পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন ভারতের ধর্মমত Jaరి দূরদেশে রাজ্য-বিস্তারে বলক্ষয় করিতে প্রবৃত্ত হইলেন না ; তাহারা মনে করিলেন, বিদ্রোহে সে রাজ্য বিচ্ছিন্ন হইতে পারে। অধিকন্তু আরব জাতির আর সে একতা, উৎসাহ ও বীরত্ব ছিল না ; তাহাদের প্রতিনিধি আরবগণ ঘোর স্বার্থপর এবং বিদ্রোহী হইয়া দাড়াইয়াছিল। ধর্ম-প্রবর্তক মহম্মদ দেশবাসীদিগকে প্রথমে যে শক্তি প্রদান করিয়াছিলেন, তাহাতে তাহারা আপনাদের রাজ্য-বিস্তারের ক্ষমতা অনুভব করিতে পরিয়াছিল। এক্ষণে দিল্লীর হিন্দুদিগের এবং কনস্তাস্তিনোপলের খৃষ্টানদিগের উপর আধিপত্য বিস্তারের জন্য মুসলমান-ধর্মে সাহসিকতার আর এক নূতন বিশ্বাস উদ্রেকের আবগুক হইয়াছিল। সেই উত্তেজনা-শক্তি মুসলমানগণ খুর্দ’ নামক পার্বত্য জাতির এবং প্রধানতঃ পশুপালক তুর্কমান জাতির নিকট হইতে প্রাপ্ত হইয়াছিল। এই ‘খুর্দ ও তুর্কমানগণ কোন অজ্ঞাত কারণবশতঃ আর একবার উর্বর এবং ধনধান্তপূর্ণ দক্ষিণ “কাব্যা’ শাস্ত্রানুসারে,– মায়া ঈশ্বর, এবং ঐশ্বরিক শক্তিসম্পন্ন বীরগণের দৃষ্টিশক্তি-প্রতিরোধকারী সুন্ম আবরণ বিশেষ ;-ইহাতে র্তাহাদের দৃষ্টিশক্তি অথবা ইন্দ্রিয়জ্ঞান সীমাবদ্ধ করিয়া রাখিয়াছে। ( Heereen's Asiatic Nations, iii, 203.) •If*tf* w ;• sfèstwva stra awrfa fùffìò করিয়া ঈশ্বরের স্বগীয় মুর্তি নশ্বর মানব-চক্ষের গোচর করিয়া রাখিয়াছেন (Iliad, v ) । কিন্তু জনসাধারণের মনের বিশ্বাস এই যে,—স্বতঃসিদ্ধ অপূর্ণ শক্তি হেতু মানব নৈসর্গিক জগতের বিষয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞান লাভে অক্ষম। © “দর্শনশাস্ত্র মতে,-বেদান্ত দর্শনে ‘মায়া-স্বত্র যেরূপ বর্ণিত হইয়াছে, তাহ বার্কেলির মনস্তত্বের তুল্য। (এই বেদান্ত-স্বত্র, সাংখ্য-স্বত্রের প্রকৃতি'। জেনোফেনের স্বষ্টি-বিবরণের সহিত কতকাংশে ইহার সমতা দৃষ্ট হয়। এবং ইরাক্লিটাসের অসীম শক্তিসম্পন্ন অনন্ত ঈশ্বরলীলার সহিত ইহার সম্পূর্ণ সাদৃপ্ত বর্তমান রহিয়াছে। ) বেকনের ‘আইডোলা’ স্বত্র এবং মায়া স্বত্র,- উভয়েরই উৎপত্তি স্থল এক ; এইরূপ ইন্দ্রজাল অথবা ভ্রম-মুর্তির স্থায় মায়া প্লেটোর Idea' বা ‘সত্য মতের বিপরীত। সাধারণতঃ মারা বলিলে প্রকৃত বস্তুর বিরুদ্ধ ধৰ্মাক্রান্ত অনুমেয় বা অনুভবনীয় বস্তুই বুঝা যায়-দৃষ্টান্ত স্বরূপ, সাধারণতঃ রজ্জ্বকে যেমন সর্প বলিয়া ভ্রম হয়। বড়ই আশ্চর্য্যের বিষয় এই যে, ইংলণ্ড এবং ভারতবর্ষ,— এতদুভয় স্থানেই বার্কেলির স্বপ্ন-বিষয়ক কল্পনা এবং ব্রাহ্মণদিগের ঐন্দ্রজালিক মত একই অসার যুক্তি দ্বারা খণ্ডন করা হইয়াছে। একটি উত্তেজিত হস্তী কর্তৃক শঙ্করাচার্য বিতাড়িত হইয়াছিলেন। কিন্তু শঙ্করাচার্য নিজদেহ এবং আস্তান্ত মানবদেহ অসার বলিয়। মনে করিতেন। যখন পায়ে প্রস্তরখণ্ডের আঘাত লাগায় তিনি পশ্চাৎপদ হইয়াছিলেন, তখনই তাহার এই মত বিধ্বস্ত হইয়াছিল,—ডাক্তার জনসন তাহাই মনে করেন। বিশপের অমুচরগণের বুদ্ধিশক্তি অপেক্ষ শঙ্করাচার্যের বুদ্ধিশক্তি প্রখর ছিল। যখনই শঙ্করাচার্যের বিরুদ্ধবাদিগণ ক্ষুদ্র প্রাণী হত্যাশঙ্কায় মন্দপদবিক্ষেপের জন্ত র্তাহাঁকে ঠাট্ট করিত, তখনই তিনি ভৎসনা করিয়া বলিতেন যে, এ সকলই ইন্দ্রজাল । তিনি বলিতেন, প্রকৃতপক্ষে শঙ্করও নাই, হস্তীও নাই, পলায়নও নাই.-এ সকলই ইন্দ্রজাল । ( Debistan, ii. 103 ) । চতুর্থত, মায় রাজনৈতিক হিসাবেও ব্যবহৃত হইয়া থাকে। উত্র শাস্ত্র' অথবা চতুর্থ “উপবেদের নীতি বা ‘সাহিত' অংশে এইরূপ বর্ণিত আছে। ইহাতে অগাষ্ঠ বিবরের মধ্যে শাসনকর্তৃগণের কর্তব্য বিষয়েও বহু মীমাংসা রহিয়াছে : ইহা ঈপ্সিত বস্তু পাইবার উপায়স্বরূপ বলিয়াও কখিত হয়। বক্ষ্যমাণ বিজ্ঞান শাস্ত্রানুসারে, “মায়া’ অর্থে গোপন ভাব, ছলনা কিংবা রাজনৈতিক কৌশল বুঝায়। ইহাতে সম্পূর্ণ প্রতারণা বুঝা যায় না ; কারণ মিথ্যা এবং প্রতারণা ইহাতে নিষিদ্ধ। কথিত হয় যে, মায়াবশে শক্ৰ শত্রুত ভুলিয়া যায় ; মমুক্তজাতিও বগুত স্বীকার করিয়া থাকে।