পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/১৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


H R • শিখ-ইতিহাস আবার এরূপ সর্তে রাজ্যভোগ করিত যে, প্রধান রাজশক্তি প্রত্যাহত হইলেই, তাতারা স্বাধীনতা অবলম্বন করিত। ফলতঃ, এই সমস্ত শিখ কাহারও প্রজা নহে ; কিংবা কোন জায়গীরদারের অধীনতা স্বীকার করিত না । তাহারা স্বেচ্ছাক্রমে যে কোন ব্যক্তির অধীনে কার্য গ্রহণ করিত ; তাহারা নিজেরাই সৈন্যদল পরিচালনা করিত ; ‘খালসা" অথবা সাধারণ-তন্ত্রের নামে নূতন নূতন রাজ্য অধিকার করিয়া নিজেরাই তাহা ভোগদখল করিত । শিখগণ কখনও কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির অধীনতা পাশে চিরকাল আবদ্ধ থাকিত ন –কিংবা কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির সহিত পূর্বাপর একতা স্বত্রে আবদ্ধ হুইত না । স্বতরাং তাহাদের এই চির-পরিবর্তনশীল বিধি-ব্যবস্থ', ‘রাজনৈতিক শাসনপ্রণালী’ নামে অভিহিত হইতে পারে না । কোন রীতি-পদ্ধতির রেখামাত্র কল্পনা করিতে হইলে, প্রথমত: স্বাধীন শিখদিগের বিষয় উল্লেখ করা কর্তব্য। আমাদের প্রকৃতিগত নিয়মাবলী প্রণিধান পূর্বক বিচার করিয়া দেখিলেও তাহার অসংখ্য প্রমাণ পাওয়া যাইতে পারে। পরন্তু তৎসমন্ধে সভাসমিতির বিধিবদ্ধ নিয়মাবলী কিংবা তাঁহাদের ধর্মগুরুদিগের উপদেশসমূহ আলোচনা করা মিশ্রয়োজন । যাহা হউক, ক্ষমতাশালী ব্যক্তি আপন প্রভুত্ব বিস্তার করিয়া অপরের শ্রদ্ধাভাজন হইতে অভিলাষী হইয়া উঠিলেন । পশুবলে আপনাপন ক্ষমতা প্রয়োগে যাহা আয়ত্ত করা যাইতে পারে, তাহারা তৎসমুদায় অধিকার করিতে উৎকট প্রয়াসী হইলেন । সুতরাং ভিন্ন ভিন্ন জাতি ও বংশ পরস্পর একতাস্থত্রে আবদ্ধ হইলেও পরম্পর পরম্পরকে আক্রমণ করিতে র্তাহারা কুষ্ঠিত হইতেন না। যাহা হউক, ঈশ্বরাকুগ্রহের কঠোর অনুশাসন প্রত্যেক শিখের মনেই জাগরুক ছিল । শিখধর্মাবলম্বী প্রত্যেক ব্যক্তিই ঈশ্বর-নির্দিষ্ট 'খালসার প্রতি ভক্তি ও সম্মান প্রদর্শন করিত। কিন্তু প্রগাঢ় ধর্মবিশ্বাসে নবশক্তি সঞ্চারিত করিয়া, সেই ধর্মোন্মত্ত জনসাধারণকে উৎসাহিত ও পরিচালিত করিতে হইলে, অসীম প্রতিভা ও অবস্থা বিশেষের প্রক্রিয়া একমাত্র আবখ্যক । অতঃপর শিখগণ বিভিন্ন সম্প্রদায়ে পরিণত হইল। এই সমুদায় সম্প্রদায়ের সংখ্যা সর্বশুদ্ধ বারটি । প্রত্যেক সন্ধিবদ্ধ সম্প্রদায় "মিছিল’ নামে অভিহিত হইত। ‘মিছিল’ —একটি আরবী শব্দ ; ইহার অর্থ,— তুল্য বা সমান-পদস্থ ৩৮ প্রত্যেক মিছিল এক একটি ‘সর্দারের'আজ্ঞানুসারে পরিচালিত হইত ; সচরাচর একজন রাজা বা সেনাপতি এই ‘সর্দার’ পদে বরিত হইতেন। কিন্তু এই উপাধি তখন অতি সাধারণ ভাবে প্রযুক্ত হইত। সামান্য একটি দলের নেতা হইতে সেই সম্প্রদায়ের অন্তর্গত তুল্য-সত্বাধিকারী সিংদিগের ৩৬৯ মিছিল' শব্দের ইহাই বুৎপত্তিগত অর্থ। তথাপি মনে রাখা উচিত যে, আরবী শব্দ “মাছলাহাট" ("misl’ শব্দের যেরূপ উচ্চারণ প্রচলিত আছে, তদ্ব্যতীত এই শব্দের উচ্চারণ কালে আর একটি "s" যোগ করিতে হয় ) অন্ত অর্থে প্রযুক্ত হয়। ইহার অর্থ—‘অস্ত্র-শস্ত্র-সুসজ্জিত ব্যক্তি অধৰ৷ ‘রণকুশল জাতি’। ভারতবর্থে “মিছিল’ শব্দের অর্থ অন্তরূপ ইহাতে সাধারণতঃ কাগজপত্রের ফাইল অথবা সজ্জিত বস্তু বা সাজান জিনিষ বুঝায় ।