পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ যদি কোন ঠিক কাজু হয়ে থাকে ত সে এই। আপনি ক্ষমা করলেই আমার মনের সমস্ত ক্ষোভ দুয়ে মুছে যাবে। অচলা কাতর হইয় কহিল, আপনি অমন কথা কিছু বলবেন না। র্যাকে দু দু’বার মৃত্যুর গ্রাস পেকে ফিরিয়ে এনেচেন— তা ও শুনেচেন ? শুনেচি । আপনার মত সুহৃদ তার আর কে আছে ? না, বোধ হয় আপনি ছড়। আর কেউ নেই। আর সেই মুবাদে আমর। দু'জন— অচলার মুখের উপর আবার একটুখান রাঙা আভা দেখা দিল । সে কহিল, ই৷ বন্ধু । আপনি তাকে মরণের পথ থেকে ফিরিয়ে এনেচেল। তাই তার সম্বন্ধে আপনার কোন কাজই আমি অন্যায় বলে ভাবতে পারিনে। মনের মধ্যে কোন ক্ষোভ, কোন লজ্জ আপনি রাখবেন ন—ক্ষমা কথাটা উচ্চারণ করলে আপনার যদি তৃপ্তি হয়, আমি তাও বলতে রাজি ছিলুম, যদি না আমার মুখে বাধত । আচ্ছা, কাজ নেই। বলিয়া স্বরেশ উঠিয়া দাড়াইয়া বলিল, আপনার বাবার সঙ্গে দেখা হল নী, তিনি বোধ হয় ব্যস্ত আছেন । মহিমের সঙ্গে হয়ত আবার কোনদিন আসতে ও পার | নমস্কার । অচলা একটুখানি হাসিয়া কহল, নমস্কার ; কিন্তু তার সঙ্গেই যে আসতে হবে, এর ত কোন মানে নেই । সত্যি বলচেন ? সত্যি বলচি । আমার পরম সৌভাগ্য । বলিয়া মুরেশ আর একবার নমস্কার করিয়া বাহির হইয়া গেল । {{ বাহিরে আসিয়া যেন নেশার মত তাহার সমস্ত দেহ-মন টলিতে লাগিল । আকাশের খর রৌদ্র তখন নিস্তেজ হইয়া পড়িতেছিল। সে গাড়ি ফিরাইয়া দিয়া একাকী পদব্রজে বাহির হইয়া পড়ল। ইচ্ছা কলিকাতার জনাকীর্ণ কোলাহলময় রাজপথের মধ্যে আপনাকে সম্পূর্ণ মগ্ন করিয়া দিয়া অবস্থাটা একবার ভাবিয়া লয়। অচলার মুখ, অবয়ব, ভাষা, ব্যবহার—সমস্তই তাহার শুরু হইতে শেষ পর্য্যস্ত পুনঃ পুন: মনে পড়িয়া নিজেকে যেন ছোট বলিয়া বোধ হইতে লাগিল । সে-মুখে সৌন্দর্ঘ্যের অলৌকিকত্ব ছিল না, কথায়, ব্যবহারে, জ্ঞান বিদ্যাবুদ্ধির অপরূপত্ব কোথাও এতটুকু প্রকাশ পায় নাই ; তথাপি কেমন করিয়া যেন কেবলই ృతి