পাতা:শারদোৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করেছে তখন ওর কাছে আমি আর ঋণ স্বীকার করব না । তাই পুথিপত্র নিয়ে ঘরে ফিরে গিয়েছিলেম। সেখানে আমার প্রভুর বীণাটি নিয়ে তার ধুলো ঝাড়তে গিয়ে তারগুলি বেজে উঠল— অমনি আমার মনটার ভিতর যে কেমন হল সে আমি বলতে পারি নে। সেই বীণার কাছে লুটিয়ে পড়ে বুক ফেটে আমার চোখের জল পড়তে লাগল। মনে হল আমার প্রভুর কাছে আমি অপরাধ করেছি। লক্ষেশ্বরের কাছে আমার প্রভু ঋণী হয়ে রইলেন, আর আমি নিশ্চিন্ত হয়ে আছি ! ঠাকুর, এ তো আমার কোনো মতেই সহ্য হচ্ছে না । ইচ্ছা করছে আমার প্রভুর জন্যে আজ আমি অসাধ্য কিছু একটা করি । আমি তোমাকে মিথ্যা বলছি নে, তার ঋণ শোধ করতে যদি আজ প্রাণ দিতে পারি তা হলে আমার খুব আনন্দ হবে— মনে হবে আজকের এই সুন্দর শরতের দিন আমার পক্ষে সার্থক তল । সন্ন্যাসী বাবা, তুমি যা বলছ সত্যই বলছ । উপনন্দ ঠাকুর, তুমি তো অনেক দেশ ঘুরেছ, আমার মতো অকৰ্মণ্যকেও হাজার কার্যাপণ দিয়ে কিনতে পারেন এমন মহাত্মা কেউ আছেন ? তা হলেই ঋণটা শোধ হয়ে যায় । 8ፃ