পাতা:শ্রীশ্রীচণ্ডী-মহেন্দ্র নাথ মিত্র.djvu/১৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চণ্ডী 8-לצ কিন্তু চণ্ডীর এই মহামায়া—মহাশক্তি-চিন্ময়ী। তিনি চৈতন্য রূপে সৰ্ব্ব-বিশ্ব ব্যাপিয়া আছেন। সৰ্ব্বভূতে তিনি চৈতন্যরূপে অধিষ্ঠিতা । সুতরাং সাংখ্যের প্রকৃতি ও বেদান্তের মায়া অপেক্ষ, এই শক্তিতে আরও কিছু আছে। কিন্তু সেই কিছু যে কি—তাহ চণ্ডীতে স্পষ্ট করিয়া উল্লিখিত হয় নাই। পরবর্তী শাক্ত-ধৰ্ম্মগ্রন্থে বুঝান হইয়াছে যে, এই আদ্যাশক্তি ও ব্রহ্ম একই। ত্রহ্মের সহিত এই শক্তির বা মায়ার কোন প্রভেদ নাই। যিনি ব্ৰহ্ম—তিনিই এই দেবী মহামায়া। বৈদান্তিক, মায়া-অংশ বাদ দিয়া, ব্ৰহ্মকে বুঝিতে যান। আর শাক্ত পণ্ডিত, মায়ার সহিত ব্ৰহ্মকে একত্রে দেখেন। শাক্তগণ ব্রহ্মের সহিত এই মায়ার কোন প্রভেদ দেখেন না। এই মহাশক্তি বা মায়া বাদ দিলে, ব্ৰহ্ম কিছুই নহেন—তিনি কেবল শব মাত্র। এই ব্ৰহ্মশক্তি হইতেই, স্বষ্টিতে ব্ৰহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের উৎপত্তি কল্পিত হইয়াছে। এই মূল-প্রকৃতিতে যে সত্ব রজ তম—তিন গুণের বিকাশ স্বষ্টিতে দেখা যার, সেই তিন গুণের অধিষ্ঠাতা, পুরুষই—ব্রহ্ম, বিষ্ণু ও শিব নামে পুরাণে অভিহিত। এস্থলে সে সকল প্রসঙ্গের প্রয়োজন নাই। এই রূপে আমরা দেখিতে পাই—চওঁীতে এই যে ‘শক্তিবাদ' প্রচারিত হইয়াছে, ইহা জড়বাদ নহে। কেন না, এই শক্তি চৈতন্যময়ী—অথবা এই শক্তিই একাংশে চৈতন্য-রূপে জগতে ব্যাপ্ত। আর সেইজন্য এই শক্তিবাদ-মায়াবাদ বা প্রকৃতিবাদ নহে। আধুনিক শাক্ত পণ্ডিতগণের শক্তিবাদ—অদ্বৈতবাদের রূপান্তর মাত্র। যাহা হউক, সে সকল দার্শনিক তত্ত্ব এস্থলে বুঝিবার প্রয়োজন নাই।