পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/৪২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মুলতান অধিকার ∞ፃፃ আফগানগণের কেহ কেহ যে এই সময়ে ইংরেজের বিরুদ্ধতাচরণ করিয়াছিল, পরবর্তী ঘটনা-পরম্পরায় তাহ প্রতীয়মান হয়। অন্য পক্ষে, মূলরাজের বা শিখ আধিপত্যবিস্তারের বিরুদ্ধেও যে চক্রান্তের অভাব ছিল না,—সে চক্রান্ত, সে বড়খন্ত্রও যে অনেকগুণে প্রবল হইয়া দাড়াইয়াছিল, তাহা বলাই বাহুল্য। যে ষড়যন্ত্রে, যে চক্রাস্তে, ভারতের সকল শক্তিই বিপর্যন্ত হইয়াছে, সেই ষড়যন্ত্রই এ ক্ষেত্রেও পূর্ণ প্রভাব বিস্তার করিয়াছিল। দ্বিতীয়বার মূলতান আক্রমণে অগ্রসর হইয়া, ইংরেজ সৈন্য প্রথমে দুর্গ-অধিকারে আকিঞ্চন প্রকাশ করিল না। প্রথমতঃ তাহারা নগর-প্রাকারের উত্তর-পূর্ব কোণে উপস্থিত হইয়া, সহরতলীর প্রতি গোলাবর্ষণ আরম্ভ করিল। সেই সহরতলীর অন্তর্গত উজীরাবাদ নামক স্থানে মূলরাজের পিতা সোহান মল্পের সমাধি বিদ্যমান। মূলরাজের প্রাসাদ ‘আম খাসও সেই পল্লীর অন্তর্গত। সহসা সেই পল্লী আক্রান্ত হইবে, মূলরাজ তাহ মনে করেন নাই। সুতরাং অল্পায়াসে এক দিনের মধ্যেই সেই পল্লী বিপর্যস্ত হইল । সেই আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে, নগর-প্রাকারের অতি সন্নিকটে ইংরাজ-পক্ষ সৈন্য স্থাপন করিলেন। ৩০শে ডিসেম্বর পর্যস্ত এই ভাবে কাটিয়া গেল। ঐ দিন হঠাৎ ইংরেজপক্ষের একটি গোলা দুর্গের অভ্যস্তরে বারুদ-ঘরে গিয়া পতিত হইল। বারুদ-ঘরে গোল পতিত হওয়ায় কি সর্বনাশ উপস্থিত হইল, তাহা বর্ণনার বিষয় নহে। সেই বারুদ-ঘরে চারি লক্ষ পাউণ্ড বারুদ মজুত ছিল। গোলা পতিত হওয়ায়, বারুদধানা ধুধু জলিয়া উঠিল ; ভীষণ অগ্নিস্রাবে দুৰ্গরক্ষী পাঁচ শত শিখ-সৈন্য নিহত হইল ; দুর্গমধ্যে ঘোর আর্তনাদ উখিত হইল। এইবার মূলরাজ বুঝিলেন-বিধি বাম ! বুঝিলেন,—শিখের ভবিষ্যৎ অন্ধকারময় ! বুঝিলেন—বিধাতার ইচ্ছা নয় যে, আবার শিখ জাতি জাগিয়া উঠে । তাহা না হইলে, এমন দিনে এমন বিপদ কি কখনও উপস্থিত হয়। এই দুর্ঘটনায় শিখ-সৈন্য হতাশ-সাগরে নিমগ্ন হইল ; কে যেন তাঁহাদের প্রাণের ভিতর সঞ্জীবনী শক্তি অপহরণ করিয়া লইল ;–কে যেন তাহদের অন্তভুত উদ্দীপনার অনল নিবাইয়া দিল । ১৮৯৪ খৃষ্টাব্দের ২রা জানুয়ারী নূতন বৎসরের প্রারম্ভে নগরের একটি প্রাচীর ভঙ্গ হইল। আক্রমণকারী সৈন্যগণ মনে করিয়াছিল,—ঐ প্রাচীর ভাঙ্গিতে পারিলেই তাহারা নগর মধ্যে প্রবেশ করিতে পারিবে ; কিন্তু কার্যকালে বিপরীত ব্যাপার প্রত্যক্ষ করিল। দেখিল, সেই প্রাচীরের পার্থে আর একটি নূতন প্রাচীর অবস্থিত ; সে প্রাচীরের উচ্চত ত্রিশ ফিটের কম নহে। সুতরাং একটি প্রাচীর ভঙ্গ করিয়াও, সৈন্যদল সে যাত্রায় প্রত্যাবৃত্ত হইতে বাধ্য হইল। অবশেষে প্রাচীরের অপর এক অংশ ভঙ্গ হইলে, নগর প্রবেশের পথ সুগম হইয়া আসিল । কিন্তু ইংরেজ পক্ষ তখনও দেখিলেন, দুর্গ-প্রকার সমভাবে অবস্থিত ; ঘোর যুদ্ধ ব্যতীত দুর্গ অধিকার কোনক্রমেই সম্ভবপর নহে। যাহহউক, নগর বিপক্ষ-হস্তে পতিত হইল দেখিয়া, অপরাপর সৈন্তগণকে পলায়ন করিবার অহুমতি প্রদান করিয়া প্রায় তিন সহস্ৰ স্বাক্ষ সৈন্তসহ মূলরাজ সেই দুর্গ মধ্যে অবস্থান