পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


शृंश्नांई জানিত, তথাপি এই অযাচিত যত্নটুকুর পরিবর্তে সেই স্নিগ্ধ খোচাটুকু না দিয়া যেন থাকিতে পারিল না। * স্কুরেশ মুখ টিপিয়া হাসিয়া চলিয়া যাইতেছিল, আচল ফিরিয়া ডাকিল। সে চাপ হাসির আভাসটুকু তখনও তাহার ওষ্ঠ্যধরে লাগিয়া ছিল। তাহার প্রতি দৃষ্টিপাতমাত্রই অচলা সহসা মুচকিয়া হাসিয়া ফেলিয়া লজ্জায় কুষ্ঠায় রাঙা হইয়া উঠিল । এই আরক্ত আভাসটুকু স্বরেশ দুই চক্ষু দিয়া যেন আকণ্ঠ পান করিয়া লইল । অচলা স্বামীর সংবাদের জন্য সুরেশকে ফিরিয়া ডাকিয়াছিল । তাহার কোন প্রকার ক্লেশ বা অন্ধবিধা হইতেছে কি-না, বা কিছু আবশ্বক আছে কি-না—একবার আসিতে পারেন কি-না, এইসকল একটি একটি করিয়া জানিয়া লইতে সে চাহিয়াছিল ; কিন্তু ইহার পরে এ-সম্বন্ধে আর একটি প্রশ্ন করিবারও তাহার শক্তি রছিল না। সে অসঙ্গত গাষ্ঠীৰ্য্যের সহিত শুধু জিজ্ঞাসা করিল, আমাদের ত এলাহাবাদে গাড়ি বদল করতে হবে ? কত রাত্রে সেখানে পৌছবে জানেন? একবার-জেনে এসে আমাকে বলে যেতে পারবেন ? আচ্ছা, বলিয়া স্বরেশ একটু আশ্চৰ্য্য হইয়াই চলিয়া গেল। অচলা ফিরিয়া আসিয়া দেখিল, সেই মেয়েটি তাহার জায়গা ছাড়িয়া দূরে গিয়া বসিয়াছে! আচল অন্তরের বিরক্তি গোপন করিতে না পারিয়া কহিল, আপনাদের বাড়িতে বুঝি কেউ চা-রুটি খায় না ? মেয়েটি সবিনয়ে হাসিয়া বলিল, হায় হায়, ও দৌরাত্ম্য থেকে বুঝি কোন বাড়ি নিস্তার পেয়েচে ভাবেন ? ও ত সবাই খায় । অচলা কহিল, তবে যে বড় ঘূণায় সরে বসলেন ? মেয়েটি লজ্জিত-স্বরে বলিল, না ভাই, ঘৃণায় নয়—পুরুষেরা ত সমস্ত খায়, তবে আমার শ্বশুর এ-সব পছন্দ করেন না, আর -আমাদের মেয়েমানুষের ত একদিন এমনি একটা খাওয়া-ছোয়ার ব্যাপার লইয়া মৃণালের সহিত তাহার বিচ্ছেদ ঘটিয়াছিল। সেদিনও সে যে-কারণে নিজেকে শাসন করিতে পারে নাই, আজও সে তেমনি একটা আন্তজালায় আত্ম-বিশ্বত হইয়া গেল, এবং মেয়েটির কথা শেষ না হইতেই রুক্ষশ্বরে বলিয়া উঠিল, আপনাকে বিব্রত করতে আমি চাইনে, আপনি স্বচ্ছন্দে ফিরে এসে আপনার জায়গায় বন্ধন ; বলিয়া চক্ষের নিমেষে চা এবং সমস্ত খাদ্যদ্রব্য জানাল দিয়া ছুড়িয়া ফেলিয়া দিল । মেয়েটি অনেকক্ষণ পৰ্য্যন্ত নিঃশব্দে বসিয়া আঁচল দিয়া চোখ মুছিতে লাগিল । বোধ করি, সে ইহাই ভাবিল, এতক্ষণের এত আলাপ, এত কথাবার্তার যে বিন্দুমাত্র মর্য্যদা রাখিল না, না-জামি সে এ অশ্রু দেখিয়া আবার কি একটা করিয়া বসিবে । কিছুক্ষণের জন্ত বৃষ্টি থামিলেও আকাশে যেন মেঘ উত্তরোত্তর জমা হইয়া উঠতে 》●●