পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


बैौवनख-फूॐीब्र ** ΦbrΦ হও বলিয়া আশীৰ্বাদ করি! কিন্তু মন যে সরমে সঙ্কোচে একেবারে ছোট হুইয়া আসিতে চায়। কর্মনিরত অভয়ার শান্ত প্রসন্ন মুখচ্ছবি আমি মনশ্চক্ষে দেখিতে পাই। তাহারি পাশে নিষ্কলঙ্ক ঘুমন্ড বালক। যেন সদ্যফোট পদ্মের মত শোভায় সম্পদে গন্ধে মধুতে টলটল করিতেছে। এতখানি অমৃত বস্তুর জগতে কি সত্যই প্রয়োজন ছিল না ? মানব-সমাজে মানব-শিশুর মর্যাদা নাই, নিমন্ত্রণ নাই—স্থান নাই বলিয়া ইহাকেই ঘৃণাভরে দূর করিয়া দিতে হইবে? কল্যাণের ধনকেই চির অকল্যাণের মধ্যে নির্বাসিত করিয়া দিবার অপেক্ষা মানব-হৃদয়ের বৃহত্তর ধর্ম আর নাই? অভয়াকে আমি চিনি। এইটুকুকে পাইতে সে যে তাহার জীবনের কতখানি দিয়াছে তাহা আর কেহ না জানে আমি ত জানি। হৃদয়হীন-বর্বরতায় কেবলমাত্র অশ্রদ্ধা ও উপহাসের দ্বারাই সংসারে সকল প্রশ্নের জবাব হয় না। ভোগ! অত্যন্ত মোটা রকমের লজ্জাকর দেহের ভোগ ! তাই বটে ! অভয়াকে ধিক্কার দিবার কথাই বটে। বাহিরের তপ্ত বাতাসে চোখের তপ্ত অশ্রু আমার নিমেষে শুকাইত। বৰ্মা হইতে চলিয়া আসার কথাটা মনে পড়িত। ঠিক সেই সময়টায় তখন রেঙ্গুনে মরণের ভয়ে ভাই বোনকে, ছেলে বাপ-মাকেও ঠাই দিত না। মৃত্যু উৎসবের উদ্দন্ড মৃত্যুলীলা শহরময় চলিয়াছে—তেমনি সময়ে যখন আমি মৃত্যুদূতের কাধে চড়িয়া তাহার গৃহে গিয়া উপস্থিত হইলাম, তখন নতুন-পাত ঘরকন্নার মোহ ত তাহাকে একটা মুহূর্তও দ্বিধায় ফেলে নাই! সে-কথা ত শুধু আমার আখ্যায়িকার এই কয়টা লাইন পড়িয়াই বুঝা যাইব না, কিন্তু আমি ত জানি সে কি! আরও অনেক বেশি আমি জানি। আমি জানি কিছুই অভয়ার কাছে কঠিন নয়, মৃত্যু- সেও তাহার কাছে ছোটই। দেহের ক্ষুধা, যৌবনের পিপাসা—এইসব প্রাচীন ও পুলি বুলি দিয়া সেই অভয়ার জবাব হয় না। পৃথিবীতে কেবলমাত্র বাহিরের ঘটনাই পাশাপাশি লম্বা করিয়া সাজাইযা সকল হাদয়ের জল মাপা যায় না। কাজের জন্য পুরানো মনিবের কাছে দরখাস্ত করিয়াছি, ভরসা আছে আবেদন না-মঞ্জুর হইবে না। সুতরাং আবার সাক্ষাৎ ঘটিবে। ইতিমধ্যে দুই তরফেই অনেক অঘটন ঘটিয়াছে। তাহার ভারও সামান্য নয়, কিন্তু সে-ভার সে জমা করিয়াছে আপনার অসামান সরলতায় ও স্বেচ্ছায়, তাব আমার জমিয়া উঠিয়াছে তেমনি অসাধারণ বলহীনতায় ও ইচ্ছাশক্তির অভাবে । কি জানি, ইহাদের রঙ ও চেহার সেদিন মুখোমুখি কেমনতর দেখিতে হইবে। একাকী সমস্তদিন প্রাণ যখন হাঁপাইয়া উঠিত, তখন বেলা পড়িলে একটুখানি বেড়াইতে বাহির হইতাম। দিন পাঁচ-সাত হইতে ইহা একপ্রকার অভাসে দাড়াইয়াছিল। ধূলাময় যে পথটা দিয়া একদিন আমরা গঙ্গামাটিতে আসিয়াছিলাম, সেই পথ ধরিা কোন কোন পি. অনেকদূর পর্যস্ত চলিয়া করিয়া কে-একজন ঘোড়া ছুটাইয়া আসিতেছে। সভয়ে রাস্তা ছাড়িয়া নামিয়া দাড়াইলাম। ঘোড়সওয়ার কিছুদূর অগ্রসর হইয়া গিয়া ঘোড়া থামাইল, ফিরিয়া আসিয়া আমার সম্মুখে দাড়াইয়া কহিল, আপনার নাম শ্ৰীকাস্তবাবু না ? আমাকে চিনতে পারেন ? বলিলাম, নাম আমার তাই বটে, কিন্তু আপনাকে ত চিনতে পারলাম না। লোকটি ঘোড়া হইতে নামিল। পরনে তাহার ছিন্ন ও মলিন সাহেবী পোশাক, মাথায় জরাজীর্ণ সোলার হ্যাট খুটিলা হাতে লইয়া কহিল, আমি সতীশ ভরদ্বাজ। থার্ডক্লাস থেকে প্রমোশেন না পেয়ে সার্ভে-স্কুলে পড়তে যাই, ম ন পড়ে না? মনে পড়িল। খুশি হইয়া কহিলাম, তাই বল. তুমি আমাদের ..we , এখানে সাহেব সেজে যাচ্ছ কোথায় ? ব্যাঙ হাসিয়া কহিল, সাহেব কি আর সাধে সাজি ই রেলওয়ে কনস্ট্রাকশনে সাবওভারসিয়ারী চাকরি করি, কুলি তাড়াতেই জীবন যায়, হাট-কোট না থাকলে কি আর রক্ষা ছিল ? এতদিন তারাই আমাকে তাড়াত। সোপলপুরে একটু বরাত সেরে ফিরচি–মইলটাক দূরে আমার তাবু সাঁইথিয়া থেকে যে নতুন লাইন বসচে তাতেই কাজ। যাবে আমার ওখানে চা খেয়ে আসবে? অস্বীকার করিয়া কহিলাম, আজ নয়, কোনদিন সুযোগ হয় আসব।