পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপ্রকাশিত রচনাবলী ইংরেজী—কালিদাস, সেক্সপিয়র, টেনিসন—যাহা কিছু শিক্ষা করা প্রয়োজন একাধারে সমস্তই। বলিতে পারি না, শেষের দিকে রাজভাষা এবং clerk's guide আছে কি না। আমার ছোট নাতিটিকে একখানি কিনিয়া দিব মনে করিতেছি । যদি আমার রাধারাণীর কথা সত্য হয়, তবে আর গোটা-দুই প্রশ্ন করিয়াই ক্ষাস্ত হইব । জিজ্ঞাসা করি, এত বাড়াবাড়ি ধৰ্ম্মচর্চা কেন ? হিন্দুধর্মের অত যুদ্ধ ভেদগুলি না হয় নাই দেখান হইত—তাহাতে এমনই কি ক্ষতি ছিল ! এ যে সন্ন্যাসী ফকিরের ভিড়ে পা বাড়াইবার জো নাই, কোথায় দাড়াই, কোন দিকে চলি, কোন মহাত্মার গায়ে বুঝি পা দিয়া ফেলি, এই ভয়েই যে সারা হইতে হয়। তার উপর ইংরেজির বুকনি ও ইংরেজি কবিতার লম্বা কোটেশন ! এ-কথাও ভাবা উচিত ছিল, এটা বাংলা উপন্যাস এবং তাহার অধিকাংশ ভগিনীগুলিই ইংরেজি জানেন না। জানি বলিয়া কি তাহ জানাইতেই হইবে ! শুনিয়াছি, রবিবাবুও ইংরেজি জানেন, বঙ্কিমবাবুও নাকি শিখিয়াছিলেন, কিন্তু তাহারাও নভেলের মধ্যে লোভ সংবরণ করিতে পারিয়াছিলেন। এক্ষেত্রেও লোভ সামলান উচিত ছিল। অন্তঃপুরচারিণী স্ত্রীলোক হইয়াও সর্বতোমুখী পাণ্ডিত্যের বহরে লোকজনের তাক লাগাইয়া দিব, এই ম্পিরিট টাই নিন্দাহ । অগ্রহায়ণের ‘ভারতী’তে এক ভদ্রলোক এই বইখানি সমালোচনা করিয়া একস্থানে বলিয়াছেন, স্থানে অস্থানে অত্যধিক প্রকৃতি-বর্ণনা এবং তাহাতে রসভঙ্গ না কি এমনি একটা দোষ ঘটিয়াছে। আমি কিন্তু এ কথা বলি না। বরং বলি, দুই-তিন পাতা জোড়া প্রকৃতি বর্ণনা পড়িয়া যে ব্যক্তি একটা কিছু আইডিয়া করিতে চায় সেই অরসিক। এ জিনিসটা গয়ায় পিণ্ড দেবার মত । পুরোহিত ঠাকুরও জানে না, কি বলাইতেছি ; যজমানও গ্রাহ করে না, কি বলিতেছি! অথচ, উভয়েই জানে কাজ হইতেছে—ভূত ছাড়িতেছে! এ-বিষয়ে শ্রদ্ধা থাকা চাই, বিশ্বাস করা চাই, প্রকৃতি-বর্ণনা বুঝিতেছি। ভেস্কি-খেলা দেখেন নাই ? খেলোওয়াড় চোখের ভিতর হইতে হাসের ডিম বাহির করিবার আগে হাত-পা নাড়িয়া ভানুমতীর ব্যাখ্যা শুরু করিয়া দেয়—এ তেমনি। বোঝা উচিত, এবার আশ্চৰ্য্য কিছু একটা আসিতেছে। যে সমঝদার সেই জানে এইবার ডিম বাহির হইবে—বোকায় শুধু হাত-পা নাড় দেখিতেই ব্যস্ত থাকে এবং ভানুমতী ব্যাখ্যার মানে বুঝিতে চায়। আমি ত ৩• অধ্যায়ের গোড়াতেই বুঝিয়াছিলাম, এবার নতুন কিছু একটা আছে। লেখিকা লোক-হিতার্থে দয়া করিয়া পেটকামড়ানির মন্ত্র পর্য্যস্ত শিখাইয়া দিয়াছেন । “রাম লক্ষ্মণ সীতে যান কিষ্কিন্ধ্যার পথে ; সাথে নিলে হনুমান আর স্বগ্রীব মিতে ; স্বগ্রীব বলিল মিতে আমি মন্তর এক জানি পেটের ব্যথায় অব্যথা হয়ে যায় প্রাণী ।” ●ፃሕ)