পাতা:শ্রীশ্রীচণ্ডী-মহেন্দ্র নাথ মিত্র.djvu/১৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মাহাত্ম্য । Ꮌb•☾ আমরা চওঁীর এই শক্তিবাদের প্রধান বিশেষত্ব উল্লেখ করিয়াছি। এই শক্তি চওঁী-মতে চিন্ময়ী। ব্রহ্ম সচ্চিদানাম —এই শক্তিও সচ্চিদানন্দময়ী। যাহাকে আমরা বুদ্ধের শক্তি-রূপে কল্পনা করি—তিনিই এই মহামায়া। শক্তি ও শক্তিমান মধ্যে, মূলতঃ কোন প্রভেদ নাই। তবে জ্ঞানে আমরা এই একত্ব ধারণা করিতে অসমর্থ বলিয়া, তাহার পার্থক্য ধারণ করিতে বাধ্য হই। চণ্ডীর শক্তিবাদের দ্বিতীয় বিশেষত্ব এই যে, এই শক্তিকে মাতৃ-ভাবে ধারণা ও উপাসনা করা হয়। চঞ্জীতেই এই মাতৃ-ভাবে আরাধনা প্রথম প্রবর্তন হয়। চণ্ডীতে উক্ত হইয়াছে—এই দেবী মাতৃ-রূপে সৰ্ব্বভূতে সংস্থিত। আর জগতে সকল নারীই এই জগন্মাতা মহাশক্তির অংশ। জগতে আমরা দুইরূপ শক্তির বিকাশ দেখিতে পাই—এক পিতৃশক্তি • আর এক ‘ মাতৃশক্তি । এই পিতৃ-শক্তিকে পুরুষ-রূপে ও মাতৃ-শক্তিকে স্ত্রী-রূপে ধারণ করা হয়। মহামায়া—এই আদি মাতৃ-শক্তি। এই মাতৃ-শক্তি বিশ্বব্ৰহ্মাণ্ডে সৰ্ব্বত্র ব্যাপিয়া আছে; ইহাই জগৎকে রক্ষা করিতেছে-- পোষণ করিতেছে। এই শক্তি-প্রভাবেই জীবজাতির রক্ষা ও বুদ্ধি হইতেছে। বলিয়াছি ত এই মহাশক্তি – এই আদ্যাশক্তিই,—মাতৃশক্তি-রূপে বিকাশিত। এই জন্য সেই সৰ্ব্ব-মঙ্গল-দায়িনী শক্তিময়ী জননীর সাধনাই চণ্ডীতে বিহিত হইয়াছে। এই মাতুভাবে আদি জগৎশক্তিকে ধারণা করিবার মূলে, অতি নিগূঢ় দার্শনিক তত্ত্ব নিহিত আছে। নিগুণ ব্রহ্ম জ্ঞানে ধারণা হয় না। আমাদের জ্ঞান—সীমাবদ্ধ। ইহা কেবল সঞ্জণ ব্ৰহ্ম ধারণ