প্রকাও একটা তোরঙ্গ মাথায় করিয়া উপস্থিত হইল। মহিম আচলার পায়ের কাছে রাখিয়া কছিল, তোমার গহনার বাক্সটা যেন কিছুতে হাতছাড়া করে না, আমরা বাইরের ঘরে যদি কিছু বাচাতে পারি, চেষ্টা করিগে । অচলার মুখ দিয়া কোন কথা বাহির হইল না। তাহার মুঠোর মধ্যে তখনো স্বরেশের কোচার খুট ধরা ছিল, তেমনি ধরা রহিল। মহিম পলকমাত্র সেদিকে দৃষ্টিপাত করিয়া যদুকে সঙ্গে লইয়া পুনরায় অদৃপ্ত হইয়া গেল । 3 а প্রভাতের প্রথম আলোকে স্বামীর মুখের প্রতি চোখ পড়িবামাত্রই অচলার বুকের ভিতরটা হাহা-রবে কাদিয়া উঠিল। চোখের জল আর সে কোনমতে সংবরণ করিতে পারিল না। এ কি হইয়াছে! মাথার চুল ধূলাতে, বালুতে, ভষ্মে রুক্ষ বিবর্ণ ; শীর্ণ বিরল মুখ অগ্ন্যস্তাপে ঝলসিয়া একটা রাত্রির মধ্যেই তাঁহার অমন মুন্দর স্বামীকে যেন বুড়া করিয়া দিয়া গিয়াছে। গ্রামের লোক চারিদিকে ঘুরিয়া ফিরিয়া কলরব করিতেছে! পিতল-কঁাসার বাসন-কোসন সে ত সমস্তই গিয়াছে দেখা যাইতেছে । তা যাক—কিন্তু শাল-দোশালা গহনাপত্র তাই বা আর কত ঐ একটিমাত্র তোরঙ্গে রক্ষা পাইয়াছে—এষ্ট লইয়া অত্যন্থ তীক্ষ সমালোচনা চলিতেছে । ইহাদেরই একটু দূরে নির্বাণোন্মুখ অগ্নিস্তুপের দিকে শন্তদৃষ্টিতে চাহিয়া মহিম চুপ করিয়া দাড়াইয়াছিল। সমস্তই শুনিতে পাইতেছিল, কিন্তু কৌতুহল নিবারণ করিবার মত মনের অবস্থা তাহার ছিল না। ও-পাড়ার ভিধু বাড়ুয্যে—অত্যন্ত গণ্যমান্ত ব্যক্তি—বাতের জন্য এ পর্য্যস্ত আসিয়া পৌছিতে পারেন নাই ; এখন লাঠিতে ভর দিয়া সদলবলে আগমন করিতেছেন দেখিয়া মহিম অগ্রসর হইয়া গেল । বঁড়িয্যেমশাই বহুপ্রকার বিলাপ করিয়া শেষে বলিলেন, মহিম, তোমার বাবা অনেকদিন স্বৰ্গীয় হয়েছেন বটে, কিন্তু তিনি আর আমি ভিন্ন ছিলাম না। আমরা দু'জনে হরিহর-আত্মা ছিলাম। . মহিম ঘাড় নাড়িয়া সবিনয়ে জানাইল যে, ইহাতে তাহার কোন সংশয় নাই। শুনিয়া তিনি কহিলেন যে, এই কাওটি যে ঘটিবে, তাহা তিনি পূৰ্ব্বারেই জানিতেন ! ???