পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૨જી শিখ-ইতিহাস এবং একই শ্রেণীর বক্তিবর্গ পুরুষানুক্রমে ধর্মোপদেষ্ট থাকিতে পারবেন—এইরূপ মত প্রচারিত হওয়ায়, ব্রাহ্মণদিগের নীতিশাস্ত্র তৎসহ গুরুতর রূপে জড়িত হইয়া যায়।১১ ব্রহ্মণগণ ভারত উপদ্বীপ হইতে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদিগকে বিতাড়িত করিয়াছিলেন, খৃষ্ট জন্মের নয় শত বৎসর পরে, যখন শঙ্করাচার্য ভারতের সর্বত্র পরিভ্রমণ করিয়া স্বীয় মত প্রচলনের চেষ্টা করিতে ছিলেন, তখন কয়েকটি শিক্ষিত পণ্ডিত এবং নিরীহ অৰ্দ্ধবিশ্বাসী মতে, আত্মা দেহান্তর গ্রহণ করে না। কেবলমাত্র বর্তমান জীবনে পাপ সমুহের অবস্থিতির এবং মমুন্তের উপর তাহার প্রভাব বিস্তৃতির পরিমাণ-নির্ণয়ার্থ একটা প্রকৃষ্ট পন্থা ব্যতীত ইহা আর কিছুই নহে। ১১। জাতিভেদ প্রথা ভারতবর্ষে প্রচলিত হয় ; মিসর এবং পারস্তেও এক সময়ে এই প্রথার প্রভাৰ ছিল এবং প্রাচীন কোন জাতি বিভিন্ন ধর্মকার্য এবং পুরুষানুক্রমিক আচার অনুষ্ঠান করিত। মধ্যযুগে এবং বর্তমান সময়ে ইউরোপে এই প্রথা কতকাংশে যেরূপ আধিপত্য বিস্তার করিয়াছিল, তৎসমুদায় একত্র করিয়া একটা প্রবন্ধ রচনা করা যাইতে পারে। যাহারা বিদ্বান বলিয়া খ্যাত, যাহারা বহুদশী, জাতিভেদ প্রথা সম্বন্ধে তাহাঁদের ঐরাপ একটী প্রবন্ধ রচনা করা উচিত ; প্রাচীন সভ্যতা ক্রমে ক্রমে পরবর্তী সময়ে যেরূপ বিষময় উন্নতি লাভ করিয়াছিল, তাহারই ফলে এই জাতিভেদ প্রথা ভারতবর্ষে প্রবর্তিত হইয়াছে। বিগত কয়েক শতাদি হইতে এই প্রথা যেরূপ ভাবে অমুস্থত হইতেছে, পুরাকালের আদিম অধিবাসিগণ ইহা সেরূপ কঠোরতার সহিত মানিয়া চলিত না। বিশ্বামিত্রের ব্রাহ্মণ্যশক্তি লাভ তাহার একটা প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। বিক্ৰমজিতও ঐ শক্তি লাভের জন্য বিশেষরূপ ইচ্ছুক ছিলেন এবং তাছাত্তে তিনি কতকটা কৃতকাৰ্য্যও হইয়াছিলেন। ব্যাসদেব এই প্রকারে এক শুদ্রকে পুরোহিত শ্রেণীতে উন্নীত করেন ; তাহার বংশধরগণ অপেক্ষাকৃত নীচ জাতীয় হইলেও, তাহারা ব্রাহ্মণ মধ্যে পরিগণিত হয়। (Ward on the Hindoos, i. 85 and see Munoo's Institutes, chap. x. 42-72 &c.) এস্থলে মনু স্বীকার করিয়াছেন যে, একমাত্র যোগ্যতা অনুসারেই জাতি বিশেষের মর্যাদা ও শ্রেণী বিভক্ত হয়, এবং সেই গুণে যে কোন জাতি উচ্চশ্রেণীভুক্ত হইতে পারে। ) এমন কি বর্তমান সময়েও সিন্ধানওয়াল৷ সম্প্রদায়ের কতকগুলি জাঠ-শিখ পরিবার (ইহার রণজিৎ সিংহের সম্পৰ্কীয় ), রাজপুতদিগের সামাজিক সংস্কার ও আচার ব্যবহারে যোগদান করিবার প্রয়াস পাইয়াছিল এবং এক সমাজভুক্ত হইতে চেষ্ট৷ করিয়াছিল। যদি বিজয়ী মোগল ও পাঠান জাতি প্রকৃত ধর্মে বিশ্বাস না করিত, এবং তাহাদের প্রচলিত ধর্মযাজক সম্প্রদায় না থাকিত, তাহা হইলে তাহার বেদ-ধৰ্ম গ্রহণ করিয়া ক্ষত্রিয় অথবা রাজপুরুষের মধ্যে পরিগণিত হইত,—তাহাতে কোন সংশয় নাই। তত্তবায় কবির, ব্ৰহ্ম বা ঈশ্বরের স্বরূপ জানিয়া ব্রাহ্মণ হইয়াছিলেন। ধর্মসংস্কারক রামানদের মুখে এই কথা প্রকাশ হওয়ায়, পুরোহিত সম্প্রদায়ের আদিম নীতি প্রচারিত হয়। (The Dabistan ii. 188.) হিন্দুদিগের স্তায় ভারতীয় মুসলমান জাতিও চারি শ্রেণীতে বিভক্ত। যথা—সৈয়দ, শেখ, মোগল \3 । সকলেই মহৎ বলিয়া প্রসিদ্ধ। কিন্তু ইহাদের মধ্যে প্রথমোক্ত দুইটা জাতি মহম্মদের জাতীয়, এবং মহম্মদের জামাত ‘আলির বংশধর বলিয়া ইহাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। অন্ততঃ উত্তর পশ্চিম প্রদেশে সকলেরই এই বিশ্বাস যে, হিন্দুধমত্যাগকারী ক্ষত্রিয় এবং স্বধম বর্জিত শিখ, শেখ" নামে অভিহিত হয়, এবং অন্তাপ্ত নীচ জাতীয় স্বধম বৰ্জনকারী ‘মোগল ও পাঠান' জাতিমধ্যে পরিগণিত হইয়া থাকে। কিন্তু ঘদি কোন ব্রাহ্মণ স্বধর্ম ত্যাগ করিয়া মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করিলে তৎক্ষণাৎ সৈয়দ শ্রেণীভুক্ত হয়— তাহাতে কোন সন্দেহ নাই।