পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ সুতরাং, সে যখন বঁাচিয়া আছে, তখন যে কোন উপায়ে, যে-কোন কলাকৌশলের দ্বারা সে যে এই সামঞ্জস্য করিয়া আসিয়াছে, তাহা ত স্বতঃসিদ্ধ । সৰ্ব্বত্রই সমস্ত বিভিন্ন জাতির মধ্যে এই সামঞ্জস্য প্রধানতঃ যে উপায়ে রক্ষিত হইয়া আসিয়াছে—তাহ প্রকাতে নূতন শ্লোক রচনা করিয়া নহে। কারণ, দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় জানা গিয়াছে যে, নব-রচিত শ্লোক বেনামীতে এবং প্রাচীনতার ছাপ লাগাইয়া চালাইয়া দিতে পারিলেই তবে ছুটিয়া চলে, না লইলে খোড়াইতে থাকে। অতএব, নিজের জোরে নূতন শ্লোক তৈরী করা প্রকৃত উপায় নহে। প্রকৃষ্ট উপায় ব্যাখ্যা। তাহা হইলে দেখা যাইতেছে—পুরাতন সভ্য-সমাজের মধ্যে শুধু গ্রীক ও রোম ছাড়া আর সকল জাতি এই দাবী করিয়াছে,—তাহাদের শাস্ত্র ঈশ্বরের দান। অথচ, সকলকেই নিজেদের বর্ধনশীল সমাজের ক্ষুন্নিবৃত্তির জন্য এই ঈশ্বরদত্ত শাস্ত্রের পরিসর ক্রমাগত বাড়াইয়া তুলিতে হইয়াছে। এবং সে-বিষয়ে সকলেই প্রায় এক পন্থাই অবলম্বন করিয়াছেন— বর্তমান শ্লোকের ব্যাখ্যা করিয়া । কোন জিনিসের ইচ্ছামত ব্যাখ্যা করা যায় তিন প্রকারে। প্রথম-ব্যাকরণগত ধাতুপ্রত্যয়ের জোরে ; দ্বিতীয়–পূর্ব এবং পরবর্তী শ্লোকের সহিত তাহার সম্বন্ধ বিচার করিয়া ; এবং তৃতীয়—কোন বিশেষ দুঃখ দূর করিবার অভিপ্রায়ে শ্লোকটি স্বস্ট হইয়াছিল, তাহার ঐতিহাসিক তথ্য নির্ণয় করিয়া। অর্থাৎ চেষ্টা করিলেই দেখা যায় যে, চিরদিন সমাজ-পরিচালকের নিজেদের হাতে এই তিনখানি হাতিয়ার— ব্যাকরণ, সম্বন্ধ এবং তাৎপৰ্য্য ( positive and negative ) লইয়া ঈশ্বরদত্ত যে-কোন শাস্ত্রীয় শ্লোকের যে-কোন অর্থ করিয়া পরবর্তী যুগের নিত্য নূতন সামাজিক প্রয়োজন ও তাহার ঋণ পরিশোধ করিয়া তাহাকে সজীব রাখিয়া আসিয়াছেন। আজ যদি আমাদের জাতীয় ইতিহাস থাকিত, তাহা হইলে নিশ্চয় দেখিতে পাইতাম—কেন শাস্ত্রীয় বিধি-ব্যবস্থা এমন করিয়া পরিবর্তিত হইয়া গিয়াছে এবং কেনই বা এত মুনির এতরকম মত প্রচলিত হইয়াছে ; এবং কেনই বা প্রক্ষিপ্ত শ্লোকে শাস্ত্র বোঝাই হইয়া গিয়াছে। সমাজের এই ধারাবাহিক ইতিহাস নাই বলিয়াই এখন আমরা ধরিতে পারি ন—অমুক শাস্ত্রে অমুক বিধি কিজষ্ঠ প্রবর্তিত হইয়াছিল এবং কিজান্তই বা অমুক শাস্ত্রের দ্বারা তাহাই বাধিত হইয়াছিল। আজ স্থদুরে দাড়াইয়া সবগুলি জামাদের চোখে এইরূপ দেখায়। কিন্তু যদি তাহদের নিকটে যাইয়া দেখিবার কোনও পথ থাকিত ত নিশ্চয় দেখিতে পাইতাম—এই দুটি পরস্পর-বিরুদ্ধ বিধি একই স্থানে দাড়াইয়া আঁচড়া-আঁচড়ি করিতেছে না। একটি হয়ত আর একটির শতবর্ষ পিছনে দাড়াইয়া ঠোঁটে আঙুল দিয়া নিশৰে হালিতেছে। প্রবাহই জীবন । মাচুব যতক্ষণ বঁাচিয়া থাকে, ততক্ষণ একটা ধারা তাহার ttూ