পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


शृश्नांझ् কোন উদ্দেশ পাওয়া গেল না। অথচ, এই বলিয়া প্রকাশ্বে কেহ জালোচনা করিতেও সাহস করিল না—ব্যাপারটা ভিতরে ভিতরে এমনিই যেন সকলকে কুষ্ঠিত করিয়া তুলিয়াছিল । কেদারবাৰু কস্তাকে একটু নিরালায় পাইয়া মাথায় হাত দিয়া স্নেহাৰ্দ্ৰকণ্ঠে কহিলেন, সতীলক্ষ্মী হও মা, মায়ের মত হওঁ। বুড়ে বয়সে না বুঝে অনেক মন্দ কথা বলেচি মা, রাগ করিসনে ; বলিয়। তাড়াতাড়ি সরিয়া গেলেন। মহিম গাড়িতে উঠিতে গিয়া অচলাকে একান্তে ক্ষুঃস্বরে চুপি চুপি কহিল, সে সত্যিই আমাদের সঙ্গে দেখা করলে না। একটা কথা তাকে বলবার জন্তে আমি ছুদিন পথ চেয়েছিলাম। পিতার বাক্যে তাহার চোখ দিয়া জল পড়িতেছিল সে কেবল ঘাড় নাড়িয়া জানাইল, না । দ্বারের অন্তরালে পিসিমা দাড়াইয়াছিলেন। অচলা প্রগাঢ় ভক্তিভরে তীহাকে প্ৰণাম করিয়া পদধূলি গ্রহণ করিতেই তিনি গদগদ-কণ্ঠে অসংখ্য আশীৰ্ব্বাদ করিয়া বলিলেন, হাতের নোয় অক্ষয় হোক মা, স্বামীকে নীরোগ করে শীগগির ফিরিয়ে এনে, এই প্রার্থনা করি । এই আমার সবচেয়ে বড় আশীৰ্ব্বাদ পিসিমা ! বলিয়া চোখের জল মুছিতে মুছতে সে গাড়িতে গিয়া বসিল। কথাটা কোরবারও কনে গেল। তিনি নিজে অমার্জনীয় সন্দেহের লজ্জায় যেন মরিয়া গেলেন। २१ হাওড়া স্টেশন হইতে পশ্চিমের গাড়ি ছাড়িতে মিনিট-শেক মাত্র বিলম্ব আছে । বাহিরে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, টিপি টিপি বৃষ্টির আর বিরাম নাই। লোকের পায়ে পায়ে জলে কাদায় সমস্ত প্লাটফর্ম ভরিয়া উঠিয়াছে—যাত্রীরা পিছল বাচাইয়া ভিড় ঠেলিয়া কোনমতে মোট-ঘাট লইয়া জায়গা খুজিয়া ফিরিতেছিল ; এমনি সময় অচলা চাহিয়৷ দেখিল, প্রকাও একটা ব্যাগ হাতে করিয়া সুরেশ আসিতেছে। বিস্ময়ে দুশ্চিন্তায় কেদারবাবুর মুখ অন্ধকার হইয়া উঠিল, সে কাছে আসিতে না-আপিতে তিনি চিৎকার করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ব্যাপার কি স্বরেশ ? তুমি কোথায় চলেচ ? জবাবটা স্বরেশ অচলাকে দিল। তাহারই মুখের প্রতি চাহিয়া শুদ্ধ হাসিয়া বলিল, না—তোমার উপদেশ এবং নিমন্ত্রণ কোনটাই অবহেলা করা চলে না 3 & 2.