পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


श्रृंब्र९-जांश्ङि7-ज९७jझ ভুলে-যাওয়া কথাও ধীরে ধীরে জেগে উঠেচে, কিন্তু এতকাল এরা কোথায় লুকিয়ে ছিল ! মৃণাল চোখ তুলিয়া প্রশ্ন করিল, কার কথা বাবা ? কেদারবাবু বলিলেন, আমারি কথা মা। বড় হবার মত বুদ্ধিও ভগবান দেননি, বড় কখনো হতে পারিনি। আমি সাধারণ মানুষ, সাধারণের সঙ্গে মিশেই কাটিয়েচি, কিন্তু আমাদের মধ্যে যারা বড়, যারা সমাজের মাথা, সমাজের আচাৰ্য্য হয়ে গেছেন, তাদের উপদেশই চিরকাল ভক্তির সঙ্গে, শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে এসেচি । উাদের সেইসব কতদিনের কত বিশ্বত বাক্যই না আজ আমার স্মরণ হচ্ছে। তুমি বলেছিলে মৃণাল, ধৰ্ম্মান্তর-গ্রহণের মধ্যে, ভালটাকে বেছে নেবার মধ্যে রেষারেধি থাকবেই বা কেন, থাকার প্রয়োজন হবেই বা কিসের জন্যে ? আমিও ত এতকাল তাই বুঝেচি, তাই বলে বেড়িয়েচি । কিন্তু আজ দেখতে পেয়েচি, প্রয়োজন ছিলই । আজ দেখতে পেয়েচি, হিন্দুদের মধ্যে যারা এই বলে অভিযোগ করে যে, দেশেবিদেশে তাদের মাথা আমরা যতখানি হেঁট করে দিতে পেরেচি, ততখানি খ্ৰীষ্টান পাস্ত্রীরাও পেরে ওঠেনি-নালিশটা ত আজ তাদের মিথ্যে বলেও ওড়াতে পারিনে মা । বস্তুতঃ বিদেশী বিধৰ্ম্মীর হাতে আমাদের মত বিভীষণ আর ত কেউ নেই। মৃণাল অত্যন্ত চঞ্চল হইয়া উঠিল, কিন্তু বৃদ্ধ তাহাতে দৃকপাত করিলেন না। বলিতে লাগিলেন, মৃণাল, রেষারেষি যদি নাই-ই থাকবে, তা হলে আমাদের মধ্যে যারা সকল বিষয়েই আদর্শ, এমন কি, সমস্ত মানুষের মধ্যেই র্যারা আদর্শপদবাচ্য, তাদের মুখ দিয়ে ধর্মের মন্দিরে, ধর্মের বেদীতে দাড়িয়ে ‘রামকে রেমো, হরিকে হোরে, “নারায়ণকে নারাণ বেরুবে কেন ? সকলকে আহবান করে উচ্চকণ্ঠে কিসের জন্তে একথা ঘোষণা করবেন যে, দুর্ভাগার যদি আঘাটায় ডুবে মরতে না চায় ত আমাদের এই বাধা-ঘাটে আমুক। মা, ধৰ্ম্মোপদেশের এই প্রচণ্ড তাল ঠোকায় আমাদের সমাজ-মৃদ্ধ সকলের রক্তই তথন ভক্তিতে যেমন গরম, শ্রদ্ধায় তেমনি রুক্ষ হয়ে উঠত -আলোচনায় পুলকের মাত্রাও কোথাও এক তিল কম পড়ত না, কিন্তু আজ জীবনের এই শেষ-প্রান্তে পৌছে যেন স্পষ্ট উপলব্ধি করচি, তার মধ্যে উপদেশ যদি বা কিছু থাকে, তা থাক, কিন্তু ধর্মের লেশমাত্রই কোনখানে থাকবার জো ছিল না । মৃণাল ব্যথিত-কণ্ঠে কহিল, বাবা, এ-সব কথা আমাকে তুমি কেন শোনাচ্ছ ? তারা সকলেই যে আমার পূজনীয়, আমার নমস্ত ! বলিয়া সে দুই হাত জোড় করিয়া তাহার ললাট স্পর্শ করিল। এই ভক্তিমতী তরুণীর নমনত মুখখানির পানে চাহিয়া বৃদ্ধ যেন বিভোর হইয়া রহিলেন এবং ক্ষশপরে বাহিরে দালীর আহবানে ३३छै