পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ মিসেস বিশ্বাসের পোষাকের কাট-ছাট অতি চমৎকার। তেমনি পোষাকে নিজেকে সজ্জিত করিতে দোষ নাই, কিন্তু তার কোমরের ঘেরটা হয়ত সওয়া তিন হাত । গাউনে কাপড় লাগে সাড়ে দশ গজ । হুবহু নকল করিব বলিয়া তোমার কাঠপানা দেহে ঠিক ঐ সাড়ে দশগজি গাউন জড়াইয়া পথে বাহির হইলে লোকে হাসিবে বৈকি! ভাল জিনিসের অমুকরণ করিতে গিয়া তুমি ভাল কাজেরই সূত্রপাত করিয়াছিলে মানি, কিন্তু অনুকরণের নেশায় এমনি মাতিয়া গেলে যে, নিজের দেহটার পানেও একবার চাহিয়া দেখিলে না। ইহাতে তোমার যে শুধু নকল করিবার সত্বদেশুটাই নিষ্ফল হইয়া গেল তাহা নহে, তোমার নিজের সৌন্দর্ঘ্যও গেল, তোমার কাপড়ের দাম ও মজুরি নষ্ট হইল। পথের লোকের ‘বাহবাটা ত ফাউ। রবিবাবুর লেখা খুব ভাল। তাকে নকল করার ইচ্ছাও স্বাভাবিক, এবং করিবার চেষ্টাও সাধু। কিন্তু একেবারে রবিবাবুই হুইব এমন পণ করিতে গেলে চলিবে কেন ? দেখিতে পাওয়া উচিত যে, তোমার গায়ে তার সাড়ে দশগজি গাউন সার্কাসের ঐ কাহাদের মতই মানাইয়াছে। তার লেখার দোষই বল, আর গুণই বল, পড়িলেই মনে হয় এ ত খুব সোজা। লিখিলে আমিও এমন পারি। তার উপমাগুলা এতই স্বাভাবিক এবং সরল যে, দেখিবামাত্রই মনে হয়—বা —এ ত আমিও জানি—উপমা দিবার প্রয়োজন হইলে ঠিক এইটি ত আমিও দিতাম। কিন্তু ভ্রান্ত অনুকরণ-প্রয়াসীরা ভাবিয়াও দেখে না যে, কোহিকুরের নকল হয় না—টেটের ডায়মণ্ড হয়। আসলটা পাইলে সাত পুরুষ রাজার হালে বসিয়া খাইতে পারে, নকলটার দামে একবেলার বাজার-খরচ চলে না । রবিবাবু কতকগুলো শব্দ প্রায়ই ব্যবহার করেন। সেগুলো এবং তাহার উপমা ও লিখিবার প্রণালী আজকালকার সাহিত্যসেবী নর-নারীরা কিরূপে যে বিকৃত করিতেছেন, তাহ দেখিলে ক্লেশ বোধ হয় । তিনি র্যাহাদের গুরু, তাহদের উচিত র্তাকে বুঝিবার চেষ্টা করা, তাকে শ্রদ্ধা করা। ভিতরে ভিতরে ইহারা, শ্রদ্ধা করেন কি না, এ-কথা অবশু বলিতে পারি না ; কিন্তু বাহিরে ভ্যাঙচানির চোটে গুরুজীর হাড় পৰ্য্যন্ত যে কালি হইবার উপক্রম হইয়াছে, সে কথা বাজি রাখিয়া বলিতে পারি। সে বেচারা যাই বলেন, ব্যাঘ্ৰ ! তার ভক্তেরা আমনি ছুটিয়া আসিয়া দুই হাত নাড়িয়া বুঝাইয়া দিয়া যায়—অর্থাৎ, শার্দুল! দুই একটা নজির দিতেছি। জবশু পুরুষদের কথা বলিতে চাহি না। র্তাহাদের কথা তাহারাই বলিবেন—এবং মাঝে মাঝে কেহ বলেনও, কিন্তু ঐ পর্য্যন্ত। ঐ ডান পাশ আর বা পাশ। আমি শুধু দুই-একটি মহিলা সরস্বতীর কথা উল্লেখ করিয়াই ক্ষাস্ত হইব। আজকাল র্যাহারা বড় লিখিয়ে হইয়া উঠিয়াছেন, তাহদের মধ্যে শ্ৰীমতী জামোদিনী ঘোষজায়া, অনুরূপ ও নিরুপমা দেবীর নাম প্রায় সকলেই জানেন । ইহাদের অজস্র গদ্য পদ্ধ কোন একখানা মাসিক হাতে তুলিয়া লইলেই দেখিতে ארסי