পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিন্দুর ছেলে করিয়া রহিলেন। খোজাখুঁজি ক্রমেই বাড়িতে লাগিল। তখন তিনি বাহিরে আসিয়া বলিলেন, কি নাচ হবে, নরেনের সঙ্গে তাই দেখতে গেছে, এখনি ফিরে আসবে তোর কোন ভয় নেই। বিন্দু কাছে আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কে যেতে বলেচে, তুমি। অমূল্য যে সম্মতি না লইয়াই গিয়াছে এ-কথা অন্নপূর্ণ ভয়ে স্বীকার করিতে পারিলেন না, বলিলেন, এখনি আসবে। বিন্দু মুখ অন্ধকার করিয়া চলিয়া গেল। খানিক পরে অমূল্য বাড়ি ঢুকিয় যেই শুনিল ছোটমা ডাকিতেছে, সে গিয়া তাহার পিতার শয্যার একধারে শুইয়া পড়িল । প্রদীপের আলোকে বসিয়া চোখে চশমা অঁাটিয়া যাদব ভাগবত পড়িতেছিলেন, মুখ তুলিয়া বলিলেন, কি রে অমূল্য ? অমূল্য সাড়া দিল না ! কদম আসিয়া বলিল, ছোটমা ডাকচেন এস । ..of অমূল্য তাহার পিতার কাছে সরিয়া আসিয়া বলিল, বাবা তুমি দিয়ে আসবে চল না । . যাদব বিস্মিত হইয়া বলিলেন, আমি দিয়ে আসব ? কি হয়েছে কদম ? কদম বুঝাইয়া বলিল । যাদব শুনিলেন, এই লইয়া একটা কলহ অবশুম্ভাবী। একজন নিষেধ করিয়াছে, একজন হুকুম দিয়াছে। তাই অমূল্যকে সঙ্গে করিয়া ছোট-বধুর ঘরের বাহিরে দাড়াইয়া ডাকিয়া বলিলেন, এইবারটি মাপ কর মা, ও বলেচে অার করবে না । সেই রাত্রে দুই জায়ে আহারে বসিলে বিন্দু বলিল, আমি তোমার উপর রাগ কচ্চিনে দিদি, কিন্তু এখানে আমার থাকা চলবে না—অমূল্য তা হলে একেবারে বিগড়ে যাবে। আমি যদি মানা না করতুম, তা হলেও একটা কথা ছিল ; কিন্তু নিষেধ করা সত্বেও এত বড় দুঃসাহস ওর হল কি করে তখন থেকে আমি শুধু এই কথাই ভাবচি। তার ওপর বজাতি দেখ । অামার কাছে যায়নি, এসেচে তোমার কাছে ; বাড়ি ফিরে যেই শুনেচে আমি ডাকচি, অমনি গিয়ে বঠ ঠাকুরকে সঙ্গে করে এনেচে । না দিদি, এতদিন এ-সব ছিল না—আমি বরং কলকাতায় বাসা-ভাড়া করে থাকব সেও ভাল, কিন্তু এক ছেলে-ব’য়ে যাবে, তাকে নিয়ে সার-জীবন চোখের জলে ভাসতে পারব না । অন্নপূর্ণ উৰি হইয়া বলিলেন, তোরা চলে গেলে আমিই বা কি করে একলা থাকি বল। বিন্দু ক্ষণকাল চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল, সে তুমি জান। আমি বা করব তোমাকে বলে দিলুম। বড় মন্দ ছেলে ঐ নরেন। *

bጭ

وجدسسt tو