পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ এইখানে একটু গোড়ার কথা প্রকাশ করিয়া বলা আবশ্বক। প্রায় মাস-খানেক হইল, কেদারবাবু আসিয়া উপস্থিত হইয়াছেন এবং সেই অবধি আর ফিরিতে পারেন নাই। মহিমের অমুখের সময় স্বরেশের কলিকাতার বাটীতে এই বিধবা মেয়েটির সহিত তিনি প্রথম পরিচিত হন, কিন্তু এখানে তাহার নিজের বাটতে আসিয়া যে পরিচয় ইহার পাইলেন, তাহাতে র্তাহার সমস্ত দেহ-মন যেন সোনার পৃথলে বাধা পড়িয়া গেল। এই বন্ধন হইতেই বৃদ্ধ কোনমতে আপনাকে মুক্ত করিতে পারিতেছিলেন না। অথচ অন্যত্র কত কাজই না তাহাৰ বাকী পড়িয়া আছে। মহিমের সহিত র্তাহার সাক্ষাং হয় নাই। র্তাহার আসার সংবাদ পাইয়াই সে ব্যস্ত হইয়া চলিয়া যায়। যাবার সময় মৃণাল ধরিয়া রাখিতে টানাটানি করে নাই, কারণ শিশুকাল হইতে সেজদার সংযম ও সহিষ্ণুতার প্রতি, বুদ্ধি-বিবেচনার প্রতি তাহার এত অগাধ বিশ্বাস ছিল যে, সে নিশ্চয় বুঝিয়াছিল, অচলার সহিত দেখা করা এখন উচিত নয় বলিয়াই কেবল মহিম এমন করিয়া পলায়ন করিতেছে। সে মনে করিয়াছিল, তাহার পত্র পাইয়া কেদারবাৰু কন্যা-জামাতার একটা মিট্‌মাটু করিয়া দিতে এরূপ তাড়াতাড়ি করিয়া তাহাকে সঙ্গে লইয়া আসিতেছেন। কিন্তু আসিলেন তিনি একাকী । আজও পরিষ্কার কিছুই হয় নাই, শুধু সংশয়ের বোঝায় উত্তরোত্তর ভারাক্রান্ত দিনগুলি একটির পর একটি করিয়া নীরবে বহিয়াছে। কেবল উপরের দিকে চাহিয়া একটু বুঝা গিয়াছে যে, আকাশে দুর্ভেদ্য মেঘের স্তর যদি কোনদিন কাটে ত কাটিতে পারে, কিন্তু তাহৱে পিছনে অন্ধকারই সঞ্চিত হইয়া আছে, চাদের জ্যোৎস্না নাই । স্বরেশের পিসিমা নিরুদ্দিষ্ট ভ্রাতুষ্পুত্রের জন্ত ব্যাকুল হইয়া মৃণালকে পত্র লিখিয়াছেন, সে পত্র কেদারবাবুর হাতে পড়িয়াছে। মহিম কোন একটা বড় জমিদারসরকারের গৃহশিক্ষকের কৰ্ম্ম লইয়াছে জানাইয়া ষে সংবাদ দিয়াছে, সে চিঠিখানিও তিনি বার বার পাঠ করিয়াছেন, কোথাও কোনও পক্ষ হইতে র্তাহার কন্যার উল্লেখমাত্র নাই, তথাপি চিঠি দুখানির প্রতি ছত্র, প্রত্যেক বর্ণ দুর্ভাগ্য পিতার কর্ণে কেবল একটা কথাই একশবার করিয়া বলিয়াছে যাহাকে সত্য বলিয়া উপলব্ধি করিবার মত শক্তিই তাহার নাই । অচলা শুধু যে র্তাহার একমাত্র সস্তান, তাই নয় শিশুকালে যখন তাহার মা মরে, তখন হইতে তিনিই জননীর স্থান অধিকার করিয়া বুকে করিয়া এই মেয়েটিকে মাছুষ করিয়া এতবড় করিয়া তুলিয়াছেন। সেই মেয়ের গভীর অকল্যাণের শঙ্কায় র্তাহার শরীর দিন দিন শীর্ণ এবং তপ্ত কাঞ্চনের স্কায় বর্ণ কালি হইয়া আসিতেছিল, অথচ অমঙ্গল যে পথ ইঙ্গিত করিতেছিল, সে পথ সকল পিতার পক্ষেই জগতে সৰ্ব্বাপেক্ষা অবরুদ্ধ । ২১ষ্ঠ