পাতা:শারদোৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কিন্তু মান্বষের প্রধান স্বজনের ক্ষেত্র তাহার চিত্তমহলে। এই মহলে যদি দ্বার খুলিয়া আমরা বিশ্বকে আহবান করিয়া না লই, তবে বিরাটের সঙ্গে আমাদের পূর্ণ মিলন ঘটে না। বিশ্বপ্রকৃতির সঙ্গে আমাদের চিত্তের মিলনের অভাব আমাদের মানবপ্রকৃতির পক্ষে একটা প্রকাণ্ড অভাব। যে মানুষের মধ্যে সেই মিলন বাধা পায় নাই, সেই মামুষের জীবনের তারে তারে প্রকৃতির গান কেমন করিয়া বাজে, ইংরেজ #f Sorèstsärif Three Years She Grew HTTo oftsm অপুর্ব সুন্দর করিয়া বলিয়াছেন। প্রকৃতির সহিত অবাধ মিলনে ‘লুসি’র দেহমন কী অপরূপ সৌম্বর্ষে গড়িয়া উঠিবে তাহারই বর্ণনা উপলক্ষে কবি লিখিতেছেন, ‘প্রকৃতির নির্বাকৃ ও নিশ্চেতন পদার্থের যে নিরাময় শান্তি ও নি:শব্দত তাহাই এই বালিকার মধ্যে নিশ্বসিত হইবে । ভাসমান মেঘসকলের মহিমা তাহারই জন্য, এবং তাহারই জন্য উইলো বৃক্ষের অবনম্রতা । ঝড়ের গতির মধ্যে যে-একটি ঐ তাহার কাছে প্রকাশিত তাহারই নীরব আত্নীয়তা আপন অবাধ ভঙ্গীতে এই কুমারীর দেহখানি গড়িয়া তুলিবে। নিশীথরাত্রির তারাগুলি হইবে তাহার ভালোবাসার ধন। আর, যে-সকল নিভৃতনিলয়ে নিঝরিণীগুলি বাকে বঁাকে উচ্ছলিত হইয়া নাচিয়া চলে সেইখানে কান পাতিয়া থাকিতে থাকিতে কলধ্বনির মাধুর্যটি তাহার মুখত্রর উপরে ধীরে সঞ্চারিত হইতে থাকিবে। পূর্বেই বলিয়াছি, ফুল-ফল-ফসলের মধ্যে প্রকৃতির স্মৃষ্টিকার্ধ কেবলমাত্র একমহল ; মানুষ যদি তাহার দুই মঞ্চলেই আপন সঞ্চয়কে পূর্ণ না করে তবে সেটা তাহার পক্ষে বড়ে লাত নহে। ○》