পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


श्रृंश्लोश् জানিয়া রাখিল ? আর যাহা সত্য, সে কি কোথাও কাহারে কাছেই আশ্রয় পাইল না ? আবার সেই মিথ্যাটা কি তাহার নিজের মুখ দিয়াই প্রচার হওয়ার এত প্রয়োজন ছিল ? অদৃষ্টের এত বড় বিড়ম্বন কাহার ভাগ্যে কবে ঘটিয়াছে ? স্বামীকে সে অনেক দুঃখেই পাইয়াছিল, কিন্তু সে সহিল না—তাহার চরম দুর্দশার বোঝা বহিয়া অকস্মাং একদিন সুরেশ গিয়া অভিসম্পাতের মত তাহাদের দেশের বাটীতে উপস্থিত হইল । তাহার সুখের নীড় দগ্ধ হইয়া গেল এবং সঙ্গে সঙ্গে তাহার ভাগ্যটাও সে পুড়িয়া ভস্মসাং হইয়া গিয়াছে, এ-কথা বুঝিতে আর যখন বাকী রহিল না, তখন আবার কেন তাহার পীড়িত স্বামীকে তাহারই ক্রোড়ের উপরে আনিয়া দেওয়া হইল ! যাহাকে সে একেবারে হারাইতে বসিয়াছিল, সেবার ভিতর দিয়া আবার তাহাকে সম্পূর্ণরূপে ফিরাইয়া দেওয়াই যদি বিধাতার সঙ্কল্প ছিল, তবে আজ কেন তাহার দুঃখ-দুর্দশা, লাঞ্ছনা-অপমানের আর কুল-কিনারা নাই ? .* ~ * অচলা দুই হাত জোড় করিয়া রুদ্ধস্বরে বলিতে লাগিল, জগদীশ্বর। রোগমুক্ত স্বামীর স্নেহশীৰ্ব্বাদে সকল অপরাধের প্রায়ুশ্চিত্ত নিঃশেষ হইয়াছে বলিয়া যদি একদিন আমাকে বিশ্বাস করিতে দিয়াছিলে, তবে এও বড় দুৰ্গতির মধ্যে আবার ঠেলিয়া দিলে কিসের জন্ত ? সে যে সঙ্কোচ মানে নাই, এত কাণ্ডের পরেও সুরেশকে সঙ্গে আসিতে নিমন্ত্রণ করিয়াছিল, জগতে এ অপরাধের আর ক্ষালন হুইবে না, কলঙ্কের এ দাগ আর মুছিবে না-কিন্তু অন্তর্যামী, আমার অদৃষ্টে তুমিও কি ভূল বুঝিলে ? এই বুকের ভিতরটায় চিরদিন কি রহিয়াছে, সে কি তোমার চোখেও ধরা পড়িল না । --- পিতার চিন্তা, স্বামীর চিন্তা সে যেন প্রাণপণ-বলে দুই হাত দিয়া ঠেলিয়া রাখিয়া দিত, আজও সে-সকল ভাবনাকে সে কাছে ঘেষিতে দিল না ; কিন্তু তাহার মৃণালের কথাগুলো মনে পড়িল, আর মনে পড়িল পিসিমাকে আসিবার কালে স্নেহাৰ্দ্ৰ করুণ-কণ্ঠে সতী-সাধ্বী বলিয়া তিনি যত আশীর্বাদ করিয়াছিলেন, সেই সব ! তাহার সম্বন্ধে আজ তাহদের মনোভাব কল্পনা করিতে গিয়া অকস্মাং মঞ্চাস্তিক আঘাতে কিছুক্ষণের জন্য সমস্ত বোধশক্তি তাহার যেন আচ্ছন্ন হইয়া গেল এবং দেহমনের সেই অশক্ত অভিভূত অবস্থায় জানালার গরাদের উপর মাথা রাখিয়া বোধ হয় অজ্ঞাতসারে চোখ দিয়া জল পড়িতেছিল, এমন সময় পিছনে মৃত্ন পদশব্দে চমকিয়া ফিরিয়া দেখিল, খালি-গায়ে খালি-পায়ে স্বরেশ দাড়াইয়া আছে। মুহূর্তের উত্তেজনায় হয়ত সে কিছু বলিতে গিয়াছিল, কিন্তু বাপোঞ্ছাসে তাহার কণ্ঠ-রোধ করিয়া দিল। ইহাকে দমন করিয়া কথা কহিতে বোধ হয় আর তাহার প্রবৃত্তি হইল না, তাই পর আগেই মু{ ফিরাইয়া লে তেমনি করিাই গরাদের উপর মাথা রাখিল ; কিন্তু ষে >b会· چه س-۹