পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ বটে, কিন্তু পীড়িত শয্যায় গিয়া নিজের জালনটি গ্রহণ করিতে জাদ সমস্ত সকালট তাহার কেমন যেন ভয় ভয় করিতে লাগিল । যাই যাই করিয়াও যাইতে মৃণালের দিন-দুই দেরি হইয়া গেল । মহিমের কাছে বিদায় লইতে গিয়া দেখিল, আজ সে পাশ ফিরিয়া অত্যন্ত অসময়ে ঘুমাইয়া পড়িয়াছে। যে বিদায় লইতে জাসিয়াছিল, সে এই মিথ্যা নিদ্রার হেতু নিশ্চিত অনুমান করিয়াও চুপি চুপি কহিল, ওঁকে আর জাগিয়ে কাজ নেই সেজদি । কি বল ? প্রত্যুত্তরে অচলার ঠোঁটের কোণে শুধু একটুখানি বাক হাসি দেখা দিল। মৃণাল মনে মনে বুঝিল, এ ছলনা সে ছাড়াও আরো একটি নারীর কাছে প্রকাশ পাইয়াছে। তাহার বিরুদ্ধে অচলা অন্তরের. মধ্যে যে গোপন ঈর্ষার ভাব পোষণ করে, তাহা সে মহিমের কাছে কোনদিন আভাসমাত্র না পাইয়াও জানিত। এই একান্ত অমূলক ৰেৰ তাহাকে কাটার মত বিধিত । কিন্তু তথাপি অচলা ষে নিজের হীনতা দিয়া আজিকার দিনেও ওই পীড়িত লোকটির পবিত্র দুর্বলতাটুকুকে বিকৃত করিয়া দেখিবে, তাহা সে ভাবে নাই। মুহূৰ্ত্তকালের নিমিত্ত তাহার মনটা জালা করিয়া উঠিল, কিন্তু তৎক্ষণাৎ আপনাকে সংবরণ করিয়া লইয়া কানে কানে কহিল, তুমি ত সব জান সেজদি, আমার হয়ে ওঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে । ব'লে ভাল হয়ে আবার যখন দেশে ফিরবেন, বেঁচে থাকি ত দেখা হবে । নীচে কেদারবাবু বসিয়াছিলেন। মৃণাল প্রণাম করিয়া দাড়াইতেই তাহার চোখের কোণে জল আসিয়া পড়িল ; এই অল্পকালের মধ্যেই সকলের মত তিনিও এই বিধবা মেয়েটিকে অতিশয় ভালবাসিয়াছিলেন । জামার হাতায় অশ্র মুছিয়া কহিলেন, মা, তোমার কল্যাণেই মহিমকে আমরা যমের মুখ থেকে ফিরে পেয়েছি। যখনি ইচ্ছে হবে, যখনই একটু বেড়াবার সাধ হবে, তোমার ছেলেটিকে ভুলো না মা । আমার বাড়ি তোমার জন্যে রাত্রি-দিন খোলা থাকবে মৃণাল । অচলা অদূরে চুপ করিয়া দাড়াইয়াছিল। মৃণাল তাহাকে দেখাইয়া হাসিমুখে কহিল, যমের বাপের সাধ্যি কি বাবা, ওঁর কাছ থেকে সেজদাকে নিয়ে যায়! যেদিন সেজদির হাতে পৌঁছে দিয়েচি, সেইদিনই আমার কাজ চুকে গেছে। কেদারবাবুর মুখের ভাব একটু গষ্ঠীর হইল, কিন্তু আর তিনি কিছু বলিলেন না। দুইজন বৃন্ধগোছের কর্মচারী ও একজন দাসী মৃণালকে দেশে পৌছাইয়া দিতে প্রস্তুত হইয়াছিল ; তাহাদের সকলকে লইয়া স্টেশনের অভিমুখে ঘোড়ার গাড়ি ফটকের বাহির হইয়া গেলে কেদারবাবুর অন্তরের ভিতর হইতে একটা দীর্ঘশ্বাস পড়িল। ধীরে ধীরে শুধু বলিলেন, অদ্ভুত, অপূৰ্ব্ব মেয়ে ! স্কুরেশের মনটাও বোধ করি এই ভাবেই পরিপূর্ণ হইয়াছিল। সে কোনদিকে $Sur