পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


\○ স্বরেশের একদিকে গায়ে জোর ছিল যেমন অসাধারণ, অন্যদিকে অন্তরটা ছিল তেমনি কোমল, তেমনি স্নেহশীল । পরিচিত-অপরিচিত কাহারও কোন দুঃখ-কষ্টের কথা শুনিলে তাহার কান্না আসিত । সে ছেলেবেলায় কখনো একটা মশামাছি পর্য্যন্ত মারিতে পারিত না । জৈন মাড়ওয়ারীদের দেখাদেখি কতদিন সে পকেট-ভরিয়া স্বজি এবং চিনি লইয়া, স্কুল কামাই করিয়া, গাছতলায় গাছতলায় ঘুরিয়া পিপীলিকা ভোজন করাইয়াছে । জীবনে কতবার যে মাছ-মাংস ছাড়িয়াছে এবং ধরিয়াছে তাহার সংখ্যা নাই। যাহাকে ভালবাসিত, তাহার জন্য কি করিয়া যে কি করবে, তাহ ভাবিয়া পাইত না । স্কুলে মহিম ছিল ক্লাসের মধ্যে সকলের চেয়ে ভাল ছেলে, অথচ তাহার গায়ের জামাকাপড় ছেড়া-খোড়া, পাযের জত জীর্ণ পুরাতন, দেহটি শীর্ণ, মুখখানি স্নান—এই সব দেখিয়াই সে তাহার প্রতি প্রথম আকৃষ্ট হইয়াছিল এবং অত্যন্ত্রকালের মধ্যেই উভয়ের এই আকর্ষণ বন্যার জলের মত এমনি বাড়িয় ওঠে যে, সমস্ত বিদ্যালয়ের ছেলেদের তাহ একটা আলোচনার বিষয় হইয়া পড়ে । মহিম ছাত্রবৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি পাইয়া এই চারটি টাকা মাত্র সম্বল করিয়া কলিকাতায় আসে এবং স্বগ্রামস্থ একজন মুর্দীর দোকানে থাকিয়া স্কুলে ভৰ্ত্তি হয়। এই সময় হইতেই স্বরেশ অনেকপ্রকারে বন্ধুকে নিজের বাটতে অনিয়া রাখিবার চেষ্টা করে, কিছুতেই তাহাকে রাজি করাইতে পারে নাই ; এইখানে থাকিয়াই মহিম কোনদিন আধপেটা খাইয়া, কোনদিন উপবাস করিয়া এণ্টান্স পাস করে। ইহার পরের ঘটনা পূৰ্ব্বপরিচ্ছদে বর্ণিত হইয়াছে। সেই দিন হইতে সপ্তাহমধ্যে সুরেশ মহিমের দেখা না পাইয়া তাহার বাসায় আসিয়া উপস্থিত হইল। আজ কি একটা পৰ্ব্ব-উপলক্ষে স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল । বাসায় আসিয়া শুনিল, মহিম সেই যে সকালে বাহির হইয়াছে, এখনো ফিরে নাই । সে যে পটলডাঙ্গার কেদার মুখুয্যের বাটতেই ছুটির দিনটা কাটাইতে গিয়াছে, সুরেশের তাহাতে সংশয়মাত্র রহিল না । যে নির্লজ্জ বন্ধু তাহার আশৈশব সখ্যের সমস্ত মৰ্য্যাদা সামান্য একটা স্ত্রীলোকের মোহে বিসর্জন দিয়া সাতটা দিনও ধৈর্য্য ধরিতে পারিল না—ছুটিয়া গেল, মুহূর্তের মধ্যেই তাহার বিরুদ্ধে একটা বিদ্বেষের বহ্নি স্বরেশের বুকের মধ্যে আকস্মিক অগ্ন পাতের মত প্রজ্জ্বলিত হইয়া উঠিল। সে ক্ষণকাল বিচার না করিয়াই, গাড়িতে উঠিয়া সোজা পটলডাঙ্গার দিকে হাকাইতে কোচমানকে হুকুম করিয়া দিল এবং মনে মনে কহিতে লাগিল, ওরে বেহায়া ! ওরে অকৃতজ্ঞ ! তোর যে প্রাণটা আজ এই 切*