পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰই ঠাকুরবি বলিলেন, যাও দিদি, যাও। আমি ঘরে রইলুম, দেখতে শুনতে পারব | বিন্দু আর কথা কহিল না, কোচম্যান গাড়ি ছাড়িয়া দিল । অন্নপূর্ণ বামুনঠাকরুণের মুখে এ-কথা শুনিয়া চুপ করিয়া রছিলেন । ইতিপূর্বে কোন দিন বিন্দু অমূল্যকে ছাড়িয়া বাপের বাড়ি যায় নাই-আজ এক মাসের উপর হইল, সে একবার তাহাকে চোখের দেখা দেখিতে পায় নাই-তার দুঃখ অন্নপূর্ণ বুঝিলেন। রাত্রে অমূল্য বাপের কাছে শুইয়া আস্তে আস্তে গল্প করিতেছিল। নীচে প্রদীপের আলোকে কথা সেলাই করিতে করিতে অন্নপূর্ণ সহসা দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া বলিয়া উঠিলেন, ষাট । ষাট ! যাবার সময় বলে গেল কি না, এই যাওয়াই যেন শেষ যাওয়া হয়! মা দুর্গ করুন, বাছা আমার ভালয় ভালয় ফিরে আমুক । কথাটা শুনিতে পাইয়া যাদব উঠিয়া বসিয়া বলিলেন, আগাগোড়াই কাজটা ভাল করনি বড়লোঁ! আমার মাকে তোমরা কেউ চিনলে না । অন্নপূর্ণ বলিলেন, সেও ত একবার দিদি বলে এলো না! তার ছেলেকেও ত সে জোর করে নিয়ে যেতে পারত, তাও করলে না! সেদিন সমস্তদিন খাটুনির পরে ঘরে ফিরে এলুম—উণ্টে কতকগুলো শক্ত কথা শুনিয়ে দিলে! যাদব বলিলেন, আমার মায়ের কথা শুধু আমি বুঝি । কিন্তু বড়বে, এই যদি না মাপ করতে পারবে, বড় হয়েছিলে কেন ? তুমিও যেমন, মাধুও তেমনি, তোমরা ধরেবেঁধে বুঝি আমার মায়ের প্রাণটা বধ করবে ! অন্নপূর্ণর চোখ দিয়া টপ টপ করিয়া জল পড়িতে লাগিল । অমূল্য বলিল, ছোটমা কেন আসবে না বলেচে ? অন্নপূর্ণ চোখ মুছিয়া বলিলেন, যাবি তোর ছোটমার কাছে ? অমূল্য ঘাড় নাড়িয়া বলিল, না। না কেন রে ? ছোটমা তোর দাদামশায়ের বাড়ি গেছে, তুইও কাল যা ! অমূল্য চুপ করিয়া রহিল। যাদব বলিলেন, যাবি অমূল্য! অমূল্য বালিশে মুখ লুকাইয়া পূর্বের মত মাথা নাড়িতে নাড়িতে বলিল, না। কতকটা রাত্রি থাকিতেই যাদব কৰ্ম্মস্থানে যাইবার জন্য প্রস্তুত হইতেন। দিন পাচছয় পরে এমনি এক শেব-রাত্রে তিনি প্রস্তুত হইয়া অন্যমনস্কের মত তামাক টানিতেছিলেন । অন্নপূর্ণ বলিলেন, বেলা হয়ে যাচ্ছে। way 8