পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/২৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রণজিৎ সিংহের প্রাধান্ত প্রতিষ্ঠা Σ &νθ. নেই উন্নভিন্ন স্কুলীকৃত কাবণ। প্রত্যেক নবোখানশীল জাতি যে উপযোগী তেজ-শক্তি প্রভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ কবিয়া থাকে, প্রত্যেক শিখের হৃদয়ে সে শক্তি জাগরিত হইয়াছিল ; মহাপ্ৰাণ ধর্মোপদেষ্টাগণ সাধারণের মঙ্গল-বিধানার্থ উদেশু-সাধন এবং ভগৈশ্বৰ্য-বিষয়ক যে জ্ঞান ও ভাবের উন্মেষণ করিয়া গিয়াছিলেন, প্রত্যেক শিখ হৃদয়ে তাহ বন্ধমূল হইয়াছিল । এই সমস্ত কাবণেই শিখ-জাতি এত উন্নতি লাভ করিয়াছিল। রাজপুত ও পাঠানগণ অতি সৎসাহসী এবং সদাশয় বীরজাতি বলিয়া পবিচিত ; কিন্তু তাহদেব সে গর্ব ও সাহসিকতা ব্যক্তিগত , পবন্ধ তাহা তাঁহাদেব প্রাচীন বশ এবং শ্রেষ্ঠকুলব্যঞ্জক। তাহারা আপনাপন বংশের অযোগ্য ও অমর্যাদাসূচক কোনও কার্থেব অনুষ্ঠান করে না, স্বজাতীয় রাজনৈতিক উন্নতি সাধন তাহারা সম্পূর্ণ উদাসীন। অন্ত দিকে, বিদেশীব কঠোর শাসন হইতে মুক্তিলাভেব অভিলাষে মারহাট্টাগণ বহু চেষ্টা করিয়াছিল , কিন্তু কোন নির্দিষ্ট আশা বা উদ্দেশ্বে অনুপ্রাণিত হইয়া, তাহার কার্যে প্রবৃত্ত হয় নাই । পরস্তু তাহাদের সকল চেষ্টা, সকল উদ্যমই উদেখবিহীন ও নিরাশাপূর্ণ। তাহারা স্বাধীন হইয়াছিল বটে, কিন্তু কিরূপে সে স্বাধীনতা রক্ষা কবিতে হয, তাহা তাহাবা জানিত না। সেই কাবণেই একজন স্বচতুব ব্রাহ্মণ, তাহাদের উদ্বেশু-বিহীন কার্য-কলাপ অবলম্বন করিয়া, তাহাদিগকে আপন উদ্বেশু-সাধনে নিখোজিত করিয়াছিল—অশিক্ষিত শূদ্রগণের বীরোচিত কার্থেব উপব নির্ভব কবিয়া, “পেশোয়া”-বংশের প্রতিষ্ঠা করিতে সমর্থ হইয়াছিল। দুরাকাজক্ষা-পরবশ সৈন্যগণ শিবাজী-অনুপ্রাণিত শক্তিব আর একরূপ সুবিধাতুযায়ী ব্যবহার কবিতে লাগিল। কিন্তু সেই জীবনীশক্তি কোনরূপ সর্বসামঞ্জস্তব্যঞ্জক ধর্মনীতি প্রবর্তনীয় অনুমোদিত বা পরিবক্ষিত না হওয়ায়, কয়েক পুরুষেব মধ্যেই, মুসলমানগণের সর্বশেষ চেষ্টার ফলে, সমগ্র মাবহাট্ট জাতি মুসলমানদেব বগুত স্বীকার কবিল। বৈদেশিক ইংবাজদিগের শত্ৰুতাচরণে মারহাট্টাগণ বর্তমান হীন অবস্থা প্রাপ্ত হইয়াছে। তৎকালে অকপট মাবহাটা কদাচিৎ দৃষ্টগোচর হইত,—তাহীদের বংশ লোপ প্রাপ্ত হইয়াছিল। বিগ ও শতাব্দীতেও মেষপালক ও বৃষ জাতীয় বর্শাধারী মহারাষ্ট্রীয় সৈন্য দৃষ্টগোচৰ হইত। গুখাদিগের সম্বন্ধেও সেইরূপ মন্তব্য প্রকাশ করা যাইতে পারে। সেই ভারতীয় জাতি স্বাভাবিক প্রতিভাবলে পরবর্তী সময়ে বিশেষ প্রতিষ্ঠান্বিত হইয়াছিল , কিন্তু তাহাতে কোনরূপ ধর্মবিষয়ক আশা-ভরসার মিশ্রণ বর্তমান ছিল না। তাহার রাজ্যেশ্বর হইয়াছিল বটে, কিন্তু আপনাপন চিন্তা-প্রবাহের নিদর্শন স্বরূপ কেহই বিশেষ কোন সমাজ-প্রতিষ্ঠা বা নিয়ম-প্রণালী বিধিবদ্ধ কবিয়া খ্যাতি লাভ করিতে পারে নাই , জায়গীরদারগণের বিলাদ-বিসম্বাদ ও অজ্ঞ যাজকদলের কুসংস্কার প্রভাবে প্রথম উদ্দীপনার প্রাণভূত শক্তির ক্রমেই হ্রাস হইয়া আসিতেছিল। এই সমুদায় জাতি এবং ভারতীয় যোদ্ধগণের পঞ্চম জাতির মধ্যে পরম্পর পার্থক্য সহজেই অন্থস্থত হইবে। শিখ জাতির সকলেই কেবল নিজের উন্নতি সাধন করে যত্নবান , যৌবন-স্থলভ স্মৃতিশক্তি প্রভাবে সহজেই যে কোন ধারণা তাঁহাঙ্গের মনে বদ্ধমূল হইয়া থাকে , অথবা অত্যধিক স্থবিধাজনক জাকার ধারণ করে। অবিচলিত ধর্মবিশ্বাস হেতু, দারিত্র্যের কঠোর