পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/৩৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিখ ইতিহাস وعاونانية মনে করিলেন, এইরূপ আক্রমণ প্রণালী দূরদর্শিতার পরিচায়ক বটে, কিন্তু বড়ই ক্লেশজনক। তখন তাহারা স্থির করিলেন, শত্রু পক্ষীয় দুর্গ-প্রাচীরের পূর্বভাগস্থিত, কোন নির্দিষ্ট স্থানে সারি সারি বহুসংখ্যক কামান সংস্থাপিত হইবে ; যখন নিরবিচ্ছিন্ন গোলাগুলি বর্ষণে শিধগণ বিচলিত হইয়া উঠিবে, এবং তাহাঁদের দুর্গ প্রাচীর ধ্বংসপ্রায় হইবে, তখন প্রভূতবলশালী তিনটি স্থসজ্জিত সৈন্যদল শ্রেণীবদ্ধ হইয়া বিপক্ষদুর্গের দক্ষিণভাগ বা অরক্ষণীয় দুর্বল অংশ আক্রমণ করিবে ; তখন সেই তিন সৈন্যদলের মোট সংখ্যা অনূন ১৫ সহস্ৰ হইয়া দাড়াইয়াছিল। এক্ষণে বৃহৎ একদল ইংরাজ অশ্বারোহী সৈন্য লাল সিংহের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য নিযুক্ত হইল। এই যুদ্ধে জয়লাভ হইবামাত্র, যাহাতে বাহুবলে ইংরাজসৈন্য শতদ্রু অতিক্রম করিতে সমর্থ হয়, তজ্জন্য ইংরাজদিগের দুইটি সৈন্যদল ফিরোজপুরের সন্নিকটে সুসজ্জিত অবস্থায় রহিল। কি উপায়ে, কি প্রণালীতে শিখদিগকে আক্রমণ করিতে হইবে, তাহার সঠিক বৃত্তাস্ত কাহারও নিকট প্রকাশ করা হইল না। কারণ, ইংরাজ পক্ষের অসতর্কতায় এবং অবহেলায় যে পরিদর্শনস্থল কিছুকাল পূর্বে শিখগণ অধিকার করিয়া লইয়াছিল, তত্ৰত্য শিখদিগকে হতবুদ্ধি করিয়া ফেলবার জন্যই এই উপায় অবলম্বিত হইয়াছিল । ৯ই ফেব্রুয়ারী অপরাহ এবং সায়ংকাল এইরূপ আয়োজনেই কাটিয়া গেল ; সকলেই তৎসম্পর্কে ব্যস্ত রহিনে । যে সকল সৈন্য-শিবির হইতে এ পর্যন্ত কোন ইংরাজসৈন্য যুদ্ধে নিযুক্ত নাই, সেই সকল স্থান হইতেও সৈন্যগণ আসিয়া সম্মিলিত হইল। সৈন্যগণ শ্রেণীবদ্ধ হইয়া দাড়াইল ; বীরত্ব প্রকাশে যে কর্তব্য সাধন করিতে হইবে, সৈন্যগণ তাহাই আলোচনা করিতে লাগিল ; আদেশ গ্রহণ এবং আদেশ-জ্ঞাপনের জন্য, ‘অফিসার” বা কর্মচারী সৈন্য ক্ষিপ্রকারিতা সহকারে অশ্ব পরিচালনা করিতে থাকিলেন । সেই রাত্রে সামান্য বিশ্রামের জন্য, কিংবা মূহুর্তমাত্র নির্জন পরামর্শের জন্য, কাহারও অবসর ছিল না। সর্বদাই সৈন্যদলের পর সৈন্যদল যুদ্ধক্ষেত্র অভিমুখে অগ্রসর হইতে ছিল । সর্বদাই গোলার শব্দ এবং অস্ত্রের ঝঞ্চনা শুনা যাইতেছিল ; সেই অনল বর্ষণের উজ্জল আলোক মধ্যে শান্ত্রিগণ ধীর পদবিক্ষেপে বিচরণ করিতেছিল। সে দৃশ্বে, অমর কবি সেক্সপীয়রের প্রতিভা প্রভাবে, চিরস্মরণীয় এজিনকোর্ট যুদ্ধের প্রারম্ভে, এবং বীর নৃপতির স্থত স্বতঃই মনোমধ্যে উদিত হইতে লাগিল। ৪৯ ক্রমে ক্রমে রজনীর গাঢ় অন্ধকারে দিজগুল ছাইয়া ফেলিল। প্রকৃতি দেবী যেন নীলাম্বর পরিধান করিলেন। নিবিড় অন্ধকার ; অধিকন্তু অনন্তব্যাপী কুজ,ঝটিকায়, অন্ধতমসাচ্ছন্ন রজনীর গাঢ় অন্ধকার যেন আরও গভীর হইয়াছিল। সেই ভয়াবহ শিব পদবিক্ষেপে বৃটিশ-সৈন্যশ্রেণী ক্রমশঃ অগ্রসর হইতে লাগিল। বাঞ্ছিত সেনানিবাসে উপনীত হইয়া, ইংরাজপক্ষ তথায় কোন শিখসৈন্য দেখিতে পাইল না । বোধ হইল, যেন শিখগণ সর্বত্রই ভয়-বিস্ময়ে অভিভূত হইয়াছে। যখন আক্রমণের কাল •» i Shakespere Henry v. Act. iv. Chorus stxvtw **fi** •iffè æ