পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


श्रृंश्ल्याई ফিরিবার পথে গোলদীঘির কাছাকাছি আসিয়া তিনি হঠাৎ গাড়ি হইতে নামিতে উষ্ঠত হইয়া বলিলেন, স্বরেশ, আমি এইটুকু হেঁটে সমাজে যাব, বাবা, তোমরা বাড়ি যাও ; বলিয়া হাতে ছড়িটা ঘুরাইতে ঘুরাইতে বেগে চলিয়া গেলেন। স্বত্বেশ কহিল, তোমার বাবার শরীরটা আজকাল বেশ ভাল বলে মনে হয় । অচলা সেই দিকেই চাহিয়াছিল, বলিল, ই, সে আপনারই দয়ায় । গাড়ি মোড় ফিরিতে আর র্তাহাকে দেখা গেল না। স্বরেশ অচলার ডান-হাতটা নিজের হাতের মধ্যে টানিয়া লইয়া কহিল, তুমি জানো এ-কথায় আমি কত ব্যথা পাই। সেই জন্যেই কি তুমি বার বার বলে অচলা ? অচলা একটুখানি মান হাসি হাসিয়া বলিল, এত বড় দয়া পাছে ভূলে যাই বলেই যখন তখন স্মরণ করি । আপনাকে ব্যথা দেবার জন্য বলিনে । স্বরেশ তাহার হাতের উপর একটুখানি চাপ দিয়া বলিল, সেই জন্যেই ব্যথা আমার বেশি বাজে । -- কেন ? আমি বেশ বুঝতে পারি, শুধু এই দয়াটা স্মরণ করেই তুমি মনের মধ্যে জোর পাও। এছাড়া তোমার আর এতটুকু সম্বল নেই, সত্যি কি না বুল দিকি ? যদি না বলি ? ইচ্ছে না হয়, ব’ল না। কিন্তু আমাকে ‘তুমি বলতেও কি কোনদিন পারবে না ? অচলার মুখ মলিন হইয়া গেল। আনত-মুখে ধীরে ধীরে বলিল, একদিন বলতেই হবে, সে ত আপনি জানেন । তাহার স্নান মুখ লক্ষ্য করিয়া সুরেশ নিশ্বাস ফেলিল। কহিল, তাই যদি হয়, দু'দিন আগে বলতেই বা দোষ কি ? অচলা জবাব দিল না । অন্যমনস্কের মত পথের দিকে চাহিয়া রহিল । মিনিট-খানেক নিঃশব্দে থাকিয়া মুরেশ হঠাৎ বলিয়া উঠিল, আমার মনে হয়, মহিম সমস্ত জানতে পেরেচে | অচলা চমকাইয়া মূখ ফিরাইল। তাহার একটা হাত এতক্ষণ পৰ্যন্ত স্বরেশের হাতের মধ্যেই ধরা ছিল, সেটা টানিয়া লইয়া জিজ্ঞাসা করিল, আপন কি করে জানলেন ? - তাহার ব্যগ্র কণ্ঠ স্বরেশের কানে খটু করিয়া বাজিল কহিল, নইলে এতদিনে সে আসত। পোনর-ষোল দিন কেটে গেল ত ! অচলা মাথা নাড়িয়া কহিল, আজ নিয়ে উনিশ দিন । আচ্ছা, বাবা কি তাকে কোন চিঠি-পত্র লিখেচেন, আপনি জানেন ? - \: