পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেশের বিবরণ ও অধিবাসীগণ ులి দৈবপ্রাপ্ত পদমর্যাদা ও সমসাময়িক ধী-শক্তির সাফল্যলাভ অপেক্ষা, জাতি ও ধর্মের বিশেষত্ব,—সর্বত্র বহুল পরিমাণে প্রয়োজনীয়। কিন্তু উৎপত্তি, বংশমর্যাদা, আচার-পদ্ধতি ও ধর্মসংস্কার প্রভৃতির প্রভাবের বিষয়, বিশেষরূপে আলোচনা করা নিম্প্রয়োজন। বুদ্ধ, ব্ৰহ্মা এবং মহম্মদ প্রচারিত ভিন্ন ভিন্ন ধর্মমত এসিয়ার সর্বত্রই বিস্তৃতভাবে প্রচলিত ছিল ; এই সমস্ত বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাসে, সহস্ৰ সহস্ৰ লোকের প্রাত্যহিক আচার-ব্যবহারের বিশেষ পরিবর্তন সাধিত হইয়াছিল। কিন্তু অধিকাংশ স্থলেই এই সকল ধর্মমতে উপাসকগণকে উন্মত্ত করিতে সমর্থ হয় নাই ; তাহাঁদের ধর্ম এক্ষণে জীবনীশক্তিহীন। এখন এই ধর্মমতগুলিকে সামাজিক প্রথা ব্যতীত অপরিবর্তনীয় ধর্মরীতি বলিয়া আর কেহই বিশ্বাস করে না । তাহাদের বিশ্বাস এই যে, এই ধর্মমতগুলি, বহু শতাব্দী হইতে অভ্যস্ত রীতিসমূহের প্রতি স্বাভাবিক ও বদ্ধমূল সম্মান প্রদর্শন ভিন্ন আর কিছুই নহে। এই সময়ে তিব্বতীয়গণের এবং হিন্দুজাতির মধ্যে তাঁহাদের চিরন্তন পৌত্তলিক ধর্মই প্রচলিত ছিল। জগদীশ্বর মন্থন্ত-শরীর ধারণ করিয়া পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন, এবং চক্রগতিতে প্রাধিত বিষয় পূরণ করেন,—অসভ্য তিব্বতীয়গণ নিঃসংশয়চিত্তে তখনও এই ভ্ৰমবিষয়ে বিশ্বাস করিত। এদিকে আবার হিন্দুগণ, ঈশ্বর মৃত্তিকা বা প্রস্তরমূর্তিতে আংশিকৰূপে থাকিতে ভালবাসেন,—এইরূপ পুণ্যজনক বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছিল। স্বত্তরাং তিব্বত ও হিন্দু উভয় জাতিই বিদেশীয়গণের অস্বাভাবিক নূতন ধৰ্ম‘মত প্রচারে বাধা জন্মাইতে লাগিল। কিন্তু যে শক্তিবলে গ্রীষ্মমণ্ডল হইতে শীতমণ্ডল পর্যন্ত ভবিষ্ণুম্বক্তা শাক্যের মন্দির নির্মিত হইয়াছে ; যে শক্তিতে ব্রাহ্মণগণ ভারতীয় অন্যান্য জাতির মধ্যে শ্ৰেষ্ঠ, এবং সাহিত্য ও দর্শনশাস্ত্রে অশেষ পারদর্শী ; যে শক্তিবলে তাহার বিজয়ী লাভ করিয়াছিলেন ;—ব্রাহ্মণগণের এবং বৌদ্ধদিগের সেই প্রাচ্য সরল ও সতেজ দৈবশক্তি এক্ষণে আর নাই। স্ব স্ব অমরত্ব লাভের আশ্বাসে বৌদ্ধ মতাবলম্বী এবং বেদ-ধর্মানুরাগী উভয়েই পরম স্বর্থী ; স্বতরাং জন-সাধারণের এই ধর্ম-গ্রহণসম্বন্ধে তাহারা প্রত্যেকেই সম্পূর্ণ উদাসীন। তাহারা যেমন নিজ নিজ ধর্মবিষয়ে অন্তের অনধিকার-চর্চা সহ করিতে অনিচ্ছুক, তেমনই অন্যের বা বিরুদ্ধ-ধর্মাবলম্বীর ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে আলোচনা করিতেও একান্ত নিস্পৃহ। এমন কি, যে মুসলমানগণ কোন প্রত্যক্ষ ঈশ্বর মূর্তি কল্পনা করিয়া দেব-দেবীর উপাসনা করিত না, তাহারাও মনে করে ষে-মৃত ব্যক্তি ঐশ্বরিক শক্তির আধার, এবং তাঁহাদের কবরস্থান তীর্থস্থান স্বরূপ। স্বতরাং যে শক্তিবলে জলভ্য আরবজাতি এবং কষ্টসহিষ্ণু স্বধৰ্মত্যাগী তুর্কমান-সম্প্রদায় পৃথিবীর পুরাতনাৰ্ধতাগের পরপারে রাজত্ব স্থাপন করিতে সমর্থ হইয়াছিল,—সেই শক্তি বুঝাইবার জন্য একটা সাধারণ সংজ্ঞা নির্দেশ করা বড়ই কঠিন তষিয়ে বৃথা অন্বেষণও অনাবশ্বক। বস্তুত, মুসলমানপ্রধান স্থানসমূহে, এখনও এমন স্বধৰ্মীয়রাগী মুসলমান এবং অনেক পার্বত্য জাতি ও পশুপালক-সম্প্রদায় দেখিতে পাওয়া যায় যে, তাহারা ধর্মের জন্ত যুদ্ধ করিতে ওভত হইয়া থাকে, এবং ধর্মযুদ্ধে ধীরভাবে প্রাণ বিসর্জন করিতে কুষ্ঠিত হয় না। তুর্কী, পারসী এবং পাঠান জাতি কর্তব্যস্থরোধে মুসলমানধর্ম রক্ষা হেতু মহম্মদের নামে ধর্মযুদ্ধে যত লীজ