পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গৃহদাই স্ত্রীলোকটাকে দিয়ে ধন্ত হয়েচিস ; সে প্রাণটা তোর থাকত কোথায় ? নিজের প্রাণ তুচ্ছ ক'রে দু'দুবার কে তোকে তা ফিরিয়ে দিয়েচে ? তার কি এতটুকু সম্মানও রাখতে নাই রে ! কেদার মুখুয্যের বাড়ির গলিটা স্বরেশের জানা ছিল, সামান্য দু-একটা জিজ্ঞাসাবাদের দ্বারা গাড়ি ঠিক জায়গায় আসিয়া উপস্থিত হইল। অবতরণ করিয়া সুরেশ বেয়ারাকে প্রশ্ন করিয়া সোজা উপরে বসিবার ঘরে আসিয়া প্রবেশ করিল। নীচে ঢালা বিছানার উপর একজন বৃদ্ধগোছের ভদ্রলোক তাকিয়া ঠেস দিয়া বসিয়া খবরের কাগজ পড়িতেছিলেন ; তিনি চাহিয়া দেখিলেন । সুরেশ নমস্কার করিয়া নিজের পরিচয় দিল—আমার নাম শ্রীস্করেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়—আমি মহিমের বাল্যবন্ধু । বৃদ্ধ প্রতি-নমস্কার করিয়া চশমাটি মুড়িয়া বলিলেন, বস্থন । সুরেশ আসন গ্রহণ করিয়া কহিল, মহিমের বাসায় এসে শুনলাম, সে এখানেই আছে ; তাই মনে করলাম, এই স্বযোগে মহাশয়ের সঙ্গেও একবার পরিচিত হয়ে যাই । বৃদ্ধ বললেন, আমার পরম সৌভাগ্য—আপনি এসেছেন। কিন্তু মহিমও এদিকে দশ-বারদিন আসেননি। আমরা আজ সকালে ভাবছিলুম, কি জানি, তিনি কেমন আছেন ? স্বত্বেশ মনে মনে একটু আশ্চৰ্য্য হইয়া কহিল, কিন্তু তার বাসার লোক যে বললে বৃদ্ধ কহিলেন, আর কোথাও গেছেন বোধ হয় । যা হোক, ভাল আছেন শুনে নিশ্চিন্ত হলেম । পথে আসিতে আসিতে সুরেশ যে সকল উদ্ধত সঙ্কল্প মনে মনে স্থির করিয়া রাখিয়াছিল, বৃদ্ধের সম্মুখে তাহাদের ঠিক রাখিতে পারিল না। র্তাহার শান্তমুখে ধীয়-মৃদু কথাগুলি তাহার ভিতরের উত্তাপ অনেক পরিমাণে শীতল করিয়া দিল । তথাপি সে নিজের কর্তব্যও বিস্তৃত হইল না । সে মনে মনে এই বলিয়া নিজেকে উত্তেজিত করিতে লাগিল যে, ইনি যত ভালই হোন, ব্রাহ্ম ত বটে ! স্বতরাং ইহার সমস্ত শিষ্টাচারই কৃত্রিম । ইহার এমনি করিয়াই নিৰ্ব্বেধ ভুলাইয়া নিজেদের কাজ আদায় করিয়া ল’ন । অতএব এই সমস্ত শিকারী প্রাণীদের সম্মুখে কোনমতেই আত্মবিস্তৃত হইয়া কাজ ভুলিলে চলিবে না—যেমন করিয়াই হোক, ইহাদের গ্রাস হইতে বন্ধুকে মুক্ত করিতে হইবে । সে কাজের কথা পাড়িল, কহিল, মহিম আমার ছেলেবেলার বন্ধু। এমন বন্ধু আমার আর নেই। যদি অনুমতি করেন, তার সম্বন্ধে আপনার সঙ্গে দু-একটা কথার আলোচনা করি । 3. الاس-۹