পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অচলা কছিল, ই । সে রাজি হবে ? তাই ত আমার বিশ্বাস । স্বরেশ একটুখানি মান হাসিয়া বলিল, আমার বিশ্বাস তা নয়। বইয়ে পড়েচ ত সহমরণের দিনে কোন কোন সতী হাসতে হাসতে পুড়ে মরত। মৃণাল তাদেরই জাত। এদের মুখের কথায় সম্মত করানো ত চের দূরের কথা, একটা একটা করে হাত-পা কাটতে থাকলেও একে আর একবার বিয়ে করতে রাজি করানো যাবে না । এ অসাধ্য-সাধনের চেষ্টা করে মাঝ থেকে আমাকে তার কাছে মাটি করে দিও না অচলা । আমাকে সে দাদা বলে ডেকেচে, তার কাছে আমি সন্মানটুকু বজায় রাখতে চাই । দেখিতে দেখিতে অচলার সমস্ত মুখ ক্রোধে কালো হইয়া উঠিল। স্বরেশের কথা শেষ হইতেই কঠিন মূহুকষ্ঠে বলিয়া উঠিল, সংসারে শুধু মৃণালই একমাত্র সতী নয় স্বরেশবাৰু। এমন সতীও আছে, যারা মনে মনেও একবার কাউকে স্বামিত্বে বরণ করলে, সহস্ৰ কোটি প্রলোভনেও আর তাদের নড়ানো যায় না। এদের কথা আপনি ছাপার বইয়ে পড়তে না পেলেও সত্যি বলে জেনে রাখবেন স্বরেশবাৰু! বলিয়া স্তম্ভিত অভিভূত স্বরেশের প্রতি দৃকপাতমাত্র না করিয়াই এই গৰ্ব্বিত রমণী দৃঢ়-পদক্ষেপে ঘর ছাড়িয়া বাহিরে গেল । ২৫ একজনের উচ্ছ্বসিত অকপট প্রশংসার মধ্যে যে আর একজনের কত বড় স্বকঠোর আঘাত ও অপমান লুকাইয়া থাকিতে পারে, বক্তা ও শ্রোতা উভয়ের কেহই বোধকরি তাহা মুহূৰ্ত্তকাল পূৰ্ব্বেও জানিত না । স্বরেশ হাতের বাটি হাতে লইয়া আড়ষ্ট হইয়া বসিয়া রহিল, এবং অচলা তাহার ঘরে ঢুকিয়া নিঃশব্দে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বালিশে মুখ গুজিয়া মর্শাস্তিক ক্রদনের দুৰ্নিবার বেগ রোধ করিতে লাগিল ; পাশেই মহিমের স্বয়, পাছে বিন্দুমাত্র শবও তাহার কানে গিয়া পৌঁছে। বস্তুত: অন্তৰ্বামী ভিন্ন সে কান্নার ইতিহাস আর দ্বিতীয় ব্যক্তি জানিল না । কিন্তু সে নিজে এই গভীর দুঃখের মধ্যে এক নূতন তত্ত্ব লাভ করিল। এই নারীজীবনের সতীত্ব যে কত বড় সম্পদ, এতদিন পরে তাহার পরিপূর্ণ মহিমা আজই প্রথম যেন তাহার চোখের সম্মুখে সম্পূর্ণ উদঘাটিত হইয়া দেখা দিল। লেদিন স্বরেশের সংস্পর্শে পিতার সদিক্ষ দৃষ্টিকে সে অষ্ঠায় উপদ্রব মনে করিয়া যৎপরোনাফি জুদ্ধ ও ব্যথিত হইয়াছিল, কিন্তু আজ অকস্মাৎ সেই ধর্থহীন পরীপুৰ স্বরেশকেই $0.