পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন ভারতের ধর্মমত ২৯ হইতে পৃথক থাকিতেন ; কিন্তু বৌদ্ধ সন্নাসিগণ, সন্ন্যাসী সম্প্রদায় কিংবা উপাসক সম্প্রদায়ের অন্তভূক্ত হইতেন। সন্ন্যাসী হওয়ার পূর্বে ব্রাহ্মণগণ গৃহ-ধম আচরণ করিতেন ; কিন্তু বৌদ্ধগণ অবিবাহিত থাকিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হইতেন, এবং অধিকাংশ ইন্দ্রিয় মুখ সম্ভোগ পরিত্যাগ করিতেন। বিজিত জাতি সমূহের এইরূপ আচার ব্যবহারের প্রভাব বিজেতৃগণের উপর বিস্তৃত হইয়াছিল। শঙ্করাচার্য বিশুদ্ধ ধর্মভাব দৃঢ় করিবার চেষ্টায়, ‘সেন্ট বেসিল' ও 'পোপ হনোরিয়াসের" দ্বিবিধ মতের একত্র সমাবেশ করিলেন।** তিনি ব্রাহ্মণ-সন্নাসীদের নিমিত্ত একটা ‘মঠ' স্থাপন করেন ; তিনি দণ্ডকমণ্ডলুধারী অসভ্য নির্জনবাসী “দণ্ডী"দিগকে স্বতন্ত্র একটা সম্প্রদায়ে পরিণত করেন ; তখন সেই সন্ন্যাসী-সম্প্রদায় ঠিবাসী বা ‘ভিক্ষুক বলিয়া পরিগণিত হইল ; তাহারা ভিক্ষাবৃত্তিতে জীবিকা নির্বাহ করিতে লাগিল এবং পবিত্রতাচরণ করিতে আরম্ভ করিল।১৮ শঙ্করাচার্যের এই সংস্কৃত ধর্ম পুনরায় পরিবর্তিত হইল। এই 'দণ্ডিগণ শিবকেই একমাত্র উপাস্ত দেবতা বলিয়া গ্রহণ করায়, আরও অধিকতর পৃথক হইয়া গেল। ঈশ্বরের প্রকৃতস্বরূপ কল্পনা করিয়া এখন হইতে তাহারা ‘শিবকেই উপাসনা করিতে লাগিল ; এবং শীঘ্রই অন্যান্য সকলেও তাঁহাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করিল। খৃষ্টীয় একাদশ শতাব্দীতে ‘রামানুজ নিজ নামানুসারে ব্রাহ্মণদিগের একটা ধর্ম-সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠিত করেন । আচার সম্পৰ্কীয় কতকগুলি পরিমার্জিত নিয়ম তাহাদের মধ্যে প্রবর্তিত হইল। তাহারা বিষ্ণুকেই ১৭। অধ্যাপক উইলসন, ‘এসিয়াটিক রিসার্চের ষোড়শ ও সপ্তদশ খণ্ডে হিন্দুজাতির ষে বর্ণনা প্রদান করিয়াছেন, তজ্জন্ত প্রত্যেক বিদ্যানুরাগী ও অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তি র্তাহার নিকট ঋণী। এই সংক্ষিপ্ত পুস্তকগুলি ভারতবাসী বহু লোকের গৃহে বিদ্যমান ; বিশেষতঃ, ভগগাৎমালা’ বা সন্ন্যাসীদিগের ইতিহাস এৰং তাহার সার-সংগ্ৰহ সকলের নিকটই দেখিতে পাওয়া যায়। দেশের অবস্থাজ্য কোন পণ্ডিতের টীকার সহিত মিলাইয়৷ এই গভীর রহস্তপূর্ণ বিষয় পাঠ করাই অধিকতর স্ববিধাজনক। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, অধ্যাপক উইলসন সম্প্রদায় সমূহের ধর্মমত এবং সংস্কার বিষয়ক উন্নতির বিষয় বর্ণনা করিত্তে চেষ্টা করেন নাই। হিন্দুদিগের সম্বন্ধে মিঃ ওয়ার্ড যে, বিস্তৃত বহুমূল্য কয়েকখণ্ড গ্রন্থ প্রকাশ করিয়াছেন, তাহাতেও এই সকল বিষয়ের উল্লেখ নাই। “দেবীন্থান" লেখক মোসাণ ফাণীর পুস্তকেও ঘটনাবলীর সামগ্রস্তের এবং স্কায়সঙ্গত বর্ণনার অভাব। ফাণী একটু প্ৰগল্‌ভ এবং সরল বিশ্বাসী হইলেও, এই প্রতিভাশালী মুসলমান লেখকের মত এবং বর্ণনাগুলি বিশেষ প্রয়োজনীয়। ইনি প্রায় দুই শত বৎসর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন। কাপ্তেন টেলার তাহার এই 'দেবীস্থান অনুবাদ করিয়াছেন ; এইজন্যই একটু অনুসন্ধান করিলে প্রত্যেক ইংরেজই এই মহামূল্য গ্রন্থ পাইতে পারেন। - ১৮। শঙ্করাচার্য দক্ষিণ ভারতের একজন ব্রাহ্মণ। অধ্যাপক উইলসনের মতানুসারে ( "As. Res* xvi. 180 ) শঙ্করাচার্য অষ্টম কি নবম শতাব্দীতে আবিভূত হন। কিন্তু এরূপ গণনাও সন্দেহমূলক। যেহেতু সাধারণত কথিত হয় যে, রামানুজ শঙ্করাচার্যের শিল্প এবং ভাগিনেয় ছিলেন ; স্বতরাং উহার জন্মের তারিখ উইলসনের গণনার এক শতাব্দী কিংবা দেড় শত বৎসর পর হওয়াই সম্ভব। তিনি চারিটি মঠ’ (সন্ন্যাসীদিগের মদির অথবা চারিটি ধর্মসম্প্রদায়) প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন। তাহার দশ জন শিক্ষিত শিল্পের মধ্যে যে চারি জন উfহার প্রচারিত ধর্মমত দৃঢ়তররূপে অবলম্বন করিয়াছিল, তাহারাই সেই চারিটি মঠের প্রধান পাওী ও রক্ষক রূপে নিযুক্ত হয়। শঙ্করাচার্যের এই চারিটি শিল্পের অমুচরগণ "দওঁী’ নামে অভিহিত হইত। অথবা, ইহাদের সহিত ছয়টি নাস্তিক সম্প্রদায়ের ব্যক্তিগণ মিশিয়া সকলে www 'qwafa' atta •ffafövs watts I (Compare, Wilson, 'As. Res,o xvii. 169 &c.)