পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/১৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিখ-গুরু বা শিক্ষকগণ > Gr উৎকট ইচ্ছায় পরিপূর্ণ হয়। তখনও যাহা জীবন্ত গোবিন্দ তাঁহারই মধ্যে স্বৰ্গীয় শক্তি সঞ্চালিত করিলেন , হৃদয়ে উদ্দীপনার অনলস্রোত প্রবাহিত হইল। সমগ্র শিখজাতি একই জীবন্ত আত্মার অধিকারী। গোবিন্দ প্রচারিত ধর্ম ও উপদেশসমূহ কেবল তাহাজের মানসিক শক্তি উন্নত ও পরিবর্তিত করিয়াছিল ; তাঁহাদের শরীর স্বগঠিত ও ক্ষমতাশালী হইয়াছিল। তাঁহাতে তাহারা অশেষ উন্নতি লাভ করিয়াছিল। এইরূপে শিখ-জাতির স্বাভাবিক প্রকৃতি ও বাহ আকৃতির উন্নতি সাধিত হইয়াছিল। একজন শিখ-রাজাকে র্তাহার প্রতাপশালী দেহ এবং স্বাধীন ও বীরোচিত আকৃতি দেখিয়া সুন্দরন্ধপে চিনিতে পারা যায় । কিন্তু শিখ ধর্মের একজন গুরুকে ততোধিক সহজে চিনিতে পারা যায় ; কারণ র্তাহার আত্মা ঈশ্বর-সান্নিধ্য লাভের জন্য ব্যগ্র ;–র্তাহার আত্মা সর্বদাই ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন। তাহার সেই সমুদায় লক্ষণ দেহে প্রকটিত হয় এবং তাঁহাতেই গুরুকে সহজে চিনিতে পারা যায়।৮ই যাহা হউক, এই সকল পরিবর্তন সত্ত্বেও, অধিকাংশ শিখই হিন্দুবংশজাত। ফলতঃ তাহাঙ্গের দৈনিক রীতি পদ্ধতি এবং চলিত ভাষা ষে সকলই হিন্দুদিগের ন্যায়—তাহাতে কোন সন্দেহ নাই। রাজনৈতিক প্রথা ও কঠোর বিধি-বিধান প্রবর্তিত করিয়া গোবিন্দ শিন্যদিগকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করেন নাই। তথাপি, তাহারা ধর্ম-বিশ্বাস এবং সাংসারিক কামনায় অন্যান্য ভারতীয় জাতি অপেক্ষা সম্পূর্ণরূপে স্বতন্ত্র। তাহার একই উদ্দেশ্বে পরিচালিত হইভ ; সকলেই একই ভাব –একই চিন্তা, মনোমধ্যে পোষণ করিত। এই অভিন্ন উদ্বেগু সাধনেই তাহার একতা-স্বত্রে একই সম্প্রদায়ভুক্ত হইয়াছিল। তাহাদের এ উদ্বেগু - এ ভাব আর কাহারও মনে স্থান পায় নাই। এক সময়ে একটি সম্প্রদায় খৃষ্ট ধর্মে দীক্ষিত হয় ; গ্রীস ও রোম দেশের পণ্ডিতগণ এই নব জীবন প্রাপ্ত ব্যক্তিগণের প্রকৃত শক্তি ও তেজ উপলব্ধি করিতে পারেন নাই। স্বতরাং শিখদিগের প্রকৃতশক্তি বুঝিতে না পারিয়া, তদ্বিষয়ে যে সকল ভ্ৰমাত্মক ঘটনার অবতারণা দেখা যায়, তাঁহাতে জনসাধারণের চমৎকৃত হইবার কোন কারণ নাই, অথবা ইংরাজ গ্রন্থকারদিগের ৮৪ । এইরূপ বাহিক পরিবর্তন প্রথমে স্তার আলেক্জান্দার বারণেস লক্ষ্য করিয়াছেন। (Travels i 285, and ii 39.) Afrātūta (History of India, ii. 594.) R. Astone (Sketch. p. 129) তাহ সংক্ষিপ্তরূপে বর্ণনা করিয়াছেন। হিন্দু পরিবারের কতকগুলি বংশধর এক কিংবা দুই শতাব্দী পূর্বে মুসলমান-ধর্ম গ্রহণ করিয়াছিল। তাহাদিগের ব্যক্তিগত আকৃতির সহিত মালব এবং উত্তর ভারতবর্ষের নানা স্থানের ব্রাহ্মণ-ধর্মাবলম্বী অধিবাসিগণের প্রতিকৃতির বিশেষরূপে তুলনা করা যাইতে পারে —তাহাদের বাহিক আকৃতি ও পরিচ্ছদেও একইরূপ পরিবর্তন দৃষ্ট হইতে •rto fostée (Physical History of Mankind, i. 183 and i. 191. ) test-offs 'হটেনটট’ ও ‘এসকুইম্যাক্স’দিগের স্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করিয়াছেন ; কিন্তু তিনি তাহদের স্বাভাবিক মুখ স্ত্রীর কোন পরিবর্তন দেখেন নাই। ইহাতে বুঝা যায়-অমুসন্ধিৎসু ইংরাজগণ প্রকৃত বিষয়ের কোন তথ্য নিরূপণ করেন না ; অথবা পূর্ব-বর্ণিত অসভ্য জাতিগণ স্বল্প ব্যগ্রতা ও ঔৎস্থক্যের সঠিত এই নূতন ধর্ম গ্রহণ করিয়াছেন,—তষিয়েও তাছার কোন বিবরণ প্রদান করেন নাই।