পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কোনরূপে তাহাকে টলাইতে না পারিয়া জগবন্ধুবাবু বলিলেন, তবে মা, তাই ভাল ; তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমি বিবাহ দিতে চাই না । তোমার খাবার-পরবার ক্লেশ না হয়, তা আমি করে যাব । তার পর ধর্থে মন রেখে যাতে স্থখী হতে পার, ক’রে । পঞ্চম পরিচ্ছেদ চন্দ্রবাবুর সংসার তিন বৎসর পরে খালাস্ত্র হইয়াও ললিতমোহন বাড়ি ফিরিল না। কেহ বলিল, লজ্জায় আসিতেছে না। কেহ বলিল, সে গ্রামে কি আর মুখ দেখাতে পারে ? ললিতমোহন নানা স্থান পরিভ্রমণ করিয়া দুই বৎসর পরে সহসা একদিন বাটতে আসিয়া উপস্থিত হইল। তাহার জননী আনন্দে পুত্রের শিরঙ্গুন করিয়া আশীৰ্ব্বাদ করিলেন—বাবা, এবার বিবাহ করে সংসারী হও, যা কপালে ছিল, তা ঘটে গিয়েচে, এখন সেজন্য আর মনে ছুঃখ ক’রে না। ললিতও যাহা হয় একটা করিবে: স্থির করিল। পাচ বৎসর পরে ফিরিয়া আসিয়া ললিত গ্রামে অনেক পরিবর্তন দেখিল, বিশেষ দেখিল জগবন্ধুবাবুর বাটতে। কর্তা গিল্পী কেহ জীবিত নাই। চন্দ্রনাথবাবু এখন সংসারের কর্তা, অনুপমা বিধবা হইয়া এইখানেই আছে, কারণ তাহার অন্তৰ স্থান নাই। পূৰ্ব্বেই জননীর মৃত্যু হইয়াছিল, পরে পিতার মৃত্যুর পর অনুপমা ভাবিয়াছিল, পিতা যাহা দিয়া গিয়াছেন, তাহ লইয়া কোনও তীর্থস্থানে থাকিবে এবং সেই টাকায় পুণ্যধৰ্ম্ম, নিয়মত্ৰত করিয়া অবশিষ্ট জীবনটা কাটাইয়া দিবে। কিন্তু শ্ৰাদ্ধশাস্তি হইলে উইল দেখিয়া সে মৰ্ম্মাহত হইল, পিতা কেবল তাহার নামে পাচ শত টাকা দিয়া গিয়াছেন। তাহারা বড়লোক, এ সামান্ত টাকা তাহাদিগের নিকট টাকাই নহে ; বাস্তবিক, এই অর্থে কাহারও চিরজীবন গ্রাসাচ্ছাদন নিৰ্বাহিত হইতে পারে না । গ্রামে অনেকেই কানাঘুষা করিল, এ উইল জগবন্ধুবাবুর নহে, ভিতরে কিছু কারসাজি আছে। কিন্তু সে-কথায় ফল কি, নিরুপায় হইয়া অনুপমা চম্রবাবুর বাটতেই রহিল! লোকে বলে পিতার মৃত্যু না হওয়া পৰ্য্যন্ত সংমাকে চিনতে পারা যায় না ; সৎভাইকেও সেইরূপ পিতার জীবিতকাল পৰ্য্যন্ত চিনিতে পারা কঠিন। এতদিন পরে অনুপমা জানিতে পারিল, তাহার দাদা চন্দ্রনাথবাবু কি চরিজের মানুষ। যত প্রকার অধম শ্রেণীর মানুষ দেখিতে পাওয়া যায়, চন্দ্রনাথবাবু তাহাজের সর্বনিকৃষ্ট । »ፀ: