পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিন্দুর ছেলে কথা কে বলতে পারে ? আচ্ছা, বেশ ত তুমি একবার বলেই দেখ না, তারপর যা হয় হবে । অন্নপূর্ণ গভীর হইয়া বলিলেন, যা হবে তা দেখতেই পাচ্ছি। তুই একবার যখন ধরেচিল তখন কি আর না করে ছাড়বি ? কিন্তু আমি অমন অনাছিষ্ট কথা মুখে আনতে পারব না। আর তুইও ত কথা ক’ল—নিজেই বল গে যা। এবার বিন্দু রাগ করিল, বলিল, বলবই ত এত দূরে রোজ রোজ আমি ছেলে পাঠাতে পারব না—এতে কারুর ভাল লাগুক, না লাগুক, আর এতে ওর বিস্তে হোক আর নাই হোক। ই কদম, তোকে না বললুম সিদে দিয়ে আসতে ? স্থা করে দাড়িয়ে আছিল যে ? তাহার ক্রুদ্ধ ভাব লক্ষ্য করিয়া অন্নপূর্ণ ব্যস্ত হইয়া বলিলেন, সিদে দিচ্চি। একেবারে এত উতলা হসনে ছোটবে । আচ্ছা, ছেলে কি তোর বড় হবে না ? তুই কি চিরকাল তাকে আঁচল-চাপা দিয়ে রাখতে পারবি ? এটা ভাবিস না কেন ? ছোটবোঁ সে-কথার জবাব না দিয়া বলিল, কদম, সিঙ্গে দিয়ে গুরুমশায়ের পায়ের ধূলো একটু তার মাথায় দিয়ে, ছেলে ফিরিয়ে আন গে। তাকেও একবার বিকেলবেলা আসতে বলিস। ষে বুঝবে না, তাকে আর ৰোঝাব কি করে ? বলচি, ছোটটি পেয়ে যদি কেউ মার-ধোর করে—না, চিরকাল কি তুই আঁচল-চাপ দিয়ে রাখতে পারবি ? কি পারব, না পারব, সে পরামর্শ ত নিতে আসিনি। বলিয়া সে উত্তরের জন্য অপেক্ষা না করিয়া হন হন করিয়া চলিয়া গেল । অন্নপূর্ণ অবাক হইয়া, দাড়াইয়া রহিলেন। কদম বলিল, আর দাড়িয়ে থেকে না মা, হয়ত এখনি আবার এসে পড়বেন । উনি যা ধরেচেন বিধাতা-পুরুষেরও সাধ্যি নেই যে তা রদ করেন । সেইদিন সন্ধ্যার পর বড়কর্তা আফিং খাইয়া শয্যার উপর কাত হইয়া শুইয়া গুড়গুড়ির নল মুখে দিয়া নেশার পৃষ্ঠে চাবুক দিতেছিলেন, এমন সময় দরজার শিকলটা ঝন ঝন্‌ করিয়া নড়িয়া উঠিল । যাদব কষ্টে চোখ খুলিয়া বলিলেন, কে ও ? অন্নপূর্ণ ঘরে ঢুকিয়া বলিলেন, ছোটবোঁ কি বলতে এসেচে শোন। যাদব ব্যস্ত হইয়া উঠিয়া বসিয়া বলিলেন, ছোটমা ? কেন মা ? ছোটবোঁকে তিনি অত্যন্ত ভালবাসিতেন। ছোটবোঁ কথা কহিল না, তাহার হইয়া অন্নপূর্ণ বলিয়া দিলেন, ওর ছেলের চোখে পোড়োর কলমের খোচা মারবে, তাই বাড়ির মধ্যে একটা পাঠশালা করে দিতে হবে। যাদব হাতের নলটা ফেলিয়া দিয়া শঙ্কিত হইবা বলিয়া উঠিলেন, কে চোখে খোচ মারলে ? কৈ দেখি, কি রকম হ’ল ? ❖ፃ »