পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিন্দুর ছেলে এই বলিয়া সে মেঝের উপর অমূল্যকে ছা করির বসাইয়া দিয়া দুধের কড়া ভুলিয়া জানিয়া উনানের উপর চড়াইয়া দিল। এই অভাবনীয় ব্যাপারে অমূল্য চীৎকার করিয়া উঠিতেই, বিন্দু তাহার গাল টিপিয়া দিয়া বলিল, চুপ কর হারামজাদ, চুপ কয়, চেঁচালে একেবারে মেরে ফেলব। বিলুর ব্যাপারে বাড়ির দাসী কাম ছটিয়া আসিয়া খোকাকে কোলে লইতে গেলে বিন্দু তাহাকে ধমকাইয়া উঠিল, দূর হ, সামনে থেকে দূৰ হ ! সে আর অগ্রসর হইতে পারিল না, ভয়ে আড়ষ্ট হইয়া দাড়াইয়া রহিল । বিন্দু আর কাহাকেও কিছু না বলিয়া রোরুদ্যমান শিশুকে কোলে তুলিয়া লইয়া দুধ জাল দিতে লাগিল । অন্নপূর্ণ স্থির হইয়া দাড়াইয়া রহিলেন। খানিক পরে বিন্দু দুধ লইয়া চলিয়া গেলে তিনি পাচিকাকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, শুনলে মেয়ে, ওর কথা ? সেই যে একদিন হাসতে হাসতে বলেছিলুম, অমূল্যকে নে। সেই জোরে আজ আমাকেও দিব্যি দিয়ে গেল ! - যাহা হোক, এমনি করিয়া অন্নপূর্ণার ছেলে বিন্দুবাসিনীর কোলে মানুষ লাগিল এবং তাহার ফল হইল এই যে, অমূল্য খুড়িকে মা এবং মাকে দিদি বলিতে শিথিল । ইহার বছর-চারেক পরে যেদিন খুব ঘটা করিষা অমূল্যের হাতে-খড়ি হইয়া গেল, তাহার পরদিন সকালে অন্নপূর্ণ রান্নাঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন ; বাহির হইতে বিন্দুবাসিনী ডাকিয়া কহিল, দিদি, অমূল্যধন প্রশাম করতে এসেছে, একবারটি বাইরে এস। 4. অন্নপূর্ণ বাহিরে আসিয়া অমূল্যর সাজগোজ দেখিয়া অবাক হইয় গেলেন। তাহার চোখে কাজল, কপালে টিপ, গলায় সোনার হার, মাখার উপর চুল ফুটি করিয়া বাধ, পরনে একটি হলদে-রঙের ছাপান কাপড়, একহাতে দড়ি-বাধা মাটির দোয়াত, বগলে ক্ষুদ্র একখানি মাছুর-জড়ানো গুটিকয়েক তালপাত । বিন্দু বলিল, দিদিকে প্রশাম কর ত বাবা । অমূল্য জননীকে প্রশাম কৰিল । *. তাহার পারে জুতা নাই, মোজা নাই, পরনে নানাবিধ বিলাতী পোষাক নাই— জয়পূর্ণ এই অপরূপ সাজ দেখিয়া হাসিয়া বলিলেন, এতও তোর আগে ছোটবে। ছেলে বুঝি পড়তে যাচ্ছে ? 敏蟾