পাতা:শেষ লীলা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

শেষ লীলা

৩৩


 “যে দিবস প্রাতঃকালে রাজকুমারীর মৃতদেহ পাওয়া যায়, তাহার পূর্ব্ব দিবস সন্ধ্যার সময় রাজকুমারী আমার গৃহে আসিয়া উপবেশন করে, এবং সন্ধ্যার অনেকক্ষণ পর পর্য্যন্ত আমার গৃহে বসিয়া নানারূপ গল্প-গুজবে নিযুক্ত হয়। প্রিয়ও সেই সময় আমার গৃহে ছিল। সেই সময় মনে করিয়াছিলাম বিষমিশ্রিত সন্দেশ কোনরূপে সেই স্থানে রাজকুমারীকে খাওয়াইব। কিন্তু কার্য্যে তাহা করিয়া উঠিতে পারি নাই। কারণ আমার মনে হয়, যদি রাজকুমারী অজ্ঞান হইয়া আমারই গৃহে পতিত হয়, তাহা হইলে গোলযোগ হইয়া পড়িবে; সুতরাং আমার মনোবাঞ্ছা কোনরূপেই পূর্ণ করিতে সমর্থ হইব না। এই ভাবিয়া যতক্ষণ পর্য্যন্ত সে আমার গৃহে ছিল, ততক্ষণ পর্য্যন্ত তাহাকে সেই সন্দেশ খাওয়াইবার নিমিত্ত কোনরূপ উদ্‌যোগ করিলাম না। পরিশেষে সে যখন উঠিয়া আমার গৃহ হইতে তাহার নিজের গৃহে গমন করিল তখন আমি ও প্রিয় উভয়েই তাহার সহিত গমন করিয়া তাহার গৃহে গিয়া উপবেশন করিলাম। যে একখানি মাজুরের উপর রাজকুমারীর মৃতদেহ পাওয়া গিয়াছিল, আমাদিগের বসিবার নিমিত্ত রাজকুমারী সেই মাজুর বিছাইয়া দেয়। আমরা তাহার উপর উপবেশন করিলে, সেও উহার উপর আমাদিগের সন্নিকটে উপবেশন করে। সেই গৃহে বসিয়া বসিয়া ক্রমে রাত্রি এগারটা বাজিয়া গেল।

 রাত্রি আন্দাজ সাড়ে এগারটার সময় আমি প্রিয়কে কহিলাম, ‘ভাই! বড় ক্ষুধা লাগিয়াছে, কিছু খাইতে ইচ্ছা করিতেছে।’

 “প্রিয় আমার মনের ভাব বুঝিতে পারিল ও কহিল, ‘আমারও ক্ষুধা লাগিয়াছে। রাজকুমারী ত আমাদিগকে কিছু খাইতে দিবে না, চল আমরা গিয়া আমাদের গৃহে আহার করিয়া আসি।’