পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


●リ。 भवन्निघ्त्रकि्री ব্যাঙ তখন অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল—শরীর কেমন, কোথায় থাকি, এখানে কি সূত্রে আসা, ছেলে-মেয়ে কয়টি, তাহারা কে কেমন আছে, ইত্যাদি। জবাবে বলিলাম, শরীর ভাল নয়, থাকি গঙ্গামাটিতে, যে সূত্রে এখানে আসা তাছা অত্যন্ত গোলমেলে। ছেলে-মেয়ে নাই, অতএব তাহারা কে কেমন আছে এ প্রশ্ন নিরর্থক। ব্যাঙ সাদাসিধা গোছের লোক। আমার উত্তরগুলা ঠিক বুঝিতে না পারিলেও অপরের ব্যাপার বুঝিতেই হইবে এরূপ দৃঢ়সঙ্কল্প ব্যক্তি সে নয়। সে নিজের কথাই বলিতে লাগিল। জায়গাটা স্বাস্থ্যকর, তরিতরকারি মেলে, মাছ এবং দুধ চেষ্টা করিলে পাওয়া যায় ; তবে লোকজন নাই, সঙ্গীসাথীর অভাব, কিন্তু কষ্ট বিশেষ হয় না, কারণ সদ্ধার পরে একটু নেশা-ভাণ্ড করিলেই বেশ চলিয়া যায়। সাহেবরা হাজার হোক বাঙ্গালীর চেয়ে ঢের ভাল—টেম্পোরারি গোছের তাড়ির শেড একটা খোলা হইয়াছে— যত ইচ্ছে খাও, তার নিজের ত একরকম পয়সা লাগে না বলিলেই হয়—সবই ভাল—কনস্ট্রাকশনে দু’পয়সা আছেও বটে, এবং আমার জন্যে বড়সাহেবকে ধরিয়া চকরি একটা অনায়াসে করিয়া দিতে পারে—এমনি সব তাহার সৌভাগ্যের ছোট-বড় কাহিনী। ব্যাঙ তাহার বেতো ঘোড়ার মুখ ধরিয়া অনেকদূর পর্যন্ত আমার সঙ্গে সঙ্গে বকিতে চলিল ; বার বার জিজ্ঞাসা করিল, আমি কি নাগাইদ তাহার ক্যাম্পে পায়ের ধূলা দিতে পারি, এবং ভরসা দিয়া জানাইল যে, পোড়ামাটিতে প্রায়ই তাহার কাজ থাকে, ফিরিবার পথে একদিন আমার গঙ্গামাটিতে সে নিশ্চয় গিয়া উপস্থিত হইবে। সেদিন বাড়িতে ফিরিতে আমার একটু রাত্রি হইল। পাচক আসিয়া জ্ঞানাইল আহার প্রস্তুত । হাতমুখ ধুইয়া, কাপড় ছাড়িয়া খাইতে বসিয়াছি, এমন সময় রাজলক্ষ্মীব কণ্ঠস্বর শোনা গেল। সে ঘরে ঢুকিয়া চৌকাঠের কাছে বসিয়া পড়িল, হাসিমুখে কহিল, তুমি কিন্তু কিছুতেই অমত করতে পাবে না বলে রাখচি । কহিলাম, না, আমার অমত নেই। কি তা না শুনেই? কহিলাম, আবশ্যক মনে হয় ব’লো একসময় । রাজলক্ষ্মীর হাসিমুখ গষ্ঠীর হইল, কহিল, আচ্ছা—হঠাৎ তাহার দৃষ্টি পড়িল, আমার ধালাব উপরে। কহিল, ভাত খাচ্চ যে বড় ? তুমি জান রাত্রে তোমার ভাত সহ্য হয় না--তুমি কি তোমার অসুখটা আমাকে সারাতে দেবে না ঠিক করেচ ? ভাত আমার ভালই সহ্য হইতেছিল, কিন্তু সেকথা বলিয়া লাভ নাই। রাজলক্ষ্মী তীক্ষকণ্ঠে ডাক দিল, মহারাজ! পাচক দ্বারের কাছে আসিতেই তাহাকে থালা দেখাইয়া ততোধিক তীব্রম্বরে কহিল, কি এ ? তোমাকে বোধ হয় একহাজার বার বলেচি ভাত বাবুকে কিছুতেই রাত্রে দেবে না--তোমাকে একমাসের মাইনে আমি জরিমান করলুম। অবশ্য টাকার দিক দিয়া জরিমালার কোন অর্থ নাই, তাহ সকল চাকরেই জানে, কিন্তু তিরস্কারের দিক দিয়া তাহার অর্থ আছে বৈ কি ! মহারাজ রাগ করিয়া কহিল, ঘি নেই, আমি কি করব ? নেই কেন তাই শুনি ? সে জবাব দিল, দু-তিনদিন জানিয়েচি আপনাকে ঘি ফুরিয়েচে, লোক পাঠান। আপনি না পাঠালে আমার দোষ কি? সংসার খরচের সাধারণ ঘি এইখানেই পাওয়া যাইত, কিন্তু আমার জন্য অসিত সাঁইথিয়ার নিকটবতী কি একটা গ্রাম হইতে। তাহা লোক পাঠাইয়া আনাইয়া লইতে হইত। কথাটা রাজলক্ষ্মীর DDDB BBBBBB BBBB BB BBS B BB B BB BBBBS DDBB BBBS BB BB B মহারাজ ? তা হবে পাঁচ-সাতদিন । এই পাঁচ-সাতদিন তাকে ভাত খাওয়াচ্চ রতনকে ডাকিয়া কহিল, আমিই যেন ভুলেছিলাম, কিন্তু তুই কি জানিয়ে দিতে পারতিস নে বাবা! এমনি করেই কি সবাই মিলে আমাকে জঙ্গ করতে হয়! রতন মনে মনে তাহার ঠাকুরানীর উপর খুশি ছিল না। দিবারান্ত্রি বাড়ি ছাড়িয়া অন্যত্র থাকায় এবং বিশেষ করিয়া আমার প্রতিউদাসীন্যে তাহার বিরক্তির একশেষ হইয়া ছিল, কীর অনুযোগের