পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/৩৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૭૨8 শিখ-ইতিহাস সৈন্য পরিশেষে তাহাদিগের গতিরোধ করিতে সক্ষম হয়।*১ জানুয়ারী মাসের প্রারম্ভে লুধিয়ানার নিকটবর্তী বাদোয়ালের জায়গীর হইতে পরিবারবর্গকে স্থানান্তরিত করিবার জন্য লাদোয়ার রাজা প্রত্যাবর্তন করেন । এই সময়ে তৎকর্তৃক লুধিয়ানার সেনানিবাসের কিয়দংশ অগ্নি সংযোগে ভস্মীভূত হয়, তৎকালে লুধিয়ানায় অল্পমাত্র পদাতিক সৈন্য ছিল, অশ্বারোহী সৈন্য আদৌ ছিল না ; সেই সুযোগেই তিনি সেনানিবাস ধ্বংস করিতে পারিয়াছিলেন । এই সময়ে বিপক্ষদলের অলস ভাব উপলব্ধি করিয়া প্রধান শিখসৈন্যদল শতদ্রু নদী পুনরায় অতিক্রম করিতে লাগিল এবং পারাপারের জন্য তাহারা অবাধে একটি সেতু নিৰ্মাণ করিতে প্রবৃত্ত হইল। অনিচ্ছা সত্বেও ইংরাজসৈন্য নিরস্ত থাকিতে বাধ্য হইল ; তাহারা মনে করিল,—সে সময়ে শিখদিগকে আক্রমণ করিলে, যুদ্ধ বাধিবার সম্ভাবনা ; এবং যুদ্ধোপকরণ প্রভৃতির অভাবে নিজেদের জয়লাভ সম্বন্ধে বিশেষ অস্তরায় ঘটিতে পারে। যাহা হইক, স্বভাবতঃই শিখগণ উত্তেজিত হইয়া উঠিল, এবং পুনরায় ঘৃণিত বৈদেশিকগণকে আক্রমণ করিবে বলিয়া ঘোষণা করিল। তাহদের এই আস্ফালনে কেহ সম্পূর্ণরূপ অবিশ্বাস করিতে পারিলেন না ; ফিরোজপুর ইংরাজদিগের সীমান্ত প্রদেশরূপে নির্দিষ্ট হওয়ায় অসুবিধা ক্রমে ক্রমেই প্রতীয়মান হইতে লাগিল। ইংরাজগণ এতদিন পর্যন্ত কেবল কাগজ কলমে যে সকল দেশ জয় করিয়াছিলেন, কিন্তু তরবারির দ্বারা তাহা শাসন-সংরক্ষণে কৃতকার্য হন নাই, এক্ষণে সেই সকল দেশ হইতে সাহায্য প্রাপ্তি, তাহাদের পক্ষে দুরাশা হইয়া দাড়াইল । চুমকোঁড় হইতে গোবিন্দ সিংহের পলায়নের সময় তাহার অনুসরণ করিতে গিয়া, মোগলবাহিনী মুকুতসর বা মুক্তিসরের যে ক্ষুদ্র দুর্গে ইতিপূর্বে তৎকর্তৃক পরাজিত হইয়াছিল, প্রাদেশিক ইংরাজ সৈন্যদলের এবং বিকানীর হইতে আনীত অতিরিক্ত সৈন্যদলের আক্রমণেও এক্ষণে সেই দুর্গ শিখ সাহায্যে আত্মরক্ষায় সমর্থ হইল। বলা বাহুল্য, বিকানীরের সৈন্যদল প্রাদেশিক ইংরেজসৈন্যের ন্যায় যুদ্ধোপকরণ বিহীন হইয়া পড়িয়াছিল। ধর্মকোটের ক্ষুদ্র দুর্গও এই প্রকার ইংরেজগণ কর্তৃক দক্ষিণ ৪১। কি জন্ত সে সময়ে লুধিয়ানায় উপযুক্তরূপ সৈন্য সমাবেশ হয় নাই, তাহার কারণ বিশেষ কিছু জানিতে পারা যায় না। কি জন্যই বা ফিঙ্কসহরের যুদ্ধের পর, মিরাট হইতে সৈন্ত আসিয়া লুধিয়ান বেষ্টন করে নাই, তাহার কারণও অবিদিত। ফিরোজপুরের অরক্ষিত অবস্থায় সৈন্যদল প্রেরণে ও তাহার দৃঢ়তা সম্পাদনে, গবর্ণর জেনারেল প্রধানতঃ মনোযোগী হইয়াছিলেন। সেই স্থানের সামরিক অহুবিধার জন্য তিনি বিশেষ দুঃখপ্রকাশ করেন। ১৮৭৯ খৃষ্টাব্দের প্রথমে পরামর্শ হয়, শতদ্রুর নিকটবতী প্রদেশসমূহ স্বরক্ষিত করাই কর্তব্য। শিখদিগের সহিত যুদ্ধ পরিহার পক্ষে, তাহাই প্রকৃত বিজ্ঞতার কার্য বলিয়। মনে হয়। এই বিপৎপাতের মধ্যেও সম্ভবতঃ গবর্ণর-জেনারেলের মনে এই ভাবের উদয় इहेब्रैडल । পাঞ্জাবের রাজধানীর এবং শিখসৈন্যগণের প্রধান দলের চতুষ্পার্শে সৈন্ত সমাবেশের জন্য, লর্ড হার্ডিঞ্জ, সিন্ধুদেশ হইতে সার চার্লস নেপিয়ারকে অগ্রসর হইতে আদেশ দিয়াছিলেন। মুলতানের প্রতি তিনি এ সময়ে বিশেষ মনোযোগ করেন নাই। তিনি স্পষ্টই বলিয়াছিলেন, পুনঃপুনঃ আক্রমণের সময় উপস্থিত ছুইলে, ৰিজনী সৈন্যদলকে তিনি মূলতানে প্রেরণ করিবেন।