পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/৪১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্বিতীয় শিখ-যুদ্ধ ●ፃ » অবিলম্বে প্রত্যাগত হইয়া, তিনি কুনারের পাহাড়ে সেনানিবাস স্থাপন করিলেন, এবং সেই পাহাড়ের উপর হইতে গোলা চালাইতে লাগিলেন । সেই গোলাবর্ষণে, ভাওয়ালপুরের সৈন্যদল বিধ্বস্ত হইতে লাগিল ; তাহারা হতাশ্বাস হইয়া পলায়নের পথ অন্বেষণ করিতে লাগিল ! ইত্যবসরে সসৈন্য লেফটনাণ্ট এডওয়ার্ডস আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তিমি পুনঃপুনঃ ভাওয়ালপুরের সৈন্যদলকে উৎসাহিত করিতে লাগিলেন। কিন্তু তাহাঙ্গের সাধ্য কি যে, তাহার। মূলতানের সৈন্যের গতিরোধ করিবে । ছয় ঘণ্টা কাল, ঘোরতর যুদ্ধ চলিল। মনে হইল,—বুঝি বা বিজয়লক্ষ্মী আবার আসিয়া শিখ-শৌর্যের অম্বশায়িনী হইলেন। ক্ষণকালের জন্য রণক্ষেত্র নিবাত-নিষ্কম্প ভাব ধারণ করিল। “খালসা" সৈন্য বুঝিল,—বিপক্ষগণ পরাজিত হইয়াছে, আর তাহাদের ভয়ের কারণ কিছুই নাই । বহুদিনের পর, আবার গুরু নামের জয়ধ্বনিতে শিখ-শিবির বিকম্পিত হইল । শিখ-শিবিরে এবম্বিধ আনন্দের সময়ে বৃটিশ-পক্ষের আর ছয়টি নূতন কামান আসিয়া সহসা সমরক্ষেত্র প্রতিধ্বনিত করিল। দুই দল পদাতিক সৈন্যও নূতন আসিয়া বৃটিশ-পক্ষে যোগ দিল । এই অভাবনীয় পরিবর্তনে শিখগণ চমকিয়া উঠিল । সে ক্ষেত্রেও তাহারা শত্রুসৈন্যের গতিরোধের চেষ্টা করিল বটে, কিন্তু আর তাহার কৃতকার্য হইতে পারিল না । বহুক্ষণ যুদ্ধের পর, শিখগণ পশ্চাৎপদ হইতে বাধ্য হইল । তখন, বৃটিশ-পক্ষের নূতন সৈন্য সোৎসাহে ধাবমান হইয়া, শিখসৈন্যের শিবির অধিকার করিয়া বসিল। শিখদিগের বহু যুদ্ধোপকরণ, আটটি কামান, এবং গোলাবারুদ, বৃটিশ-পক্ষের হস্তগত হইল। এই যুদ্ধে ইংরেজ পক্ষে ৩•• সৈন্য হত ও আহত হইয়াছিল ; এবং ৫•• শত শিখ-সৈন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়াছিল । অতঃপর শিখগণ পথিমধ্যে আর কোথাও বৃটিশ-পক্ষকে বাধা দিবার চেষ্টা না করিয়া, মুলতান অভিমুখে অগ্রসর হইল । মূলতানে শিখ-ইংরেজে ঘোর যুদ্ধের আয়োজন চলিতে লাগিল। এইরূপ কিনারীর যুদ্ধে বৃটিশ-পক্ষের জয়লাভ হইলে, স্বজাবাদের কেল্পাঞ্জার' (দুর্গাধিপতি) স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া ইংরেজের বগুতা স্বীকার করিল। অন্যান্য আরও অনেকে তাহার পদাঙ্ক অকুসরণে কৃতকৃতাৰ্থ হইল। সংসারের বিচিত্র গতি । যখনই যে পক্ষের জয়লাভ হয়, সকলেই তখন সেই পক্ষ অবলম্বন করে। স্বতরাং কিনারীর যুদ্ধে ইংরেজের জয়লাভের পর বহুলোক যে ইংরেজের পক্ষ অবলম্বন করিবে, তাহাতে আর আশ্চর্য্য কি ! এইবার অধিকতর উৎসাহিত হইয়া, লেফটনাণ্ট এডওয়ার্ডস পুনরায় ২২শে জুন লাহোরের রেসিডেন্টকে এক পত্র লিখিলেন। অবিলম্বে মুলতান আক্রমণে আর ইতস্তত্ব করা কর্তব্য নহে,—ইহাই তাহার অভিপ্রায় । সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি কামান, এবং দুর্গধবংসের উপযোগী সরঞ্জামাদিও চাহিয়া পাঠাইলেন। মেজর নেপিয়র লাহোর হইতে আসিয় তাহার সাহায্যার্থ যোগদান করেন, তাহাও এডওয়াডসের প্রার্থনা ছিল। এডওয়ার্ডস মনে করিয়াছিলেন,—আর কোথাও বাধা পাইবেন না ; একেবারেই দুর্গ আক্রমণ করিবেন। -