পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গৃহদাহ কিছুক্ষণ পৰ্য্যন্ত আড়ষ্টভাবে সুরেশ সেইখানেই দাড়াইয়া রহিল, তার পরে নিঃশঙ্ক পদক্ষেপে নিজের ঘরে চলিয়া গেল । \OWS) দুই-একজন দাস-দাসী ব্যতীত দিন পাঁচ-ছয় হইল, বাটীর সকলেই কলিকাতায় চলিয়া গিয়াছেন। কেবল যাওয়া ঘটে নাই কৰ্ত্তার। কি একটা জরুরী কাজের অজুহাতে তিনি শেষ সময়ে পিছাইয়া গিয়াছিলেন। এ-কয়দিন রামচরণবাবু নিজের কাজ লইয়াই ব্যস্ত ছিলেন, বড় একটা তাহাকে দেখিতে পাওয়া যাইত না । হঠাৎ আজ প্রত্যুযেই তিনি সাড়া দিয়া উপরের বারাঙ্গায় আসিয়া উপস্থিত হইলেন এবং সুরমার নাম ধরিয়া ডাকিতে লাগিলেন। - * শীতের দিনের এমন প্রভাতে তখন পর্য্যস্ত কেহ শয্যাত্যাগ করিয়া উঠে নাই, আহান শুনি অচলা শশাস্তে দ্বার খুলিয়া বাহিরে জালিয়া দাড়াইল এবং ক্ষণেক পরেই স্বরেশও আর একটা দরজা খুলিয়া চোখ মুছিতে মুছিতে বাহির হইয়া আসিল । এই সন্তনিদ্রোখিত দম্পতিকে বিভিন্ন কক্ষ হইতে নিষ্ক্রাস্ত হইতে দেখিয়৷ এই বৃদ্ধের প্রসন্ন দৃষ্টি যে সহসা বিস্ময়ে সন্দিগ্ধ হইয় উঠিল, তাহা স্বরেশ দেখিতে পাইল না বটে, কিন্তু অচলার চক্ষে প্রচ্ছন্ন রহিল না। রামবাবু স্বরেশের দিকে চাহিয়া একটু অমুতাপের সহিত কহিলেন, তাই ত স্বরেশবাবু, হাক-ইকি ক’রে অসময়ে আপনার ঘুম ভাঙিয়ে দিলুম, বড় অন্যায় হয়ে গেল । স্বরেশ হাসিয়া বলিল, অন্যায় কিছুই নয়। তার কারণ আমি জেগেই ছিলুম, বাইরে থেকে ডেকে কেন, ঢাক পিটেও আমার ঘরের শাস্তিভঙ্গ করিতে পারতেন না। কিন্তু এত ভোরেই যে ? বৃদ্ধ অচলাকে উদ্বেগু করিয়া কহিলেন, আজ আমার স্বরম মায়ের ওপর একটু উপদ্রব করবার আবগুক হয়ে পড়েছে, বলিয়া একবার তাহার দিকে ফিরিয়া চাহিয়া হাসিমুখে বলিলেন, আমার ,পান্ধী প্রস্তুত, এখুনি বার হতে হবে, বোধ করি দুটোতিনটের আগে আর ফিরতে পারবো না , এই বুড়োটার জন্তে অাজ চারটি ডাল-ভাত ফুটিয়ে রেখে মা, অত বেলায় এলে যেন না আর আগুনে-তাতে যেতে হয়। এই পরম নিষ্ঠাবান নিরামিষাহাৰী ব্রাহ্মণ স্বী এবং পুত্রবধু ভিন্ন আর কাহারও হাতে কখনও জাহার করেন না। র্তাহার রান্নাথরটিও একেবারে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। እbዎፃ