বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:শুকতারা (বর্ষ ১, সংখ্যা ১).pdf/১৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
শুকতারা
[১ম বর্ষ, ১ম সংখ্যা

 মাণিক বললে, “সুন্দরবাবু, আপনার ‘বিনীত প্রার্থনা’ তা হলে পূর্ণ হোলো। এইবারে আপনি পরমানন্দে অট্টহাস্য করতে পারেন।”

 সুন্দরবাবু অত্যন্ত খাপ্‌পা হয়ে কেবল বললেন, “হুম্।”

* * * * *

 চট্টগ্রাম থেকে কুমারের ফেরবার কথা ছিল বিশ তারিখে।

 কিন্তু ঠিক তার আগের দিনে কুমারের কাছ থেকে বিমল এই টেলিগ্রাম পেলে, “বন-মুর্গী পেয়েছি; কিন্তু আসছে কাল কলকাতায় পৌঁছুতে পারব না। বিশেষ কারণে আমাকে আরো দিন-কয়েক এখানে থেকে যেতে হবে। এ জন্যে যদি আমাদের জন্মতিথি-উৎসব মাটি হয়, উপায় নেই।”

 টেলিগ্রামখানি হাতে করে বিমল বিস্মিত মনে ভাবতে লাগল, কুমারের বিশেষ কারণটা কী হতে পারে? নিশ্চয়ই কোনো সাধারণ কারণ নয় যার জন্যে বন-মুর্গী পেয়েও সে যথাসময়ে এখানে আসতে নারাজ!

 তেইশ তারিখে কুমারের আর একখানা টেলিগ্রাম এলো। সেখানি পড়ে বিমল জানতে পারলে, চব্বিশে তারিখের সকালে সে কলকাতা এসে পৌঁছবে।

 কুমার একটি রীতিমত রহস্যপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি করে তুলেছিল। সেই জন্য বৈঠকখানায় তার জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করছিল বিমল, জয়ন্ত ও মাণিক।

 খানিক পরে রাস্তায় দরজার কাছে একখানা গাড়ি আসবার শব্দ হোলো। অনতিবিলম্বেই ঘরের ভিতরে প্রবেশ করলে কুমার। জয়ন্ত বললে, “কুমারবাবু, আপনার টেলিগ্রামে যা দেখেছি, আপনার মুখেও দেখছি তাই।”

 —“আমার মুখে কি দেখছেন জয়ন্ত বাবু?”

 —“রহস্যের আভাস।”

 হাতের বন্দুকটা একটা টেবিলের উপর রেখে দিয়ে কুমার বললে, “হ্যাঁ জয়ন্তবাবু, আপনি ভুল দেখেন নি। যা-তা রহস্য নয়—যাকে বলে একেবারে গভীর রহস্য; কিন্তু সে কথা পরে বলছি, আগে বন-মুর্গীগুলোর একটা ব্যবস্থা করি।......রামহরি, ও রামহরি!”