পাতা:শ্মশানের ফুল - নরেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়.pdf/১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
শ্মশানের ফুল।
 

সীমা হ’তে সীমান্তর দীপ্ত যার হেমাভায়,
ভূলোক দ্যুলোক মাঝে নাহি তার তুলনায়।
আলেয়ার প্রতারণে ভুলে যথা পথিকেরা
যায় দিগন্তরে, কিম্বা ভ্রান্ত নাবিকেরা
সাগর কন্দরে, পড়ি জালে মৃগ-তৃষিকায়
কাঁদে যথা মৃগশিশু মরুভূমে পিপাসায়
কিম্বা জুড়াইবে বলি, পশে পতঙ্গ অনলে
অথবা অয়স ধায় দূর অয়স্কান্ত বলে।
তেমতি রূপের তৃষা প্রেমের বিলাস হাসি,
প্রণয়ের ধ্রুব তারা, আকর্ষিল, হেথা আসি।
কে জানে কেমন শক্তি প্রেমের মোহন বলে,
হেনকালে অলক্ষিতে জড়াইয়া দিল গলে
সুবর্ণ কুসুমদাম অনাঘ্রাত পরিমল;
স্বর্গীয় কৌমুদীময় অলৌকিক হৃদিবল
শোকে সুখে কি সন্তাপে অবিচ্ছিন্ন সহচরী
শান্তির ত্রিদিব ছায়া অঙ্কিত জীবনোপরি।
সে যে আঁধারের ফুল আঁধারে থাকিত ফুটি
আঁধারে ঝরিত তার শিশিরাক্ত আঁখি দু’টি;
শোকের বিরাম সে যে অশ্রুধারা তিতিক্ষার
শান্তি উপেক্ষার, পুলকের দ্যুলোক-বিহার।
কতদিন এ জীবনে উঠিয়াছে শশধর
বলিয়াছি “প্রণয়িনী” শুনিয়াছি “প্রাণেশ্বর”