পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/৪১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


©ፃ • শিখ-ইতিহাস পরিচালিত সৈন্যদল চন্দ্ৰ ভাগা নদীর পশ্চিম পারে অবস্থিতি করিতে লাগিল । ফলতঃ, ভিন দলে বিভক্ত প্রায় দ্বিগুণ সৈন্য মূলারাজের সৈন্যগণকে আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হইয়া রহিল। মূগরাজের সেনাপতি রঙ্গ রাম স্বজাবাদের তিন মাইল দক্ষিণে মুলতানের পথে শিবির সন্নিবেশ করিলেন । ফতে মহম্মদের সৈন্যদল, ১৫ মাইল দক্ষিণে গোয়েন নামক স্থানে অবস্থিতি করিতে লাগিল ; এবং ইংরাজ সেনাপতিদ্বয়ের পরিচালিত সৈন্যগণ খাগড় হইতে প্রার ১২ মাইল দক্ষিণে গালিয়ানওয়ালার পার-ঘাটের নিকট শিবির স্থাপন করিল। তিনটি সৈন্যদলে যেন একটি ত্রিভূজ গঠিত হইল। তাহার এক কোণে মূগরাজের সৈন্যদল, এক কোণে ভাওয়ালপুরের (দাউদপুত্রদিগের ) সৈন্যদল এবং অপর কোণে ইংরাজ সেনাপতিদ্বয়ের পরিচালিত সৈন্যদল অবস্থিতি করিতে লাগিল । সেই বন্দোবস্তে ভাওয়ালপুর সৈন্যদল যেন মধ্যস্থলে অবস্থিত হইল ; মূগরাজের এবং বৃটিশ-পক্ষের সৈন্যদল তাহার দুই পার্থে বিদ্যমান রহিল । ভাওয়ালপুরের পশ্চাতে থাকিয়া বৃটিশসৈন্যগণ প্রকারাস্তরে আত্মরক্ষার পথ পরিষ্কার করিয়া রাখিল । যদি পরাজয়ই হয়, তবে যা ‘শক্ৰ পরে পরে’ । এই সময়ে ক্ষিপ্রকারিতার সহিত রঙ্গ রাম যদি ভাওয়ালপুরের সৈন্যদলকে আক্রমণ করিতে পারিতেন, তাহা হইলে, এই ক্ষেত্রেই তাহার জয়লাভের সম্পর্ণ সম্ভাবনা ছিল। যদিও তাহার সৈন্ত সংখ্যা ভাওয়ালপুরের সৈন্য-সমষ্টির সমান ছিল না, কিন্তু তাহার সৈন্যদল স্বশিক্ষিত এবং স্বদেশপ্ৰাণ ; স্বতরাং এ ক্ষেত্রে যুদ্ধ উপস্থিত হইলে, তাহার বিজয়-লাভ-পক্ষে সংশয়ের কোনই সম্ভাবনা ছিল না । কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত যুদ্ধ স্থগিত রাখিয়া, তিনি এই শুভ-সুযোগ পরিত্যাগ করিলেন। তিনি মনে করিয়াছিলেন, —“কিনারীর নিকট বৃটিশ সৈন্য নদী পার হইবে ; স্বতরাং আপন শিবির হইতে ৮ মাইল দূরে 'বুকরি গ্রামাভিমুখে সৈন্যপরিচালনা করিয়া, বৃটিশ সৈন্যগণের নদী পারে বাধা দিতে অগ্রসর হইলেন । আগে পারাপারের সময় বৃটিশ-সৈন্যগণকে বিধ্বস্ত করিয়া পরিশেষে নিঃসহায় ভাওয়াল-পুরের সৈন্যদলকে পরাজিত করিবেন, ইহাই তাহার উদ্দেশ্য হইল । কিন্তু তাহার এই উদ্বেগু বুঝিতে কাহারও বাকী রহিল না ; উদ্বেগু বুঝিতে পারিয়া, ভাওয়ালপুরের সৈন্যদল তাড়াতাড়ি কিনারী অভিমুখে অগ্রসর হইল। সেখানে ফৌজদার খার অধীনে, বৃটিশ-পক্ষের তিন হাজার পাঠান-সৈন্য নদী পার হইয় তাহদের দলে যোগদান করিল । যে পথে রঙ্গ রামের সৈন্যদল অগ্রসর হইবার সম্ভাবনা ছিল, ভাওয়ালপুরের এবং ফৌজদার র্থার সমবেত সৈন্যগণ সেই পথ আটকাইয়া রহিল। এই সময় ১৮ই জুন প্রত্যুষে, আরও কতকগুলি সৈন্য লইয়া, লেফট্‌নাণ্ট এডওয়ার্ডস চন্দ্রভাগ নদী পার হইলেন। জেনারেল কটলাণ্ডও অবশিষ্টসৈন্যদল সঙ্গে লইয়া পশ্চাদমুসরণ করিবেন —স্থির রহিল। নদী পার হইয়াই এডওয়ার্ডস ঘন ঘন কামান গর্জন শুনিয়া চমকিয়া উঠিলেন। তিনি বুৰিতে পারিলেন,—যুদ্ধ আরম্ভ হইয়াছে । রঙ্গরাম অতি প্রত্যুবেই বুকরি হইতে দ্রুতগতিতে পার ঘাট আক্রমণ করিতে অগ্রসর হইয়াছিলেন; কিন্তু সেখানে উপস্থিত হইয়াই দেখিলেন, বিপক্ষগণ কর্তৃক পূর্বেই পার-ঘাট অধিকৃত হইয়াছে । তখন