পাতা:শ্রীমন্মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী.pdf/২৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

১৮৫৬ ] কাশী ও প্রয়াগ তীর্থ ২২৭ বয়স ৩৯ হিম পড়িতেছে। না জানি রাত্রিতে আপনার কতই কষ্ট হইয়া থাকিবে । আপনার এখানে আগমন হবে, তাহা পূৰ্ব্বে জানিলে সকলি প্রস্তুত করিয়া রাখিতাম।” তিনি অনেক শিষ্টাচার করিলেন, এবং সেই স্থান আমার বাসােপযােগ করিয়া দিয়া আমাকে বাধিত করিলেন। কাশীতে দশ দিন ছিলাম, বেশ আরামে ছিলাম। আমি একটা ডাক গাড়ী করিয়া ১৭ই অগ্রহায়ণ কাশী ছাড়িলাম। সঙ্গে যে সকল চাকর ছিল তাহাদিগকে বাড়ী ফিরাইয়া দিলাম ; কেবল দুই জন চাকরকে সেই গাড়ীর ছাদে বসাইয়া লইলাম। কিশােরীনাথ চাটুয্যে এবং কৃষ্ণনগরের এক জন গােয়ালা, এই দুই জনকে সঙ্গে লইলাম। তাহার পর দিন সন্ধ্যার সময়ে এলাহাবাদের পূর্বপারে পঁহুছিয়া, আমার গাড়ী একখানা পারের খেওয়ার নৌকাতে চড়াইয়া রাখিলাম। ভয়, পাছে ভােরে পারের নৌকা না পাই। আমি সেই নৌকার উপরে গাড়ীর মধ্যে রাত্রিতে নিদ্রাটা ভােগ করিলাম। তাহার পর দিন প্রাতঃকালে সেই পারের নৌকা শিথিল | ভাবে চলিয়া, বেলা দুই প্রহরের সময়ে ওপারে পঁহুছিল। দেখি যে, কেল্লার নীচে গঙ্গার চড়াতে অনেকগুলি ছােট ছােট নিশান উড়িতেছে। এই সকল ধ্বজা যজমানদিগের পিতৃলােকে সমুন্নত হইয়াছে বলিয়া পাণ্ডারা অর্থ সংগ্রহ করে। এই প্রয়াগ তীর্থ। এই প্রসিদ্ধ বেণী-ঘাট; এই ঘাটে লােকে মস্তক মুণ্ডন করিয়া শ্রাদ্ধ করে, তৰ্পণ করে, দান করে। আমার নৌকা পঁহুছিতে পঁহুছিতেই কতকগুলা পাণ্ডা আসিয়া তাহা আক্রমণ করিল, তাহাতে চড়িয়া বসিল। এক জন পাণ্ডা, “এখানে স্নান কর, মাথা, মুণ্ডন কর,” বলিয়া আমাকে টানাটানি করিতে লাগিল। আমি বলিলাম,