পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপ্রকাশিত রচনাবলী কাপড় ছোৰাইতেছিল, ধরা পড়িয়াছে ? নইলে ভয়ের কথা নিশ্চয়ই, কিন্তু আমাদের বাড়িতে কাহারও ত ওসব লক্ষণ দেখি না । অন্ততঃ বড়কৰ্ত্তার সম্বন্ধে আমি ত হলক করিয়া বলিতে পারি। আজ এই ‘মুতরাং শব্দটায় বহুদিনের একটা কথা মনে পড়িতেছে । একবার গাড়ি করিয়া রাত্রে বাড়ি যাইতেছিলাম ! পথে ডানদিকের মাঠে চাষারা পাট কাচিয়া শুকাইতে দিয়াছিল। পাছে ভয় পাই, এই আশঙ্কায় আমাদের পঞ্চা চাকর গাড়ির উপর হইতে সাহস দিয়া বলিল, “মা-ঠাকরুণ ভানদিকে চেয়ে দেখুন, স্বতরাং কেমন পাট শুকোচ্চে !” সেদিন বউমানুষের অত হাসি নিশ্চয়ই ভাল দেখায় নাই, কিন্তু ভাল দেখাইবার উপায় ত আমার হাতে ছিল না। থাকৃ-জার না। এখনো অনেক কথা বলিবার ছিল, কিন্তু কাজ নাই। তা ছাড়া, আমরা মেয়েমানুষ হাড়ির একটা ভাতই টিপিয়া দেখি । শ্ৰীমতী আমোদিনী শিক্ষিতা রমণী, আমরা সেকেলে অশিক্ষিত মুখ মেয়ে-মানুষ । হয়ত, তাহাকে ভুল বুঝিয়াছি। কিন্তু ভুল হোক, নিতুল হোক, যাহা বুঝিয়াছি স্পষ্ট করিয়া বলিয়াছি। যদি আবণ্ডক হয় নিজের লেখা তিনি অনায়াসে সমর্থন করিতে পারিবেন । তবে, একটা কথা বলিয়া রাখি । মেয়ে-মামুষের নাক ডাকে জানি, কিন্তু এত জোরে ডাকিতে শুনিলে অন্য স্ত্রীলোকেরও যেন লজ্জা করিতে থাকে । ভয় হয়, এই বুঝি বা পুরুষমানুষে চমকাইয়া উঠিয় পড়ে। তাই উৎকণ্ঠায় যদি বা একটু নিষ্ঠুরের মতই ঘুম ভাঙাইবার চেষ্টা করিয়া থাকি, সে চেষ্টার মধ্যে আস্তরিক মঙ্গলেচ্ছা ব্যতীত আর কিছুই নাই। কিন্তু তার ভাষা যে অতি সুন্দর, অতি মধুর, তাহা অকপটে স্বীকার করি। প্রতি ছত্র গভীর পাণ্ডিত্যে পরিপূর্ণ। বহুমূল্য ঘড়ির স্বগঠিত কল-কব্জার ন্যায় তাহার প্রত্যেক শব্দ-বিন্যাসটির আশ্চর্ষ্য কৌশল দেখিয়া মুগ্ধ হইয়াছি। ঘড়িটি দামী এবং চলিতেছেও বটে, কিন্তু কাটা দুটি না থাকায় কবি পোপের মত সময়টা ঠিক ঠাওর করিতে অক্ষম হইয়াছি । এইবার শ্ৰীমতী অমুরূপ ও নিরুপমার রচনা সম্বন্ধে দুই-একটা কথা বলিব। যদিও শ্ৰীমতী অনুরূপার ‘পোন্তপুত্রের গোড়াও পড়ি নাই, শেষও পড়ি নাই, শুধু মধ্যের গুটিকয়েক অধ্যায় মাত্র পড়িবার স্থযোগ পাইয়াছি, এবং এত অল্প পূজি লইয়া বলিতে যাওয়াও বিপজ্জনক জানি, কিন্তু বুড়ো-মামুষের নাকি বেশি পুজির আবগুক হয় না, তাই বলিতেছি । ইহারও ভাষা যে অতি মধুর তাহাতে সন্দেহ নাই। আমার মেয়ে বলিতেছিল, এত মধুর যে মুখ মারিয়া যায়, আর গিলিতে পারা যায় না। তা ভাষা স্বাহাই হোক, প্রায় উপমাগুলিই যে না জানিয়া লেখা তাহা পড়িলেই চোখে ঠেকে। জার একটা জিনিস তার চেয়েও বেশি ঠেকে—সেটা অসঙ্ক জ্যাঠামো । এ-কথাটা আমার বলিবার ইচ্ছা ছিল না । কেন না, এইখানেই তর্ক বাধে। গ্রন্থকারের ভারিযকারীরা ধরিয়া বসেন, কোথায় জ্যাঠামো দেখাও। আমি যাহাই দেখাইন ©ፃፃ १श्व-8w