পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


( v ) করেননি। ১২টি মিল্ল-এ বিজিত ভূখণ্ডকে ভাগ করে নব শাসনব্যবস্থার প্রবর্তন হল আহলুওয়ালিয়া, ভাঙ্গী, ডালিওয়ালিয়া, ফয়জুল্লাপুরিয়া, কানহেয়া, করোয় সিংঘিয়া, নাকাই, নিহাং, নিশানওয়াল, ফুলকিয়, রামঘরিয়া এবং স্থকরচুকিয়াতে । এসময়ে রণজিৎ সিংহের মতো প্রবল ব্যক্তিত্বের আশ্রয়ে এসে এই বিভক্ত সাম্রাজ্য ঐক্যবদ্ধ হবার স্বযোগ পেল। পঞ্জাবের স্বকরচকিয় মিল্ল-এর এই নেতা মাত্র বারো বছরে মিলের নেতা হন । কাবুলের জমানশাহ পঞ্জাব আক্রমণ করতে এসে রণজিৎ সিংহের প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হন। সাহসী এই তরুণের শৌর্যে মুগ্ধ জমান শাহ তাকে বন্ধুত্বে বরণ করে ‘রাজা' উপাধিতে ভূষিত করলেন। রণজিৎ সিংহ এবার লাহোর দখল করলেন (১৭৯১)। জম্মুর রাজ তার বহুত স্বীকার করে নিলেন । ১৮০২ খ্ৰীষ্টাব্দে জয় করে নিলেন হৃত অমৃতসর । এবারে নিজে “মহারাজ উপাধি নিয়ে স্বনামে মুদ্র প্রচার করলেন । শতদ্রু নদীর পূর্বদিকস্থ মিল্লগুলির অন্তর্কলহের স্বযোগে সেখানে বিস্তার করে দিলেন স্বীয় আধিপত্য। ফলে শতদ্রু থেকে পেশোয়ার, কাশ্মীর থেকে মূলতান পর্যস্ত একটি স্বয়ংশাসিত রাজ্য গড়ে উঠল। একাজ খুব সহজ হয়নি। ইংরেজের প্রবল বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাকে । বিচক্ষণ ও দূরদশী রণজিৎ সিংহ ১৮০৯ খ্ৰীষ্টাব্দে ইংরেজের সঙ্গে সন্ধি করে নিলেন। ১৮৩১ খ্ৰীষ্টাব্দে এটিকে নতুন করে পুনরমুমোদিত করে নেওয়া হয় । শতদ্রু নদী উভয়ের রাজ্য সীমা নির্ধারণ করতে থাকল। পঞ্জীব কেশরীর নেতৃত্বে এক বিরাট শিখরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হল। অনভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের হাতে এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী শিখ সেনাপতিদের কলহে তা বিপর্যস্ত হল। অচিরে মাত্র চার বছরের ব্যবধানে দুটি শিখ যুদ্ধের আবির্ভাবে স্বনির্ভর শিখরাজ্যের চক্র যেন ভেঙ্গে পড়ল । l| २ || আমাদের এই বইটিতে পাঠক শিখ যুদ্ধের বিস্তারিত ইতিহাস দেখতে পাবেন। সেকারণে যথাসংক্ষেপেই এই যুদ্ধদ্বয়ের একটি বিবরণী আমরা এখানে পেশ করতে চাইছি। ১৮৩১ খ্ৰীষ্টাব্দে রণজিৎ সিংহের মৃত্যুর পর শিখরাজ্যে যথেষ্ট গোলমাল দেখা দিতে লাগল। জ্যেষ্ঠপুত্র শের সিংহ ১৮৪৩ খ্ৰীষ্টাব্দে আততায়ীর হাতে নিহত হলে ৫ বছরের শিশুপুত্র দলীপ সিংহকে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করে রাজমাতা জিন্দ কাউর (জিন্দন ) অছিপদে নিযুক্ত হলেন । ১৮৪৬ খ্ৰীষ্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার মহারাণীকে অছিপদ থেকে বিতাড়িত করে নতুন অছিপরিষদ নির্মাণ করে রাজ্য শাসনের ব্যবস্থা করে। এর পূর্বেই ইংরেজদের সঙ্গে শিখেদের যুদ্ধ আরম্ভ হয়। এই যুদ্ধই প্রথম শিখযুদ্ধ নামে পরিচিত। মাত্র তিনমাস স্থায়ী এই যুদ্ধের তীব্রত কম ছিল না। মুড়কি ( ১৮ই ডিসেম্বর ১৮৪৫ ), ফিরোজশাহ (২১-২২শে ডিসেম্বর ), আলিওয়াল (২৮শে জানুয়ারী