পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/১০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিখ-গুরু বা শিক্ষকগণ ●。 -পুত্রের রাজ্য-শাসন সময়ে শিখগণ আংশিক স্বাধীনতা প্রাপ্ত হইলেও হরগোবিদের উদ্দেশু। সম্পূর্ণ সফল হয় নাই। পলাতক এবং অপরাধিগণকে হরগোবিন্দ সমভাবে শিক্সপে দলভুক্ত করিতেন। যদিও তাহারা অনেক সময়ে আপনাদিগের রীতি-প্রকৃতি সংশোধন করিতে পারিত না, তথাপি কাহারও সহিত শত্রুত উপস্থিত হইলে তাহারী হরগোবিদের পক্ষ হইয়া প্রাণপণে গুরুর আজ্ঞা প্রতিপালন করিত। ফলত, তাহীদের বিশ্বাস ছিল —ধৰ্মনিষ্ঠ শিখগণই স্বর্গে গমন করিবে।২° একটি আস্তাবলে হরগোবিদের আটশত ঘোড়া ছিল। তিন শত অশ্বারহী শিখ সর্বদা তাহার আজ্ঞাবাহী থাকিত। যদি হরগোবিন্দ কখনও নিহত হওয়ার বিষয় মনে করিয়া ভীত হইতেন, তাহ হইলে বাটজন বন্দুকধারী প্রহরী তাহার শরীর রক্ষক নিযুক্ত হইত ২৩ হরগোবিন্দ শিখদিগকে এরূপ শক্তি প্রদান করিয়াছিলেন যে,তাহার সেই শক্তি ও উত্তেজনা বলে সমগ্র হিন্দুজাতি হইতে সম্পূর্ণরূপে পৃথক হইয়াছিল। হরগোবিদের মৃত্যুর পর তাহার শিষ্যগণ পূর্বের রীতি আর অনুসরণ করিল না ; সন্ন্যসী ও ভিক্ষুকদিগের সীমাবদ্ধ পথ অবলম্বন করা তাহার বিপজ্জনক মনে করিল ॥২৪ ss 1 The “Dabistan', ii. 284, 286. Bo l The “Dabistan" ii, 277. ২৪। ম্যালকম (Sketch, p. 34. 35 ) এবং ফরষ্টার (Travels, p, 298.299) উভয়েই স্বীকার করিয়াছেন যে, মুসলমানদিগের বিরুদ্ধে ধর্মবিষয়ক বৈরিতাচরণে প্রবৃত্ত হওয়ায়, হরগোবিন্দ কতক পরিমাণে এই পরিবর্তন সাধন করিতে বাধ্য হইয়াছিলেন। হরগোবিদের পিতৃ-মৃত্যুর প্রতিশোধ লইবার আকাঙ্ক্ষা বলবতী হয় ; তিনি শিখদিগকে অস্ত্র-শস্ত্রে মুসজ্জিত করেন ; প্রকৃত যোদ্ধার গুীয় সৈন্স পরিচালনা করিয়া শত্ৰু-বিরুদ্ধে অস্ত্র-ধারণ করিয়াছিলেন। শিখগুরু হরগোবিন্দ যে কারণে এরূপ যুদ্ধসজ্জা করিয়াছিলেন মোসান ফাণী তাহা আশ্চর্যজনক এবং অস্বাভাবিক মনে করেন নাই ; কুতরাং ‘দেবীন্থান’ নামক র্তাহার গ্রন্থে এ বিষয়ের কোন কারণ নির্দেশ করিতে তিনি চেষ্টা করেন নাই। নানকের প্রবর্তিত ধর্মমতের সংস্কার সম্বন্ধে শিখগণ নিজেরাই বলে যে, মিথিলা দেশের পৌরাণিক ‘জনকের' দ্ব্যর্থ-ভাষিক নীতির সহিত উহার মিল আছে। নানকের শরীরে এই মহাত্মার মুক্তাত্মা প্রবিষ্ট হওয়ায়, নানক তৎশক্তিতে অনুপ্রাণিত হইয়াছিলেন। ('Dabistan, ii, 268)। ব্যক্তিগত পৌরাধিক বার্তার মিশ্রণে তাহারা তাহাদিগের শাসনকর্তার আদর্শ ভারগ্রন্থ করিয়াছে।--অজুনের স্ত্রীর পুত্র-সন্তান ছিল না ; তিনি ইহজীবনে পুত্রের মাত হইতে পারিলেন না বলিয়া হতাশ হইতে লাগিলেন। তিনি নানকের একমাত্র পুরাতন বন্ধু ভাই বুধার নিকট তাহার আশীৰ্বাদ গ্রহণ করিতে গমন করেন। কিন্তু ভাই বুধ তাহার অবস্থা ও বহুমূল্য পুজোপহার দেখিয়া অসন্তুষ্ট হইয়া তাহার প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না। অতঃপর তিনি নগ্নপদে গরীব প্রজার উপযুক্ত যৎসামান্ত খাদ্য মন্তকে লইয়া একাকী মহাত্মার সান্নিধ্যে গমন করেন। ভাই বুধা তাছার প্রতি দয়া হইয়া হাসিয়া বলিলেন,-ওঁহিার একটি পুত্র সন্তান হইবে, এবং সেই পুত্র দেগ’ ও ‘তেগ (Deg and Tegh ) উভয়ে আধিপত্য কৱিৰে। অর্থাৎ সরলভাষায়— সাধারণতঃ খাদ্য এবং তরবারি ভাণ্ডারের (অন্ত্র-শস্ত্র ) , কিন্তু সার-কথায়, ঈশ্বর-প্রসাদ এবং রাজশক্তির,