পাতা:শেষ প্রশ্ন.djvu/৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


 মনোরমা মনে মনে বিস্মিত হইল। কথাগুলো ত ঠিক অশিক্ষিত দাসীকন্যার মত নয়।

 আশুবাবু পুলকিত হইয়া কহিলেন, কিছুই জানিনে। বিশেষজ্ঞ ত নয়ই,-সৌন্দর্য্যের-তত্ত্বের গোড়ায় কথাটুকুও জানিনে। সেদিক দিয়ে আমি একে দেখিওনে কমল। আমি দেখি সম্রাট সাহাজাহানকে। আমি দেখি তাঁর অপরিসীম ব্যথা যেন পাথরের অঙ্গে অঙ্গে মাখানো। আমি দেখি তাঁর একনিষ্ঠ পত্নী-প্রেম, যা এই মর্ম্মর কাব্যের সৃষ্টি করে চিরদিনের জন্য তাঁকে বিশ্বের কাছে অমর করেছে।

 কমল অত্যন্ত সহজকন্ঠে তাঁহার মুখের প্রতি চাহিয়া কহিল, কিন্তু তাঁর ত শুনেছি, আরও অনেক বেগম ছিল। সম্রাট মমতাজকে যেমন ভালোবাসতেন, তেমন আরও দশজনকে বাসতেন। হয়ত কিছু বেশি হতে পারে, কিন্তু একনিষ্ঠ প্রেম তাকে বলা যায় না আশুবাবু। সে তাঁর ছিলনা।

 এই অপ্রচলিত ভয়ানক মন্তব্যে সকলে চমকিয়া গেলেন। আশুবাবু কিম্বা কেহই ইহার হঠাত উত্তর খুঁজিয়া পাইলেন না।

 কমল কহিল, সম্রাট ভাবুক ছিলেন, কবি ছিলেন, তাঁর শক্তি, সম্পদ এবং ধৈর্য্য দিয়ে এতবড় একটা বিরাট সৌন্দর্য্যের বস্তু প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। মমতাজ একটা আকস্মিক উপলক্ষ। নইলে, এমনি সুন্দর সৌধ তিনি যে-কোন-ঘটনা নিয়েই রচনা করতে পারতেন। ধর্ম্ম উপলক্ষ হলেও এমনি চলে যেতো! এ একনিষ্ঠ প্রেমের দান নয়, বাদশার স্বকীয় আনন্দ-লোকের অক্ষয় দান। এই তো আমাদের কাছেই যথেষ্ট।

 আশুবাবু মনের মধ্যে যেন আঘাত পাইলেন। বার বার মাথা নাড়িয়া বলিয়া উঠিলেন, যথেষ্ট নয় কমল, কিছুতেই যথেষ্ট নয়।