পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন ভারতের ধর্মমত 8 করা অবিধেয় ॥৪৮ মানবদেহ পুনজীবন প্রাপ্ত হয় এবং আত্মা চিরকালবাপী পাপ ও নরকাগ্নির যন্ত্রণাভোগ করে,—নানক এইরূপ ধমশিক্ষা দিতেন না। পুণ্যকার্য দ্বারা ঘোর নারকী, পাপ সক্ত আত্মারও পবিত্রতা জন্মে এবং আত্মা পর্যায়ক্রমে নূতন দেহ ধারণ করে, –এবশুকার ধমোপদেশ প্রদান করাই শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করিয়াছিলেন বলিয়া so I wotoro &oa, ( ‘As. Res', xvii.233 and Continuation of ‘Mill's History of India', vii. 101, 102 ) নানকের ধর্মজ্ঞান এবং মতগুলিকে অকিঞ্চিৎকর মনে করিতেন ; যেহেতু উহা বেদান্তদর্শন এবং জড়-জাগতিক ঔদাসীন্থের আদর্শ বোধক স্বগতর উপলব্ধি । ভগদীশ্বরের সর্বশক্তিমত্বা সম্বন্ধে মতামত প্রকাশ করা বড়ই কঠিন। এরূপ হইলে কোন না কোন বিশেষ সম্প্রদায়ভুক্ত হওয়ার দোষে কলুষিত হইতেই হইবে। রাজনৈতিক কবি মিণ্টন যখন ভাবিতেন,—“শরীর আত্মার দিকে ধাবমান, তখন হয় ত কোন বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি র্তাহার শ্রদ্ধা ছিল ( Paradise Lost, v ) ; কিন্তু ধর্মগুরু প্রেমোন্মত্ত সেন্ট পল যখন বলিয়াছেন, ‘ভৌতিক দেহ রোপিত হইয়াছে এবং স্বৰ্গীর দেহে উন্নীত হইবে ; ( Corinthians, xv. 44 ) তখন কি তাহাকে অবজ্ঞা করা উচিত? অথবা তাহার কথায় অবিশ্বাস করিতে হইবে ? জগদীশ্বর কি স্বর্গ এবং পৃথিবীকে পূর্ণ করেন নাই ? বা জগদীশ্বর পৃথিবী ও স্বর্গে বিরাজমান নহেন,' ( Jeremiah xxviii. 24 ) ; যে জগদীশ্বরে আমরা বাস করি, গমনাগমন করি এবং যাহাতে আমাদের জীবন অধিষ্ঠিত' ( Acts, xvii, 24 ) ; “যাহা হইতে, র্যাহার জন্য এবং যাহার কর্তৃত্বে আমরা সমস্ত দ্রব্য প্রাপ্ত হই ( Romans xi, 36) ; এই সকল বাক্যাবলী পাঠ করিয়া কি বলিতে হইবে যে, ঈশ্বর প্রেরিত দূত এবং ভবিষ্যদ্বর্তৃগণ নাস্তিক ও দেহাত্মবাদী ছিলেন ? যাহা হউক, স্পষ্টই বুঝা যায় যে, জেরিমিয়া, পল এবং নানকের, দার্শনিক মত প্রচার ভিন্ন আরও অন্ত উদেষ্ঠ ছিল। তাহার লোকের মনে ঈশ্বরের মহত্ব এবং সততা বদ্ধমূল করিয়া দিতে চেষ্ট৷ করিয়াছিলেন। যে ভাষা সর্বসাধারণের মধ্যে প্রচলিত ছিল, এবং যে ভাষা কখনও কাহাকেও বিপথগামী করিবে না তাহার। সেই চলিত ভাষার সাধারণ প্রয়োগই এ কার্য সাধনের বিশেষ উপযোগী মনে করিয়াছিলেন। শিখ এবং ব্রাহ্মণ্য ধর্ম,—এতদুভয়ের মধ্যে যথাক্রমে যে সাদৃপ্ত এবং মতদ্বৈধ প্রচলিত আছে, তৎসম্বন্ধে sistor. Eşrpa (“As. Res.’ xvii 233, 237, 238) fu cntntą rtma (Debistan. ii. 269, 270.285, 286 ) তুলনা করা উচিত। ইহাদের উভয়ের সহিত আবার সৈর-উল মুতাক্ষরীণ ( i. 110 ) মিলাইয়া দেখা কর্তব্য। ইহাদের প্রত্যেকের বর্ণনাই সত্য। র্তাহাদের একজন শিখদিগের—প্রধানতঃ গঙ্গার নিকটবর্তী প্রদেশের শিখদিগের - অসম্পূর্ণ এবং কুরীতিমূলক ধর্মবিশ্বাস বিস্তৃতরূপে বর্ণনা করিয়াছেন ; অপর জন নানক প্রবর্তিত যে ধর্মশিক্ষা পণ্ডিতগণ সচরাচর প্রচার করিয়া থাকেন, সেই প্রচলিত ধর্মের প্রকৃত বিবরণ লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন। এস্থলে একটি বিষয় স্মরণ রাখা উচিত যে নানক এবং গোবিন্দ প্রবর্তিত শিক্ষা, মহম্মদ প্রতৃতি প্রচারিত ঈশ্বর-ভক্তির সমাধি ও সমাপ্তি মাত্র –শিখদিগের ইহাই বিশ্বাস । মোজেস, এব্ৰাহমি, মাইকেল ও গেব্ৰিল প্রভৃতি স্বগীয় দূতের প্রতি খৃষ্টানগণ যেরূপ ভক্তি প্রদর্শন করিয়া থাকেন, তাহা অপেক্ষ শিখদিগের ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং অন্যাস্ত স্বগীয় দেবতার উপাসনা,- অধিকতর অযৌক্তিক বলিয়া মনে হয় না। মধ্যযুগের খৃষ্টধর্মপ্রচারকগণ, খৃষ্টধর্মের সার নিয়ম পরিত্যাগ করত:, কেবলমাত্র ভাষার উপর নির্ভর করিয়া, নিরবচ্ছিন্ন বহু দেবার্চনা প্রবর্তন করিয়াfছলেন । শিখদিগের ঈশ্বরোপাসনা, খৃষ্টপ্রচারকদিগেৰু একেশ্বরবাদিত অপেক্ষ অধিকতর উপেক্ষণীয়।—Hallam, ‘Middle ages. iii. 346.