পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ আবার মৃণালের মুখ লঙ্গার রাঙা হইয়া উঠিল ; বলিল, এমন করে আমাকে যদি তুমি একশবার লঙ্গা দাও বাবা, তা হলে এমনি পালাব যে, কিছুতেই আর আমাকে খুজে পাবে না, তা কিন্তু আগে থেকে বলে রাখচি । বৃদ্ধ তৎক্ষণাং কোন কথা কহিলেন না, নিঃশব্দে মানমুখে তাহার মুখের পানে চাহিয়া রহিলেন । তার পরে ধীরে ধীরে বলিলেন, আমিও তোমাকে আজ বলে রাখছি মা, এই কাজটিই তোমাকে কিছুতে করতে দেব না। তুমি আমার চোখের মণি, তুমি আমার মা, তুমি আমার একমাত্র আশ্রয়। এই অনাথ অকৰ্ম্মণ্য বুড়োটার ভার থেকে ছুটি নেবার দিন যেদিন তোমার আসবে মা, সে হয়ত বেশি দূরে নয়, কিন্তু সে আমাকে চোখে দেখতে হবে না, তাও আমি বেশ জানি। বলিতে বলিতেই তাহার চোখের কোণে জল আসিয়া পড়িল । জামার হাতায় মুছিয়া ফেলিয়া কহিলেন, আমার একটা কাজ এখনো বাক্ষী রয়েচে, সেটা মহিমের সঙ্গে দেখা করা । কেন সে পালিয়ে বেড়াচ্চে, একবার স্পষ্ট করে তাকে জিজ্ঞাসা করতে চাই। এমনও ত হতে পারে সে বঁচে নেই ? কেন বাবা, তুমি ও-সব ভয় করচ ? ভয় । বৃদ্ধের মুখ দিয়া একটা দীর্ঘশ্বাস পড়িল, কহিলেন, সন্তানের মরণটাই বাপের কাছে সবচেয়ে বড় ময় মা । פ9\ একমাত্র কন্যার মৃত্যুর চেয়েও যে দুৰ্গতি পিতার চক্ষে বড় হইয়া উঠিয়াছে, তাহার আভাসমাত্রেই মৃণাল কুষ্ঠিত ও লজ্জিত হইয়া যখন নিঃশবে সরিয়া গেল, তখন এই সাধ্বী বিধবা মেয়েটির লজ্জাট যেন ঠিক একটা মুগুরের মত কেদারবাবুর বুকে আসিয়া পড়িল। অনেকক্ষণ পৰ্য্যস্ত একাকী চুপ করিয়া নিজের পাকা দাড়িতে হাত বুলাইলেন, তার পরে একটা দীর্ঘশ্বাস মোচন করিয়া ধীরে ধীরে তেলের বাটিটা টানিয়া লইলেন । আজ সকালবেলাটা বেশ পরিষ্কার ছিল, কিন্তু মধ্যাহের কিছু পর হইতেই মেঘলা করিয়া আসিতে লাগিল। কেদারবাৰু এইমাত্ৰ শয্যায় উঠিয়া বসিয়া পশ্চিমের জানালাটা খুলিয়া দিয়া বাহিরে চাহিয়াছিলেন, সম্মুখে একটা পুম্পিত পেয়ারা-গাছ ফুলে ফুলে একেবারে ছাইয়া গিয়াছে এবং তাহার উপরে অসংখ্য মৌমাছির আনন্দ-কলরবের আর অভ নাই। অদূরে লম্বা দড়িতে বাধা মৃণালের স্বহস্ত-পরিমার্জিত চিকন পরিপুষ্ট গাভীটি বড় বড় নিশ্বাস ফেলিয়া চরিয়া ফিরিতেছে देरै ●